অভিমান ,আবেগ ও আমরা I

অভিমান ও আবেগের দোলাচলে জীবনটা কখনো রঙীন ,কখনো বা সাদা-কালো ! কেন এমন হয় ? সেটার-ই সুলুক-সন্ধান এই Article .

অভিমান ও আবেগের দোলাচল
অভিমান ও আবেগের দোলাচল

মানুষের জীবনে অনুভূতিই আসল !

মানুষের জীবনে অনুভূতি যদি না থাকে, সেই মানুষটার আবেগটাও সেভাবে ধরা পড়ে না ।

আবেগের মধ্যে দিয়ে মানুষের যত অনুভূতি প্রকাশ ।

যে মানুষ অনুভূতিহীন , সে মানুষের জীবনটা মরুভূমির মতো শুষ্ক ।

শুষ্ক জীবনে মরুদ্যান আকাশ-কুসুম কল্পনা ।

যে মানুষ অভিমান বোঝেনা ,সেটার কারণ হলো তার মধ্যে আবেগের পরিমাণটাই কম ।

মনের একটি বিশেষ অবস্থার সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক।

কোনো কোন উদ্দীপকের প্রতি সাড়া দেওয়ার ফলে আমাদের দেহ মনে বিশেষ প্রতিক্রিয়া বা আলোড়নের সৃষ্টি হয়।

তার ফলে কান্না, হাসি, দুঃখ, রাগ ইত্যাদি নানা ধরনের অভিজ্ঞতা অনুভব করি আর প্রকাশ করি।

এগুলোই হচ্ছে আবেগ।

আবেগ কী?

মনের একটি বিশেষ অবস্থার সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক।

কোনো কোন উদ্দীপকের প্রতি সাড়া দেওয়ার ফলে আমাদের দেহ মনে বিশেষ প্রতিক্রিয়া বা আলোড়নের সৃষ্টি হয়।

তার ফলে কান্না, হাসি, দুঃখ, রাগ ইত্যাদি নানা ধরনের অভিজ্ঞতা অনুভব করি আর প্রকাশ করি। 

আবেগ:মনোবিদ্যার এক জটিল বিষয়
আবেগ : মনোবিদ্যার এক জটিল বিষয়

এগুলোই হচ্ছে আবেগ।

আবেগ ব্যাখ্যা করা বেশ একটা জটিল কাজ।

ক্ল্যাপারীড বলেছেন ‘আবেগের মনস্তত্ত্ব মনোবিদ্যার এক জটিল বিষয়’।

এর সংজ্ঞা প্রদানে মনোবিজ্ঞানীরা দারুনভাবে ভিন্ন মতানুসারী।

“ আবেগ অনুভুতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিন্তু আবেগের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শারীরিক বহিঃপ্রকাশ।

আবেগ মনের একটি বিচলিত অবস্থা।

একটা “stirred up state of agitation.” ল্যটিন ইমোভার (Emovere) থেকে ইংরেজি Emotion শব্দ এসেছে যার অর্থ হলো প্রক্ষুব্ধ বা উত্তেজিত হওয়া।

তাই বলা যায় —

আবেগ হলো মনের সেই স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশমান অবস্থা যা ব্যক্তিকে দৈহিক এবং মানসিক দিক থেকে বিচলিত করে।

যখন কোনো ব্যক্তি আবেগের দ্বারা প্রভাবিত হয় তখন সে দেহে মনে উত্তেজিত অবস্থায় থাকে তার স্বাভাবিক সাম্যাবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। 

ম্যাকযুগাল প্রবৃত্তিমূলক ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত মানসিক অবস্থাকে আবেগ বলেছেন। কেউ কোনো বিশেষ বস্তুর সঙ্গে যুক্ত অনুভুতিম লক অবস্থাকেই আবেগ বলেছেন।

এ প্রসঙ্গে আমরা ড্রেবার এর সংজ্ঞা বিবেচনা করতে পারি।

অনেকের মধ্যে অনুভূতি বা আবেগর বিষয়টা সেভাবে কাজ করে না।

এর জন্য মূলত দায়ী , তার শিক্ষা-দীক্ষা , পরিবেশ এবং সর্বোপরি জিনগত বৈশিষ্ট ।

আবেগ বিশ্লেষণ

আবেগ , অনুভুতির সামগ্রিক এবং বিচলিত অবস্থা।

খুশীতে উচ্ছল হওয়া, ভয় পাওয়া, বিস্ময়ে অবাক হওয়া, রাগে উত্তেজিত হওয়া সব আবেগেই মনের অনুভুতি আর তার দৈহিক প্রকাশ নিবিড় ভাবে জড়িত। রাগ, হিংসা, আনন্দ ইত্যাদিতে মনের যে বিশেষ অবস্থা বুঝায় তাই আবেগ। আবেগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অনুভূতি প্রবণ হওয়া বা উত্তেজিত হওয়া। 

আবেগ মূলক পরিস্থিতিকে বিশ্লেষণ করলে তিনটি দিক পাওয়া যায়।

আবেগের রঙ লাল
  • বাহ্যিক আচরণ
  • অভ্যন্তরীন প্রতিক্রিয়া
  • আবেগমূলক অনুভুতি বা সচেতনতা।

যেমন রাগ হলে হাত পা ছোঁড়া ।

আর অভ্যন্তরীন প্রতিক্রিয়া যেমন রক্তচলাচল সম্পর্কিত অথবা পেশী ঘটিত অথবা স্লায়ুঘটিত দৈহিক পরিবর্তন আবেগের ক্ষেত্রে অবশ্যই থাকবে।

আবেগ মূলক অনুভূতি বা সচেতনতা- সুখকর বা দুঃখকর বা যেমনই হোক-একটা অনুভুতি আবেগ জাগার সঙ্গে থাকবেই। 

আবেগ অনুভূতিজাত।

অনুভূতি যখন প্রবল হয়ে দৈহিক পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে প্রকাশিত হয়ে তখনই সেটা আবেগ। 

আনন্দ,বিরক্তি ইত্যাদি দ্বারা আমরা যে উত্তেজিত বা বিচলিত অবস্থাকে বুঝি সেটাকে আবেগ বলি।

আবেগের মানসিক দিক হলো অনুভূতি।

আর শারীরিক দিক হলো নানারকম শারীরিক পরিবর্তন।

আবেগের অভিজ্ঞতায় শারীরিক আর মানসিক প্রতিক্রিয়ার সংমিশ্রণ দেখা যায়। 

এই আবেগ মানবজীবনের এক প্রয়োজনীয় দিক।

আবেগ কাজের পেছনে শক্তি জোগায়, মানব আচরণের ধরন ও প্রকৃতি নিয়ন্ত্রন করে। 

বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে আবেগের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর শিক্ষাগ্রহণ, শিক্ষায় অগ্রগতি,তার মানসিক সংগঠন, তার ব্যক্তিত্ব-সব কিছু নির্ভর করে তার আবেগিক বিকাশের উপর।

সুষম আবেগিক বিকাশ সুষম ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলে।


যে সমস্ত মানুষ ভীষণ আবেগপ্রবণ অনুভূতিটা তাদের জীবনে একটু বেশি মাত্রায় কাজ করে ।

মানুষ মাত্রই আবেগপ্রবণ।

এটি মানুষের এমন একটি মানসিক অবস্থা, যা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই প্রকাশ পেয়ে থাকে।

বলা হয়ে থাকে, আবেগ হলো মানুষের অনুভূতির উৎস।

বিজ্ঞজনেরা বলেন, ‘মানুষের চেতনার যে অংশ অনুভূতি বা সংবেদনশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত, তাকে আবেগ বলা যায়।’

আবেগকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন আবার কেউ পারেন না।

দেখা গেছে, বেশি আবেগপ্রবণ মানুষ জীবনে অনেক ভুল করে বসেন।

কারণ এটি এমন একটি উপসর্গ, যা মানুষকে বিব্রত পরিস্থিতিতেও ফেলে দেয়।

বেশি আবেগপ্রবণ মানুষ অনেক সময়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।

ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের পার্থক্য করতে পারেন না।

মানুষ যখন প্রবল আবেগ দ্বারা তাড়িত হন, তখন তাঁদের বিবেক সঠিকভাবে কাজ করে না।

এ জন্যই তাঁরা ভুল করেন।

বিবেক ও আবেগের মধ্যে পার্থক্যটি হলো, বিবেক ভালো-মন্দ বিবেচনা করতে পারে ;

কী হবে না হবে—এসব যুক্তি মেনে নিয়েই বিবেক কাজ করে।

সেজন্য এই ধরনের মানুষের মধ্যে অভিমানটাও বেশি । যারা অভিমানী হয় তারা খুব একটা চেঁচামেচি বা ঝগড়াঝাঁটি পছন্দ করে না।

বিপরীত পক্ষের মানুষ থেকে তারা অভিমান ভাঙানোর প্রত্যাশা করে থাকে ।

অভিমান এক অদ্ভুত জিনিস !

অভিমান ভালোবাসার একটি মিষ্টি মধুর অঙ্গ যা শুধুমাত্র কাছের মানুষ এবং একান্ত আপনজনের উপরেই করা যায় ।

অভিমানে লুকিয়ে থাকে সুপ্ত ভালোবাসা, অনুযোগ, প্রাপ্তির আশা।

আর মাঝেমধ্যে কিছুটা অভিনয়।

অভিমানে রাগ থাকে না ; থাকে একরাশ প্রাণখোলা ভালোবাসা ; যে জানে সে ই এর মর্ম বোঝে।

  • অভিমান খুব মূল্যবান একটি
    জিনিস ।সবার ওপর তা করা যায় না ; যাকে মানুষ ভালোবাসে তার প্রতিই সে অভিমান করে, আর সেই ভালোবাসার মানুষটিই পারে তার সেই অভিমান ভাঙাতে।
  • নিরবতার ও আছে এক ভাষা যেটা খুব কাছের কেউই অনুধাবন করতে পারে আর যখন সে সেটা পারে না তখনই মনের মধ্যে তৈরি হয় পুঞ্জীভূত অভিমানের।

কেউ কেউ অভিমানের ভাষা বোঝে, আবার কেউ বুঝলেও এড়িয়ে যায় কিংবা বুঝতেই পারে না।

অভিমানের কারণ খুঁজে সেই অভিমান ভাঙ্গানোর ইচ্ছে ঠিক ক’জনের থাকে ?

অভিমান টাকে ইগোর কাছে বন্দী করে, কত মানুষ অবলীলায় তাদের সুস্থ -স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে ,এক অদ্ভুত,বেপরোয়া জীবন যাপন করে থাকে।

অভিমান ভাঙ্গানোর ক্ষমতা এবং ইচ্ছে দুটোই থাকা লাগে।

সম্পর্কে অভিমান ব্যাপারটা ঠিক তখনই আসে, যখন ভালোবাসা এবং সময় দেওয়াটা কমে যায়। বা সম্পর্কের ভিতরে তৃতীয় ব্যক্তির আগমন ঘটে ।বা মানুষের ব্যস্ততার সুযোগে কেউ ফায়দা তুলতে চেষ্টা করে ।

অভিমান জমতে জমতে একটা সময়ের পর তা অভিযোগে রূপ নেয়। যে অভিযোগের মেঘ সহজে কাটতে চায় না ।

অভিমানে মায়া বাড়ে, ভালোবাসা বাড়ে, টান বাড়ে।

তবে অভিমান না ভাঙ্গালে কেবলই দূরত্ব বাড়ে।

দূরত্ব বাড়তে বাড়তে একটা সময় এতটাই বিছিন্ন হয়ে যায় দু’জন।

যতটা দূরত্বে চলে গেলে আর কারো প্রতি হৃদয়ে বিন্দু মাত্র অনুভূতি থাকে না।

কাছের মানুষ পর হয়ে যায় ।

কাছের মানুষ পর হয়ে যায় ।
কাছের মানুষ পর হয়ে যায় ।

হারিয়ে যায় একে অপরের প্রতি হৃদয়ের সমস্ত টান ।

সময় বদলায়, সেই সাথে অভিমানের রূপটাও পাল্টে যায়। যদি দুজন মানুষ-ই চায় ! নচেৎ নয় !

অভিমান ভালোবাসা বাড়ায় ঠিক ই কিন্তু সেই অভিমান পুঞ্জীভূত হতে হতে কখন যে একটি সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটায় তা কেউ জানে না।

যে মানুষ হৃদয়ে অভিমান পুষে রাখে, সেই তো নীরবে যন্ত্রণা সয়ে যায়। বিপরীতের মানুযটাও যে খুব ভালো থাকে তা কিন্তু নয় !

ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন
ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন

এই ধরনের Article আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন । Articleটি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-এর জন্য আমার facebookpage,

আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং

আমার দুইটি youtube channel 1. Learn Digitel Earn Momey ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

নমস্কার।

Leave a Comment