জীবনে পরিবর্তন বা Success চাইলে, জীবন ধারার ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন আনতেই হবে I গতানুগতিক পদ্ধতিতে যা করছিলাম-সেগুলো করে যখন Success পাওয়া গেল না, ধরে নিতে হবে, Success পাওয়ার জন্য সেই পদ্ধতি সঠিক ছিল না। সেজন্য জীবনের উন্নতির গ্রাফে পরিবর্তনের জন্য আমাদের নিজেদেরকে পরিবর্তিত হতেই হবে I এখানে রইল সেই পথেরই সন্ধান I

২০২৪ শেষ হতে চলেছে I আসছে নতুন বছর ২০২৫ I আমরা নিশ্চয়ই চাইবো ২০২৪ এ আমরা যে সমস্ত ভুল করেছি, যার জন্য আমাদের Success আটকে গেছে বা থমকে গেছে, সেই থমকে যাওয়া Success গুলো আমরা নিশ্চয়ই ২০২৫ এ miss করতে চাইছি না ।
যদি সত্যি সত্যিই আমরা ২০২৪ এর না পাওয়া Success গুলো ২০২৫ এ পেতে চায়, তাহলে ২০২৪ -এ যে কাজগুলো আমরা করিনি। সেই ধরনের কিছু কাজই আমাদের করতে হবে। যে ভুলগুলো আমরা করেছিলাম সেগুলো শুধরে নিতে হবে I প্রয়োজনে অনেক পুরনো অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে I, প্রয়োজনে বেশ কিছু নতুন অভ্যাস রপ্ত করতে হবে I যত কষ্টেরই হোক না কেন ! তাহলেই মিলবে Success বা সফলতা I
চলুন দেখা যাক ২০২৫-এ আমরা কি কি করবো আর কি কি করবো না !!
- নিজেকে পরিবর্তনের মানসিকতা I
- কিছু খারাপ অভ্যাস পরিত্যাগ I
- পজিটিভ কিছু উদ্যোগ ।
- নতুন কোনো Skill অর্জন করা ।
- অকারণে মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশি সময় নষ্ট না করা ।
- প্রতিদিন বই পড়া ।
- কিছু বাজে অভ্যাস বা কু অভ্যাসের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করা I
- পজেটিভ চিন্তাভাবনা ও পজিটিভ বাতাবরণ ।
- ছোট স্বপ্ন পূরণের আকুতি ।
- নিজেই নিজের প্রতিযোগী I
- সময়কে সঠিক কাজে ব্যবহার I
- ছোট ছোট সাফল্যকে সম্মান।

১.নিজেকে পরিবর্তনের মানসিকতা
একদম প্রথমে আমাদের মধ্যে সেই মানসিকতাকে গ্রহণ করতে হবে, সেটা হল–নিজেকে পরিবর্তন করার বা পরিবর্তিত হবার I এই মানসিকতা একবার নিজের মধ্যে আত্মস্থ করে নিতে পারলে ৫০% কাজ কিন্তু প্রথমেই হয়ে গেল I শুনতে সহজ মনে হলেও, এটা কিন্তু খুবই কঠিন একটা কাজ I আমরা নিজেকে পরিবর্তন করতে পারি না Self-Ego-র জন্য I Ego আমাদেরকে একেবারে শেষ করে দেয় I সেজন্য Egoকে প্রথমে আমাদের কন্ট্রোলে আনতে হবে I
Ego কন্ট্রোলে আনতে হলে যেটা প্রয়োজন সেটা হল – Proper Knowledge, একমাত্র Proper Knowledge-ই পারে আমাদের Bad Ego গুলোকে দূরে রেখে Good Ego কে কাজে লাগাতে I
যদি আমরা Egoকে maintain করতে পারি– তাহলে খুব সহজেই আমাদের মধ্যে তৈরি হবে I যা আমাদেরকে সফলতার কাছে পৌঁছে দেবে I
Success পাবার জন্য আমাদের মধ্যে সুন্দর বা ভালো ভালো Habit বা অভ্যাস তৈরি করতে হবে I আজকের মেনে চলা নতুন ভালো অভ্যাস আমাদের ভবিষ্যৎকে উন্নত ও সফলতা পূর্ণ করে তোলে I
প্রতিদিন আমরা বুঝে বা না বুঝে অনেক কাজ করি, অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করি I এই ছোট ছোট করা কাজগুলোই একদিন আমাদের Habit বা অভ্যাসে পরিণত হয় I
এই প্রতিদিনের করা খামখেয়ালী অভ্যাস গুলোকে যদি আমরা একটা Scientific Way-তে Application করতে পারি ,তাহলে অনেক অধরা সাফল্য আমাদের হস্তগত হবে I
একটা কথা বলা হয় , “মানুষ অভ্যাসের দাস” I অর্থাৎ যে অভ্যাসে মানুষ অভ্যস্ত তার বাইরে গিয়ে কোন নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই কঠিন I
প্রথম প্রথম মনে হবে
এটা আমার পক্ষে অসম্ভব !
এটা কিছুতেই সম্ভব নয় I
অন্য কেউ পারলেও আমি পারবো না ইত্যাদি ইত্যাদি ।
একদম শুরুতে ৯০% মানুষেরই এটা মনে হয় I
কিন্তু আস্তে আস্তে নতুন অভ্যাস শুরু করলে ,একদিন সেটা সহজ হয়ে যাবে I আসলে কোন বড় পরিবর্তন একদিনে সম্ভব না। একটু একটু করে একদিন সেটা বড় আকার ধারণ করে I সেজন্য আমাদের ছোট ছোট উদ্যম বা উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে I
পজিটিভ কিছু উদ্যোগ :
- অকারণে মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশি সময় নষ্ট না করা,
- অকারণে বেশি রাত না জাগা,
- খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা,
- প্রতিদিন সকালে ব্যায়াম করা,
- প্রতিদিন বই পড়া,
- প্রতিদিন গাছে জল দেওয়া,
- কোন পশুপাখিকে খাবার দেওয়া,
- ফল বা ফুলের গাছ লাগানো,
- প্রতিদিন অন্তত একজন মানুষকে সহযোগিতা করা
- নতুন কোনো Skill অর্জন করা
এইসব Good Habit আমাদের positive Mental Attitude কে বাড়িয়ে দেয় I আর এই ছোট ছোট অভ্যাস একদিন আমাদেরকে সফলতার King বানিয়ে দেয় I
প্রথম প্রথম এগুলি করতে একটু কঠিন মনে হলেও, ক্রমাগত যদি আমরা এক/দুই সপ্তাহ বা তার বেশিদিন কোন কাজ করতে পারি তাহলে সেটা অভ্যাসে পরিণত হয় I সেজন্য ভালো না লাগলেও, কঠিন মনে হলেও, আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতেই হবে ।
যারা সেটা পারবে না– তাদের কপালে জুটবে অ-সফলতা !
আর যারা ধৈর্য ধরে, মন- প্রাণ দিয়ে চেষ্টা চালাবে, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে ই I নতুন নতুন অভ্যাস আমাদের মনের শক্তি অর্থাৎ will power যেমন বাড়িয়ে দেয় তেমনি বাড়িয়ে দেয় দক্ষতা I
সেজন্য আমাদের উচিত প্রতিদিন কোন না কোন ভালো অভ্যাস রপ্ত করা I মনে রাখতে হবে ছোট ছোট ভালো অভ্যাসই হলো বড় বড় সাফল্যের গোড়ার কথা I
দ্বিতীয় নম্বরে আসবে, ভালো অভ্যাসকে রপ্ত করার জন্য কিছু খারাপ অভ্যাসের পরিত্যাগ ।

২. কিছু বাজে অভ্যাস বা কু অভ্যাসের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করা I
আমরা আমাদের জীবনে চলার পথে বেশ কিছু অভ্যাসকে রপ্ত করি I যেগুলোর মধ্যে ভালো ও খারাপ মিলেমিশে আছে I ভালো অভ্যাস গুলো আমাদের উন্নতিতে সাহায্য করলেও কিছু খারাপ অভ্যাস আমাদেরকে সাফল্য থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায় I সেজন্য প্রথমে আমাদের খারাপ অভ্যাসগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে I তারপর ধীরে ধীরে সেগুলো পরিত্যাগ করতে হবে I
এই খারাপ অভ্যাসগুলো এতই শক্তিশালী ভাবে আমাদের শরীরে ,মনে ,রক্তে মিশে যায়, সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসা খুবই কঠিন। কিন্তু মানুষ চাইলে কি-না করতে পারে !! আমরা যদি সত্যিই আমাদেরকে বা আমাদের উন্নতি কে হাতের মুঠোতে পেতে চায় ,তাহলে খারাপ অভ্যাস, বা খারাপ সঙ্গ যতই আমাদেরকে জড়িয়ে থাকুক না কেন, সেগুলো থেকে আমাদেরকে বেরোতেই হবে ।
কিছু খারাপ অভ্যাস,
যেমন,
- অকারণে মোবাইল ঘাটা বন্ধ করতে হবে। আমরা যে কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা রাতের পর রাত মোবাইলে আটকে আছি I আমাদের নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে।
এই যে এতক্ষণ সময় আমি মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়াকে দিচ্ছি ,সেখান থেকে কি কোন ইনকাম আসছে ? বা সেখান থেকে কি ভবিষ্যতে কোন income আসার সম্ভাবনা আছে ?
আমি যেগুলো দেখছি সেগুলো থেকে কি শিক্ষনীয় কিছু আছে ?
আমার Skill Development হয় এমন কিছু কি আমি শিখছি মোবাইল থেকে ?
এসবের উত্তর যদি না হয়, তাহলে আমাদের উচিত মোবাইল ঘাটা এখনি বন্ধ করা ।
- নিম্ন রুচি ও নেগেটিভ চিন্তাভাবনার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের সাহচর্য পরিহার করা I যারা কোনদিনই আপনার কোন উপকারে আসবে না I এরা সব সময়ই চেষ্টা করে যাবে যাতে আপনি জীবনে এগোতে না পারেন I সুযোগ পেলে এরা আপনার ক্ষতিই করবে । এই ধরনের ক্ষতিকর মানুষগুলো, এমন একটা ভাব দেখাবে যেন এরা আপনার কত মঙ্গল চায় । কত ভালো চায় । আসলে এরা মুখোশধারী এক একটা শয়তান । সুযোগের সন্ধানে থাকে কখন আপনার ক্ষতি করতে পারবে । আপনি যত পিছিয়ে পড়বেন, যত ডুবে যাবেন। তাতেই তাদের আসল আনন্দ !
তার পরিবর্তে – সফল ও মার্জিত রুচির মানুষজনের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারলে বা তাদের সান্নিধ্যে থাকতে পারলে– খুবই উপকার হবে I সফল ও গুণী মানুষকে সম্মান করা শিখতে পারলে সফলতা বা Success শুধু সময়ের অপেক্ষা I কারণ সফল মানুষ সবসময়ই এমন কিছু উপদেশ বা পরামর্শ আপনাকে দেবেন যেগুলো আপনাকে Success পেতে সাহায্য করবে I এবং আমরা যদি কখনো কোন ভুল বা খারাপ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ি, এই মানুষগুলো আপ্রাণ চেষ্টা করবে, যাতে আপনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন ।

৩. পজেটিভ চিন্তাভাবনা ও পজিটিভ বাতাবরণ
আমরা বেশিরভাগ সময়েই অসফল হই ভুল চিন্তাভাবনার জন্য I যে সমস্ত সমস্যা বা বাধা-বিঘ্ন আমাদের সামনে আসে, সেগুলো আমরা অতিক্রম করতে পারি না, তার জন্যও দায়ী ভুল চিন্তাভাবনা I
আমাদের চারপাশের মানুষজন ও চিন্তাভাবনা যেমন হবে– আমাদের জীবনেও তেমনি হবে
আমাদের সামনে যে সমস্ত সমস্যা বা বাঁধা আসবে সেগুলো Overcome করার জন্য আমরা নেগেটিভ চিন্তাভাবনার প্রয়োগ না করে পজেটিভ ধ্যান ধারণার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সূত্র খুঁজলে জয়ের সম্ভাবনা প্রবল হবে I
আমাদের ব্যর্থতার মূলে থাকে নেগেটিভ চিন্তাভাবনা ও তার প্রয়োগ ।
যারা ভাবে —
এই কাজটি তার দ্বারা সম্ভব নয় !
সত্যিই সেই কাজে সে 100% অসফল হবেই !
আর যে মানুষজন ভাবে এই কাজটি সে পারবেই। তাদের মধ্যে ৭৫% মানুষই সফল হয়।
বাকি ২৫% মানুষ তাদের ভুল-ভ্রান্তি শুধরে নিয়ে, আবার চেষ্টা করলে সফলতা পায় অর্থাৎ Self-confidence বা আত্মবিশ্বাস হল আমাদের সফলতার জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটা স্তম্ভ ।
পজেটিভ চিন্তাভাবনা আমাদের Willpowerকে Force করে সফলতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে I সে আমাদের Inform করতে থাকে , তুমি পারবে,তুমিই পারবে । You can do it. You must do it .
এই সময় আমাদের সামনে কোন সমস্যা এলে– ধুলোর মতো উড়ে যায়। আমরা Success লাভ করি ।
পজিটিভ চিন্তাভাবনা আমাদের সমস্যার মধ্যে সাফল্যের সম্ভাবনা খুঁজে বার করতে সাহায্য করে I
Success পেলে আমাদের মেন্টাল পাওয়ার বৃদ্ধি পায় I এতে সমস্যার সমাধান যেমন হয়, তেমনি আমাদের মানসিক অবস্থা ও অতি আনন্দময় ও খুশি সমৃদ্ধ হয় I

৪. ছোট স্বপ্ন পূরণের আকুতি
আমরা বেশিরভাগ সময়ে Fail করি । তার কারণ, আমরা কি চাই , সেটাই আমরা ঠিকঠাক জানিনা I আমাদের লক্ষ্য যদি স্থির বা ঠিকঠাক না থাকে তাহলে সেটা কখনোই অর্জন করা সম্ভব না I সেজন্য আমরা যে জন্য কোন কাজ করব সেটা পরিষ্কার আমাদের সামনে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে কোন সন্দেহ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকলে একেবারেই চলবে না I
Success-এর জন্য যা যা করা দরকার, সেগুলো– আমরা যে কোন মূল্যেই পালন করব I এই কঠিন কাজগুলোর মধ্যে একটি হল বই পড়া। এটা করতেই হবে I ভালো না লাগলেও করতে হবে I ২৪ ঘন্টায় দিনরাত– সেজন্য একদম প্রথম অবস্থায় অন্তত ২৪ মিনিট বই পড়া শুরু করতে হবে I যে সমস্ত বই আমাদের উন্নতির সহায়ক, কেবলমাত্র সেই ধরনের বই পড়ার চেষ্টা করতে হবে I
আমরা বেশিরভাগ সময়ে ঠিকঠাক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারি না। আমাদের চারপাশে বহু মানুষ আছেন ,যারা আমাদের এই ছোট ছোট Goal সেট করতে সাহায্য করতে পারেন I
আমাদের Goal সব সময় হওয়া উচিত খুবই ছোট ছোট এবং বাস্তবসম্মত I যা আমাদের পক্ষে সহজে পূরণ করা সম্ভবI
আমরা অনেক সময় না বুঝে একেবারে প্রথমেই অনেক বড় বড় Goal যেমন– বাড়ি ,গাড়ি ইত্যাদি টার্গেট করে বসি । ফলে ফেল এবং হতাশা এসে পড়ে আমাদের উদ্যমকে একেবারে নিঃশেষ করে দেয় I সেজন্য যেমন Goal আমার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব সেরকম Goal বা Terget সেট করতে হবে ।
শুধুমাত্র Goal set করলেই হবে না, সেগুলোকে পূরণের জন্য সময়ের লক্ষ্যমাত্রাও স্থির করতে হবে I এবং ছোট ছোট পদক্ষেপে আস্তে আস্তে এগোতে হবে I
ছোট ছোট লক্ষ্য অর্জিত হলে মনোবল বাড়বে এবং পরবর্তী Goal অর্জনের জন্য মনের জোর, এগিয়ে চলার প্রত্যাশাও ক্রমান্বয়ে বাড়বে I
সেজন্য Goal অর্জনের জন্য আমরা যে পদক্ষেপ স্থির করেছিলাম, সেগুলো সঠিক মত হচ্ছে কিনা সেই বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। এতে আমরা আমাদের উন্নতির এবং অবনতিকে খুঁজে নিতে পারব I আর আমরা যদি আমাদের দোষ -ত্রুটি, ভুল-ভ্রান্তি গুলো নিজেরাই ধরতে পারি তাহলে সেগুলো সমাধানও সহজ হবে I
এতে আমাদের মধ্যে যে পরিবর্তনগুলো হবে সেগুলো আমরা নিজেরাই বুঝতে পারব I

৫. নিজেই নিজের প্রতিযোগী
অন্য কেউ নয়, নিজেকেই নিজের প্রতিযোগী বানাতে হবে I লড়াই হবে নিজের সঙ্গে নিজের । আমরা যখন Comfort Zone-এ চলে যায়,তখন একই রকম কাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি । তখন জীবনের অগ্রগতি ও Success আটকে যায় I
Comfort Zone থেকে বেরিয়ে, একটা প্রচন্ড উদ্যমী কর্ম প্রচেষ্টার মধ্যে ঝাঁপাতে হবে, যা আমাদের সাফল্যকে নিশ্চিত করবে I নতুনভাবে ,নতুন উদ্যোমে কাজ করতে প্রথমে ভালো না ও লাগতে পারে I
ভয় লাগতে পারে ।
সন্দেহ জাগতে পারে I
এসব কে দূরে সরিয়ে আমাদেরকে চ্যালেঞ্জ নিতেই হবে ।
নতুন challenge-ই আমাদের নতুন Success এনে দেবে । নতুন পৃথিবীর সন্ধান দেবে। নতুন পৃথিবী আমাদের নতুন জীবন দেবে ।তাহলে ভয় কিসের, নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ?
আমরা যখন নিজেকে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে অভ্যস্ত করে ফেলি, তখন আমাদের জয় পাওয়ার মানসিক শক্তি বৃদ্ধি হয় I মানসিক শক্তি মানুষকে কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে দিতে পারে সেটা কল্পনার অতীত ।
আসলে কঠিন পরিশ্রম ও সাফল্য পাওয়ার জেদ- এই দুটি পদক্ষেপের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সত্যি কারের সাফল্যের বীজ I যেটা অঙ্করিত হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।
মানুষকে নতুন নতুন Challenge নিতে যা সব থেকে বেশি বাঁধার সৃষ্টি করে সেটা হল Internal Fear .
এই internal fear মানুষকে কমফোর্ট জোনে থাকতে বাধ্য করে I এই fear Fectorগুলোকে যদি আমরা ঝেড়ে না ফেলতে পারি ,তাহলে জীবনে উন্নতির স্বপ্ন না দেখাই ভালো !!
আপনি যখন এই আর্টিকেলটি এতদূর পড়েছেন, তার অর্থ আপনি Fear ফ্যাক্টরকে চ্যালেঞ্জ করতে আগ্রহী ।আমার বিশ্বাস আপনি সেটি অবশ্যই পারবেন I
সেজন্য সবসময় এটা মনে ভাবা অভ্যাস করুন
আমি পারবো,
আমি অবশ্যই পারবো
I Can Do It
I must do it
উন্নতি বা সাফল্যের জন্য আমাদের এই পরিবর্তনগুলো হবে ছোট্ট ছোট্ট I
এই ছোট্ট ছোট্ট চ্যালেঞ্জগুলোই আমাদেরকে সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে ।
ভয়কে পেছনে ফেলতে পারলেই ,সাফল্য বা Success এগিয়ে আসবে সামনে I একদম হাতের নাগালে I তারপর হাতের মুঠোয় I যদি আমরা চাই I
আমাদের মধ্যে কি পরিমান প্রোটেনশিয়াল পাওয়ার আছে , সেটা -আমরা নিজেরাই জানি জানিনা I যেদিন সেগুলোকে ব্যবহার করে Success পেতে থাকবো, তখন আমরা নিজেরাই অবাক হয়ে যাব নিজেদের ক্ষমতা দেখে ।
একটু একটু Success পেতে থাকলে আমাদের মধ্যে জন্ম নেবে Attitude I অ্যাটিটিউড আমাদেরকে আরো বড় বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত করবে । এই বিষয়ে আরো জানতে হলে এখানে ক্লিক করতে পারেন I

৬. সময়কে সঠিক কাজে ব্যবহার
সময়কে যদি আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারি- তাহলে সময় আমাদের সাফল্যকে অনেক দূরে সরিয়ে দেবে।
২০২৫ কে নতুন ভাবে উপভোগ করতে হবে।
আমাদের জীবন ও কার্যক্রমকে একটা নিয়মের বেড়াজালে ঘিরে ফেলতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন Proper time management । Time management এমন একটা বিষয় যা আমাদের ছন্নছাড়া জীবনকে নতুন ছন্দে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম I
মনে রাখতে হবে ,সময় সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ I এটাকে অবহেলা করে, নষ্ট করলে পরে আমাদের পস্তাতে হবে I সেজন্য জীবন ধারণের গতিপ্রকৃতি সময়ের অনুশাসনে বেঁধে নিতে হবে I আর যদি আমরা সময়কে লাগাম দিয়ে নিজেদের বশে আনতে পারি, একদিন অফুরন্ত সাফল্য আমাদের জীবনে বিরাজ করবে। সেজন্যে বেশ কিছু কাজ সময়ের অনুশাসনে আবদ্ধ করতে হবে।
যেমন
সঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠা,
আমরা এটা তো নিশ্চয়ই জানি, একজন সুস্থ মানুষের ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানোর প্রয়োজন I তার বেশি বা কম কখনোই নয় I
সেজন্য
হাবিজাবি কাজে রাত না জেগে সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়তে হবে এবং যথাসম্ভব ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে I ক্লান্তি- হীন সুস্থ শরীর, আমাদের নতুন কাজে নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে । এই বিষয়ে আরো জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন I

৭. ছোট ছোট সাফল্যকে সম্মান।
আমরা বড় বড় Success-এর পিছনে ছুটতে গিয়ে ছোট ছোট সাফল্যকে Ignore করে ফেলি I এটা আমাদের জীবনের বড় একটা ভুল I এটা না করে ছোট ছোট সাফল্যকে আমাদের Enjoy করা শিখতে হবে I আমাদের মনে রাখা উচিত, এই ছোট ছোট সাফল্য পাবার জন্য আমাদের কত কষ্ট করতে হয়েছে, নিজেকে কতটা পরিবর্তন করতে হয়েছে, কতটা অপমান বা নেগেটিভ শুনতে হয়েছে — তারপরে মিলেছে ছোট্ট ছোট্ট একটু সাফল্য I অন্য কেউ না জানলেও আপনি নিজে জানেন এই সাফল্যের গুরুত্ব I
যখন আমরা এই ছোট্ট ছোট্ট সাফল্যকে রেসপেক্ট করতে শিখে যাব, তখন বুঝতে হবে আমাদের Internal Development সম্পূর্ণ হয়েছে I
সেই ইন্টারনেট ডেভেলপমেন্ট বড় বড় সাফল্যকে আমাদের হস্তগত করবে সহজে I বড় বড় স্বপ্নের হাতছানি তখনই আমাদেরকে পূর্ণতা পেতে সাহায্য করবে যখন, ছোট ছোট সাফল্যের জন্য আমাদের মধ্যে Self-enjoyment বা আত্মপ্রসাদ লাভের ক্ষমতা জন্ম নেবে I
সেজন্য প্রাপ্ত সাফল্যের জন্য নিজেকে ধন্যবাদ জানানো শিখতে হবে I ধন্যবাদ জানাতে হবে ঈশ্বর কে-ও I কারণ তিনি আমাদের ভিতরে আত্মশক্তিকে জাগিয়ে রাখার বা জাগিয়ে তোলার ক্ষমতা ,শক্তি বা সাহস যুগিয়েছেন I
একমাত্র ঈশ্বরের আশীর্বাদ এবং নিজের অমানুষিক পরিশ্রম-ই পারে অসম্ভবকে সম্ভব করতে I আমরা যদি মনেপ্রাণে সাফল্যের জন্য সঠিকভাবে আত্মদান করি– ঈশ্বর তখন হয়ে ওঠেন কল্পতরু, দুহাত ভরে দেন সন্তান কে I
সাফল্যের জন্য কোন চালাকি বা শর্টকাট নয় — সততা ও মানসিক শক্তি প্রথম ও প্রধান অস্ত্র ।

