আসক্তি বা Addiction সেটা যেমনই হোক না কেন, সেটা কিন্তু দূর করা সম্ভব। সেজন্য আসক্তি দূর করার জন্য আমাদের সেই গোপন কারণগুলোকে অবশ্যই জানতে হবে । যার জন্য সেই মানুষটি বা শিশুটির আসক্তি ঘটেছে । অর্থাৎ আসক্তি ঘটার কারণগুলো আমাদের সবার প্রথমে খুঁজে বার করতে হবে । আমরা যদি এই আসক্তির কারণগুলোকে খুঁজে বার করতে পারি ,তাহলে কিন্তু Addiction থেকে বাচ্চাকে বা ওই মানুষটিকে বের করে আনা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা । কিন্তু অসম্ভব না ।এবং এই আসক্তি চিরতরে দূর করে ফেলা ও সম্ভব ।চলুন দেখা যাক কিভাবে সেই কাজটা আমরা করতে পারি…..

আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় ( How to Break Addiction in Children )
শিশুর আসক্তি দূর করতে হলে মস্তিষ্কের নিউরো প্লাস্টিসিটি ( Neuroplasticity ) কাজে লাগাতে হবে I
এর মানে হলো শিশুর মস্তিষ্ককে নতুনভাবে প্রোগ্রাম করা !
01. Neuro Plasticity :
এটা কি ?
Neuro মানে Neurone related.
Neurones কি করে ?
Neurones Informations Send করে বা
Informations Spred করে আমাদের শরীরের মধ্যে এবং ব্রেনের মধ্যে ।
Neurones অভ্যাস গঠনে সাহায্য করে ।
Learning-এ সাহায্য করে ।
Potentiality Represent ( প্রোটেনশিয়ালিটি রিপ্রেজেন্ট ) করে ।
কেবলমাত্র বাচ্চারা নয়, আমরা যখন নতুন কিছু শিখবো,
তখন
এই নিউরনগুলো একটা নতুন Path বা Way গঠন করে।
সেই নতুন Pathway’s টি কে বলা হয় Neuro Plasticity .
Neurones Informations send করে বা spred করে আমাদের শরীর বা ব্রেনের মধ্যে।
চোখ দিয়ে,
কান দিয়ে,
মুখ দিয়ে হোক,
Skin দিয়ে হোক,
Feelings দিয়ে হোক।
অর্থাৎ
আমাদের চোখ, কান, নাক,মুখ,স্কিন বা ফিলিংস্ দিয়ে সংগ্রহ করা ইনফরমেশনগুলো
Neurones আমাদের Brain-এ Send করে ও spred করে ।
আমরা যখন নতুন কিছু শিখি বা নতুন কিছু বারবার করি ,
তখন নিউরোন একটা Pathways তৈরি করে।
যাকে বলে Neuro Plasticity .
এই Neuro Plasticity একটি নতুন অভ্যাস গঠনে সাহায্য করে।
অর্থাৎ একটা বাচ্চা যখন প্রতিদিন এক ঘন্টা / দুই ঘন্টা / তিন ঘন্টা মোবাইল দেখছে
ফলে একটা নতুন Pathways Creat হচ্ছে।
মোবাইল দেখার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে।
বা মোবাইল দেখাটা একটা অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে ।
এই মোবাইল দেখার অভ্যাসটা জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ।
এটাই Neuro Plasticity .

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি :
Dopamine Hormone Realease:
Dopamine Hormone হল Happyness Hormone .
যখন কোন ব্যক্তি ,কোন কারনে Happy হয় ।তখন সেই ব্যক্তির ভিতরে ডোপামিন হরমোন রিলিজ হয়।
কোন বাচ্চা যদি একবার মোবাইল দেখার কারণে হ্যাপি হয়ে যায়,
সে এই Happynessটা বারবার পাওয়ার চেষ্টা করে ।
যতবার সে এই Happynessটা পাচ্ছে ততবার তার Dopamine Hormone Realease হচ্ছে।
সে যখন বাবা-মায়ের কাছে যাচ্ছে তখন তার Dopamine Hormone Realease হচ্ছে না ।
কারণ ,সেখান থেকে সে Nelect হচ্ছে ।
তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে !
তার কথা শোনা হচ্ছে না !
তার সঙ্গে Quality Time spend করা হচ্ছে না !
ফলে,
সেখান থেকে Dopamine Hormone Realease হচ্ছে না ।
যদি সেখানে Dopamine Hormone Realease হতো, তাহলে সে সেখানেই থাকতে চাইতো।
কিন্তু ,সেটা তো হচ্ছে না !
Happyness Feel হচ্ছে মোবাইল দেখার ক্ষেত্রে,
সেজন্য সেখানে Dopamine Hormone Realease হচ্ছে।
যখন সমস্ত দিক থেকে Negative Impect আসছে ,তখন তার সাহারা হচ্ছে একমাত্র মোবাইল।
মোবাইলটা তাকে Dopamine Hormone Realease-এ সাহায্য করছে।
সেজন্য, সে Dopamine Hormone Realease -এর এক্সপেরিয়েন্সটা বা ফিলিংসটা বারবার পেতে চাইছে।
তখন সেটি Addiction হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
Dopamine Hormone Realease হলে ভিতরে Happyness feel হবে।
এই যে বিভিন্ন ব্যক্তি Smoking-এ অভ্যস্ত রয়েছে।
অ্যালকোহলে অভ্যস্ত রয়েছে।
কেন আসক্ত রয়েছে ?
কেননা সেখানে Dopamine Hormone Realease হয়।
মানুষ বিভিন্ন ধরণের Streace
বিভিন্ন ধরণের Anxiety
থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে বেড়ায়। কারণ এই সমস্ত জায়গাতে মানুষটি Happiness খুঁজে পায় না ।
এই সমস্ত জায়গাতে যদি সেই মানুষটি Happiness খুঁজে পেতেন তাহলে হয়তো তিনি
Smoking
Alcohole
Drug-এ Addicted হতেন না ।
কোনরকম অসুবিধা হচ্ছে বলেই, কোন ব্যক্তি বা বাচ্চা Addicted হয়ে যাচ্ছে ।
ধরা যাক ,
কোনো বিষয়ে Happy হবার জন্য Dopamine Hormone Realease হলো,
ভালো লাগলো।
তখন তার মনে হবে ,আবার একবার দেখি !
আবার Dopamine Hormone Realease হলো’
ভালো লাগলো !
এইভাবে বারবার ভালো লাগাটা অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে।
এই অভ্যাসটাও লাইভের অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
Neuro Plasticity ও Dopamine Hormone Realease এই বিষয় দুটি, একটা অপরটির সঙ্গে Connected.
আমাদের মনে রাখতে হবে,
কোন অভ্যাসের কারণে কিন্তু Dopamine Hormone Realease হয় না
Dopamine Hormone Realease হয় হ্যাপিনেস থেকে।
কোন কাজ করার ফলে আমাদের মনে যে Happiness সৃষ্টি হয় তার ফলে Dopamine Hormone Realease হয়।
ধরা যাক,
আমরা কোন একটি নির্দিষ্ট দোকানে ,একটি নির্দিষ্ট মিষ্টি খেয়েছি,
বা কোন একটা দোকানের ফুচকা খেয়েছি।
ফুচকা বা মিষ্টি খেলেই Neuro Plasticity হয় না !
এটা তো আমাদের অভ্যাস নয় !
কিন্তু,
মিষ্টি খেয়ে বা ফুচকা খেয়ে ভালো লেগেছে,
সেজন্য
পরের রবিবার আবার যাবো এবং আবারও মিষ্টি বা ফুচকা খাব ।
Plan অনুযায়ী আবার সেখানে গেলাম এবং মিষ্টি বা ফুচকা খেলাম ।
খাবার পরে আমার ভালো লাগলো ।
সেটা অভ্যাসে পরিণত হলো ।
যেই অভ্যাসে পরিণত হলো— তখনই সেটা Neuro Plasticity হয়ে গেল ।

1.ডোপামিন ডিটক্স (Dopamine Detox)
- শিশুরা যেন প্রতিদিন কিছু সময় কোন Screen ছাড়া কাটায়
- প্রাকৃতিক উপায়ে আনন্দ পাওয়ার জন্য খেলাধুলা, গল্প বলা ছবি আঁকা ইত্যাদিতে ব্যস্ত রাখতে হবে I
- শিশুর খাবার থেকে অতিরিক্ত চিনি ও ফাস্টফুড কমিয়ে দিতে হবে
মস্তিষ্কের প্রভাবিত অংশ :Ventral Tegmental Area (VTA), Nucleus Accumbens
2.শেখার প্রতি আকর্ষণ বাড়ানো (Enhancing Learning Interest )
- পড়াশোনাকে গেমের মত উপস্থাপন করতে হবে I যেমন : গল্পের মাধ্যমে শেখানো ,পাজল বা কুইজ দেওয়া I
- মাল্টি সেনসারি লার্নিং ( Multisensory Learning ) –শুধু বই পড়ে নয় ,বরং ছবি ভিডিও ও অডিও ব্যবহার করে শেখানো
- ইন্টার লিভড লার্নিং ( Interleaved Learning )–একই বিষয় বারবার না পড়ে বিভিন্ন বিষয়ের মিশ্রণ করা I যেমন অঙ্কের সাথে বিজ্ঞান মেশানো I
মস্তিষ্কের প্রভাবিত অংশ :Prefrontal Cortex, Hippocampus
3.একাগ্রতা ও মনোযোগ বাড়ানো (Increasing Focus And Concentration )
- Pomodoro Technique: ২৫ মিনিট পড়াশোনার পর ৫ মিনিট বিরতি দেওয়া ।
- মেডিটেশন ও শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যায়াম (Mindful Breathing): শিশুদের প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ মিনিট ধীরগতিতে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অনুশীলন করানো ।
- শারীরিক ব্যায়াম : শিশুরা যদি দৈনিক 30-45 মিনিট খেলাধুলা বা ব্যায়াম করে, তবে মস্তিষ্কের Dopamine,Serotonin এবং Norepinephrine হরমোন নিঃসরণ হয়, যা মনোযোগ বাড়ায়।
মস্তিষ্কের প্রভাবিত অংশ : Anterior Cingulate Cortex( ACC),Prefrontal Cortex
3.পড়াশোনার প্রতি আকর্ষণ ও মোটিভেশন ( How to Make Lerning More Motavating ? )
- শিশুরা যদি মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সেন্টারের ( Reward System ) মাধ্যমে শিক্ষাকে উপভোগ করতে শেখে, তাহলে তারা পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে উঠবে I
বৈজ্ঞানিক উপায়
- গেমিফিকেশন (Gamification): পড়াশোনা কে গেমের মত আকর্ষণীয় করে তোলা। যেমন পয়েন্ট জার্কিং চ্যালেঞ্জ দেওয়া ।
- ইন্টার লিভড লার্নিং: একই বিষয় বারবার না পড়ে বরং বিভিন্ন বিষয় মিশিয়ে পড়ানো ।যেমন একদিন গণিত ,পরদিন বিজ্ঞান ,তারপর ইংরেজি ..এইভাবে ।
- রিওয়ার্ড সিস্টেম: শিশুকে নতুন কিছু শেখার পর ছোটখাটো পুরস্কার দেওয়া । যেমন : তার প্রিয় বই ,খেলার রঙ ইত্যাদি ।
- সোশ্যাল লার্নিং (Social Learning ) : শিশুরা বন্ধুদের সাথে পড়াশোনার প্রতিযোগিতা করলে উৎসাহ পায়।
মস্তিষ্কের প্রভাবিত অংশ : Hippocampus, BasalGanglia, Dopaminergic System
যে কোন আসক্তি সাধারণতঃ ….দুই ভাবে বা দুইটি Process- এ সম্পন্ন হয়ে থাকে।
01.Socialy
02.Biologically
শিশুরা কিভাবে মোবাইলের প্রতি আসক্ত বা Addicted হয়ে যায় ? ( Biological Explanation )
- শিশুরা মোবাইলের প্রতি ধীরে ধীরে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং এটি মস্তিষ্কের একাধিক নিউরোলজিক্যাল প্রসেসের মাধ্যমে ঘটে। আসুন ধাপে ধাপে বিষয়টি বিশ্লেষণ করি—-
ধাপ 01. নতুন কিছুর প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ (Curiosity And Novelty Seeking)
- শিশুদের Prefrontal Cortex ( সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণের অংশ) এখনো পুরোপুরি গঠিত হয় না, তাই তারা নতুন ও আকর্ষণীয় জিনিসের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়।
- মোবাইল ফোনে সব সময় নতুন কিছু থাকে ( নতুন ভিডিও ,নতুন গেম, নতুন মিউজিক), যা Novelty Effect সৃষ্টি করে এবং শিশুর মনোযোগ ধরে রাখে।
Prefrontal Cortex
আমাদের চিন্তাশক্তি,
ভাষা গঠনের ক্ষমতা ,
Decision নেবার কাজে সাহায্য করে,
Management করে।
Calculation করতে সাহায্য করে,
যখন উপরোক্ত বিষয় গুলিতে দুর্বল হয়ে যায়।
একটি বাচ্চার 0৩ বছর থেকে 0৬ বছরের মধ্যে
তার Creative যে Brain আছে সেটার ম্যাক্সিমাম ডেভেলপমেন্ট ঘটে।
সেই সময় যদি কোন বাচ্চা অধিক পরিমানে মোবাইল দেখে,
তখন তার চোখ স্থির হয়ে যায় ওই Mobile-এর স্ক্রিনে ।
যখন-ই চোখ স্থির হয়ে যাবে ,
তখন
সে আর চিন্তা করতে পারবে না ।
আর ,
চিন্তা না করতে পারলে,
তার Creative Brain Enhance হবে না ।
নতুন নতুন Creative Thinking করতে পারবে না ।
তার মধ্যে যে Skill বা Intelegency ছিল,
যে সমস্ত সম্ভাবনা তার মধ্যে ছিল,
সেগুলো আর Developed হবে না ।
এটা কেবলমাত্র বাচ্চাদের ক্ষেত্রে নয়,বড়দের ক্ষেত্রেও সমান ভাবে প্রযোজ্য ।
ধরা যাক
আমরা কোন সিরিয়াল দেখছি বা পছন্দের কোনো মুভি দেখছি।
তখন কিন্তু আমাদের ব্রেন কাজ করে না !
কারণ…
আমাদের অ্যাটেনশন তখন পুরোটাই থাকে ওই সিরিয়াল বা ওই মুভিতে ।
এই ঘটনা যদি,
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন হতে থাকে। বারবার ঘটতে থাকে ।
যখন তার Creative Brain Development-এর সময় ।

তাহলে তখন তার Creative Brain Develop-ই হবে না ।
ফলে ,ওই বাচ্চাদের
চিন্তা শক্তি, ডিসিশন নেবার ক্ষমতা,ম্যানেজমেন্ট power
নতুন নতুন ভাষা গঠন করার ক্ষমতা ,
গুছিয়ে কথা বলার সক্ষমতা
প্রেজেন্টেশন Power
এই সমস্ত Skill গুলি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে ।
মস্তিষ্কের প্রভাবিত অংশ :
Prefrontal Cortex(PFC)---শিশুদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকে ,তাই সহজেই আসক্ত হয়ে পড়ে ।
ধাপ 2 : ডোপামিন নিঃসরণ বৃদ্ধি ( Increased Dopamine Release )
- শিশুরা যখন মোবাইল স্ক্রিনে মজার কিছু দেখে বা গেম খেলে তখন মস্তিষ্কের Reward System (পুরস্কার ব্যবস্থা ) সক্রিয় হয়।
- Nucleeus Accumbens থেকে ডোপামিন (Dopamine) নিঃসৃত হয়, যা আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- প্রতিবার মোবাইল ব্যবহার করার পর ডোপামিনের মাত্রা বেড়ে যায়, ফলে শিশুরা আবার মোবাইলের দিকে ঢুকে পড়ে।
মস্তিষ্কে প্রভাবিত অংশ:
Nucleeus Accumbens ---আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা আসক্তি বাড়ায়।
ধাপ 03 : অভ্যাস গঠনের শুরু (Formation of Habit Loop )
- শিশু প্রতিদিন মোবাইল ব্যবহার করলে Basal Ganglia নামক মস্তিষ্কের অংশে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে ওঠে।
- এটি Habit Loop ( অভ্যাস চক্র ) তৈরি করে—
A. Trigger ( উদ্দীপনা ) : শিশুরা বিরক্ত হলে বা একা থাকলে মোবাইল নেয়।
B. Routine ( অভ্যাস ): মোবাইল ব্যবহার করা।
C. Reward(পুরস্কার ) : আনন্দ অনুভূত হওয়া ।
এই চক্র প্রতিদিন চলতে থাকলে শিশুরা মোবাইল ছাড়া থাকতে পারে না।
মস্তিষ্কের প্রভাবিত অংশ:
Basal Ganglia -- অভ্যাস গঠনে সাহায্য করে যা আসক্তিতে রূপ নেয়।
ধাপ 04: মনোযোগের ক্ষমতা কমতে থাকে ( Reduced Attention Span)
- শিশু দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করলে Prefrontal Cortex দুর্বল হয়ে যায়, ফলে তাদের মনোযোগ কমে যায়।
- তারা বই বা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না, কারণ মোবাইলের দ্রুত পরিবর্তনশীল ছবি ও রঙিন গ্রাফিক্সের তুলনায় বই তার কাছে কম আকর্ষণীয় লাগে ।
- একে বলা হয় “DigitalDementia”, যেখানে শিশুর Working Memory ও Attention Span কমে যায় ।
মস্তিষ্কে প্রভাবিত অংশ:
Prefrontal Cortex---মনোযোগ কমে যায়,স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়।
ধাপ 05 : ঘুমের ব্যাঘাত ও হরমোনের পরিবর্তন ( Sleep Disruption And Hormonal Imbalance )
- শিশুটা যদি রাতে মোবাইল ব্যবহার করে, তাহলে স্ক্রিন থেকে আসাBlue Light ( নীল আলো ) Melatonin Hormane নিঃসরণ বন্ধ করে দেয়।
- এতে তাদের ঘুম কমে যায় ফলে মস্তিষ্কের পুনরুদ্ধার (Brain Recovery)বাধা গ্রস্ত হয় ।
- ঘুম কম হলে Amygdala ( আবেগ নিয়ন্ত্রণের অংশ ) অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যায়, ফলে শিশুরা রাগী বা খিটখিটে হয়ে যায় ।
মস্তিষ্কের প্রভাবিত অংশ:
Amygdala---রাগ ও আবেগের মাত্রা বেড়ে যায়।
Pineal Gland--মেলাটোনিন কমে যায় ,ফলে ঘুম কম হয়।
ধাপ 06 : মোবাইল ছাড়া অস্বস্তি ( Withdrawal Symptoms And Anxiety )
- হঠাৎ যদি মোবাইলে নিয়ে নেওয়া হয় তাহলে শিশুর ডোপামিন লেভেল ( Dopamine Level ) দ্রুত কমে যায়।
- এতে তারা অস্থিরতা, রাগ,কান্না, হতাশা ও বিরক্তি বোধ করতে থাকে।
- এই অবস্থাকে Withdrawal Symptoms বলা হয়, যা মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মতোই হয়।

মস্তিষ্কের প্রভাবিত অংশ:
Hypothalamus---স্ট্রেস হরমোন ( Cortisol ) বাড়ায়, ফলে ফলে শিশুরা চিৎকার চেঁচামেচি করে ।
Mobile Addiction শুধুমাত্র Addiction নয় !
একটা বাচ্চার লাইফে বিভি্ন ধরনের সমস্যা বা প্রবলেম ক্রিয়েট করতে পারে ।
Prefrontal Cortex যদি কখনো Distract বা বাধা প্রাপ্ত হয় ,
তাহলে…Cognetive Development বা চেতনার চৈতন্য বৃদ্ধিতে বাধা প্রাপ্ত হবে ।
সাধারণতঃ
আমাদের Cognition Register হয়ে যায় দুই বছর বয়সের মধ্যে।
কিন্তু …
নতুন যে সমস্ত বিষয়ের চেতনা বা Cognition Register হওয়া বাকী, সেগুলোর ক্ষেত্রে বাধা প্রাপ্ত হবে ।
Problem বা সমস্যা
একটি বাচ্চা 0৬ বছর পর্যন্ত ভালো আছে অর্থাৎ কোন ধরনের Addiction তাকে ধরতে পারেনি।
কিন্তু ..
তারপর দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে Addiction চলে এসেছে।
বা দেখা গেল
১০-১১ বছর পর্যন্ত শিশুটি বা বাচ্চাটি খুব ভালোভাবেই পড়াশোনা করেছে।
সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিল ।
কোন অসুবিধা ছিল না।
হঠাৎ করেই Addiction চলে এসেছে।
আমাদের যদি ডায়গনস্টিক করতে হয়,
একটি বাচ্চার মধ্যে 0৬ বছর বা ১০ বছর পর্যন্ত কোন Addiction ছিল না
হঠাৎ করেই এসেছে …
সম্ভাব্য কারণগুলি কি কি হতে পারে ?
আমাদের একটা Daily Life আছে।
সেই Daily Life-এর একটা Daily Routing আছে ।
অর্থাৎ আমাদের জীবনের প্রতিটি দিন একটা রুটিনের মধ্যে দিয়ে চলে ।
তার মাঝে যদি কোন বাধা বা Obstacle আসে ।
তাহলে সেটাও কিন্তু একটা বাচ্চার Addiction-এর কারণ হতে পারে ।
যেমন…
যখন করোনা এলো !
তখন কিন্তু একটা বাচ্চার ডেলি রুটিনে ভীষন একটা Obstacle বা বাধা এলো,
সেটা লং টাইম এর জন্য রয়ে গেল।
এতে বাচ্চাদের অভ্যাসেরই পরিবর্তন ঘটে গেছিল ।
সেই কারণে..
Maximum বাচ্চার ভেতরে কিন্তু Addiction চলে এসেছিল ।
হঠাৎ কিছু Shocking Incident হওয়া
কি ধরনের ?
Break-up Situation.
বাবা-মায়ের সম্পর্ক বিচ্ছেদ।
এই বিষয়টি বাচ্চাটি ভালো ভাবে বা মন থেকে মেনে নিতে পারে না ।
Addicted হওয়ার এটা একটা ভীষন গুরুত্বপূর্ণ Social কারণ ।
কোন মায়ের Divorce বা বিবাহ-বিচ্ছেদের ফলে আলাদা থাকা
এই মর্মান্তিক ঘটনা বাচ্চার মনের উপর ভীষন এফেক্ট হয় বা প্রভাব ফেলে ।
বাচ্চারা মানসিক Problem শুরু হয়ে যায়।
সেই কষ্ট বা যন্ত্রনা বাচ্চারা সহজে Express করতে পারে না ।
বিষয়টি বাচ্চাটি Accept করতে পারে না বা মেনে নিতে পারে না ।
এই ধরনের মানসিক Effect-এর ফলে Addiction হতে পারে ।
বাবা মা ঝগড়া করছে

বাবা মায়ের দীর্ঘদিন কথা নেই
এরকম অবস্থায় বাচ্চাটির মানসিক অবস্থা কেমন হবে ?
নিশ্চয় ভালো নয় !
এরকম পরিস্থিতি বাচ্চাটির ভালো লাগে না ।
বাবা-মা ভীষণ হেসে হেসে ,আনন্দের সঙ্গে গল্প করছে।
তখন বাচ্চাটি কেমন Feel করবে ?
নিশ্চয়ই বাচ্চাটি তখন হ্যাপি ফিল করবে ?
বাবা মায়ের এই হাসিখুশিও গল্প গুজবের মুহূর্তটি সন্তানকে
Pleasure দিচ্ছে।
বাবা-মায়ের Relation বাচ্চাদের উপরে ভীষণ প্রভাব ফেলে।
একদিকে Pleasure, অন্যদিকে Tension,চাপ বা Depression-এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে ।
এগুলিই হল.. One of the primary reasone of mobile addiction.
এই কারণটিকে আমরা Avoid করতে পারব না ।
Shocking Incident গুলো কখনোই একটা নির্দিষ্ট হতে পারে না !
এই Incident গুলো বিভিন্নভাবে বা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে ।
ধরা যাক…
বাচ্চাটির একটি ভালো বন্ধু ছিল ।
হঠাৎ করে বন্ধুটি তার সাথে আর ভালো করে কথা বলছে না !
তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে !
তখন সে মনের দুঃখে
Mobile Addicted হয়ে যেতে পারে ।
আবার…
এমনও হতে পারে,
সেই বাচ্চাটিকে কেউ Publicly বা সবার সামনে খারাপ কথা বলে দিয়েছে ।
সেটা বাচ্চাটিকে খুব আঘাত করেছে।
মনে খুবই আঘাত লেগেছে তার।
সেই চাপ বা আঘাত থেকে রিলিজ পেতে সে বেশি পরিমাণে মোবাইলে Involve হয়ে যাচ্ছে
কারণ
মোবাইল দেখতে তার খুব ভালো লাগছে।
মোবাইল না দেখলে,বাচ্চাটির মনে টেনশন চলে আসবে।
Depression আবার চলে আসবে ।
Shocking Incident নতুন নতুন হতে পারে
এমন নতুন হতে পারে যে আমরা হয়তো কখনোই সেই ধরনের কোন ইন্সিডেন্টের কথা শুনিই নি !
সাইকোলজি এমন একটা স্টেজ বা সাইকোলজিক্যাল বিষয় মাইন্ডের এমনই একটা স্টেজ
যা প্রতিদিন বা প্রতিমুহূর্তেই নতুন নতুন চিন্তাভাবনা,নতুন নতুন ধ্যান -ধারণা,
নতুন ভাবে উদ্ভব হচ্ছে ।
কি কারনে যে হবে,
সেটা আমরা আগে থেকে ধারণাই করতে পারবো না ।
কিন্তু..
তবুও আমাদের সেই জায়গাটা খুঁজে বার করতে হবে।
ধীরে ধীরে আমরা জেনে যাব,
কিভাবে ওই বিষয়গুলি খুঁজে বের করতে হয় বা Find করতে হয়।
হতে পারে নতুন ! তবুও ,নিশ্চয়ই আমরা তার কারণ খুঁজে পেয়ে যাব।
ওর তো কোনো Addiction ছিল না !
দশ বছর বয়স থেকে হঠাৎ করে মোবাইল Addiction চলে এসেছে।
একজন Counselor কখনোই বাবা মায়ের কাছে জানতে চাইবে না,
Addiction কেন হয়েছে ?
একজন Counselor বাবা-মার কাছ থেকে জানতে চাইবে,
কি ঘটনা ঘটেছিল ?
বাচ্চাটি মোবাইল এডিক্টেড হওয়ার ঠিক আগে কি ঘটনা ঘটেছিল ?
বাড়িতে কোন দুর্ঘটনা ?
কোন Shocking Incident বা Shocking News ?
সেটা একজন Counselor কেই Find করতে হবে বা খুঁজে বের করতে হবে ।
একজন কাউন্সিলার কখনোই বাবা-মা বা অভিভাবককে জিজ্ঞাসা করবে না ,
কেন হয়েছিল ?
সেটা যদি বাবা-মা বা অভিভাবকেরা জানতো তাহলে সে কখনোই কাউন্সিলর এর কাছে আসতো না ।
অর্থাৎ সমাধান সূত্র দেবে একজন কাউন্সিলর।
কেন হয়েছিল সেই বিষয়টি জানাবে একজন কাউন্সিলর ।
Solution
একটা বাচ্চাকে Mobile Addiction থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে আনতে গেলে,
একজন কাউন্সিলারের যে যে কাজ করতে হয় ,
এমনকি
Addicted বাচ্চাটির অভিভাবকেরা বা বাবা-মা ও যদি এই কাজগুলি করতে পারেন
তাহলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে ।
01.Positive Parenting
02.Quality Time Spent
03.বাচ্চার সামনে মোবাইল use করা যাবে না । যদি use করাও হয় ,সেটা হবে খুবই কম এবং খুবই প্রয়োজন ভিত্তিক ।
04.বাচ্চার Physical Activity’র ব্যবস্থা করতে হবে ।
01.Positive Parenting

02.Quality Time Spent
বাচ্চাদের যদি Timeাবা সময় না দেওয়া হয় ,
তারা তাহলে এমনিতেই মোবাইলে Addicted হবে ।
বাবা মা যদি বাচ্চাদের সঙ্গে Quality Time Spent করে
তাহলে
বাচ্চার মোবাইল ঘাটার যে Screening Time ধীরে ধীরে সেটা কমে যাবে ।
03.বাচ্চার সামনে মোবাইল use করা যাবে না।
বাবা-মাকেও বাচ্চার সামনে খুবই কম মোবাইল ব্যবহার করতে হবে ।
প্রয়োজন ছাড়া বাচ্চার সামনে কখনোই মোবাইল Use করা যাবে না ।
যতটা সম্ভব কম মোবাইল Use করতে হবে বাচ্চাদের সামনে এবং বাস্তবেও !
বাচ্চাদের সামনে মোবাইল Use না করলে খুবই ভালো।
তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়
বাবা মা মোবাইল না ঘেটে থাকতে পারে না ।
অর্থাৎ
সন্তানের থেকে বাবা-মায়ে-ই অত্যাধিক পরিমাণে মোবাইল Addicted .
সে ক্ষেত্রে সন্তানকে মোবাইল থেকে দূরে রাখা প্রায় অসম্ভব !
04.বাচ্চার Physical Activity’র ব্যবস্থা করতে হবে ।
সন্তানকে বা বাচ্চাকে খেলাধুলা করার জন্য পার্কে নিয়ে যেতে হবে।
শুধুমাত্র Indoor Game নয় , Out Door Game-এর দিকে বেশি নজর দিতে হবে।
আউটডোর গেম মানে ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ হবে এমন Game
সেটা
Swiming হতে পারে,
Runniung হতে পারে,
Badminton হতে পারে,
Scepping হতে পারে,
Cricket হতে পারে,
Football হতে পারে,
বাচ্চাটি যে ধরনের Physical Activity পছন্দ করে,
সেই ধরনের Game-এ তাকে অনেকটা সময় Involve করতেই হবে ।
Indoor Game
মাইন্ড কে বুস্ট করার জন্য কয়েকটি Indoor Game খুবই কার্যকরী ।
যেমন….
Rubik’s Cube
Chease বা দাবা ( Mind Game)
Art And Craft-এর বিভিন্ন বিষয়ে
Carrom
এই Indoor Game গুলি চিন্তা শক্তিকে Enhance করে ভীষণভাবে ।
মোবাইল দেখার Screening Time Gradually কমাতে হবে ।
ধরা যাক,
বাচ্চাটি প্রতিদিন তিন ঘন্টা ধরে মোবাইল দেখে,
আমরা যদি হঠাৎ করেই বাচ্চাটির থেকে মোবাইল কেড়ে নিই,
তাহলে, বাচ্চাটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা
হঠাৎ করেই খারাপ হতে পারে ।
একটা অন্যরকম Effect হতে পারে ।
কারণ,
তার মধ্যে বিষয়টি Neuro Plasticity হয়ে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে ।
হঠাৎ করে এই নিয়ম ভাঙ্গা উচিত হবে না ।
এই নিয়ম ধীরে ধীরে ভাঙতে হবে বা ধীরে ধীরে কমাতে হবে !
আমরা বাচ্চাটিকে বলবো..
তুমি এই সপ্তাহে 0৩ ঘন্টার বদলে 0২.৩0 ঘন্টা মোবাইল ব্যবহার করবে ।
পরের সপ্তাহে বলবো…
তুমি 0২ ঘন্টা সময় নাও মোবাইল দেখার জন্য।
তারপরের সপ্তাহে বলবো…
আজ তুমি মোবাইল দেখবে 0১ ঘন্টা।
এইভাবে।
ধীরে ধীরে কমাতে কমাতে ।
একটা নিয়মের মধ্যে Gradually Time Spanটা কমাতে হবে।
হঠাৎ করে নয় !
এই পদ্ধতি যে কোনো বয়সের বাচ্চা বা যে কোনো বয়সের মানুষের জন্য প্রযোজ্য।
বাচ্চার Age বা বয়স বুঝে বিষয়টি বোঝাতে হবে ।
ব্যাপারটি কিন্তু করতে হবে বুঝিয়ে ।
বোঝাতে কিন্তু হবেই !
বিষয়টি না বুঝিয়ে ,আমরা কিন্তু হঠাৎই মোবাইল কেড়ে নেব না বা মোবাইল দেখা বন্ধ করে দেব না ।
এভাবে কেড়ে নিলে বা মোবাইল দেখা বন্ধ করে দিলে
Question আসবে।
একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন আসবে !
একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হবে।
বাবা মাকে অবশ্যয় বাচ্চাটাকে বোঝাতে হবে,
অতিরিক্ত মোবাইল দেখা বা মোবাইল ঘাটা ভালো নয় ।
অতিরিক্ত মোবাইল ঘাটার ফলে কি কি প্রবলেম হচ্ছে !
কি কি অসুবিধা হচ্ছে !
সেগুলো প্রমাণ সহকারে তার সামনে উপস্থাপিত করতে হবে ।
ছয় বছরের বাচ্চাকে একটা ভিডিও দেখিয়ে বলা যেতে পারে,
দেখো….
এই ছেলেটি বেশি মোবাইল দেখতো, এখন এর কি অবস্থা ! হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আছে ।
এই বাচ্চাটি অতিরিক্ত মোবাইল দেখার জন্য অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে গেছে।
তুমিও কি ওই বাচ্চাটির মত হাসপাতালে Admit হতে চাও ?
ইনজেকশন নিতে চাও ?
এই বাচ্চাটি এখন বাবা মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারে না,
স্কুলে যেতে পারছে না ।
বন্ধুবান্ধবদের সাথেও দেখা হয় না,
কিছু খেতে পারেনা !
সবসময় কেমন করছে !
এমন অনেক বাচ্চা পাওয়া যাবে যারা এসব শুনে আর মোবাইল হাত দেবে না।
ছয় বছরের বেশি বয়স হয়ে গেলে এই ভিডিও কিন্তু আর তেমনভাবে কাজ করবে না।
সে এই ধরনের ভিডিও ছুড়ে ফেলে দেবে ।
তাকে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে।
বাচ্চার সঙ্গে Bonding Strong করতে হবে।
বাচ্চার সঙ্গে Quality Time Spent করতে হবে
Reward System
বাবা-মা বাচ্চাকে বলতে পারে ,সে যদি আধঘন্টা সময় মোবাইল কম দেখে তাহলে কিছু একটা গিফট তাকে দেওয়া হবে !
এটাই রিওয়ার্ড সিস্টেম ।
বলা যেতে পারে,
তুমি যদি মোবাইল না দেখে গল্পের বই পড়ো বা ছবি আঁকো,
তাহলে এই গিফট তোমাকে দেওয়া হবে ।
এটা তাকে খুব ইমপ্রেস করবে !
বাবা -মা যদি বাচ্চার সঙ্গে হাসি মজা করে,
বাচ্চার সঙ্গে Quality Time Spent করে ।
গল্প করে।
তাহলে কিন্তু এইসব রিওয়ার্ডের দরকারই পড়বে না ।
আসল কথা হল ,
বাবা – মা যদি ,বাচ্চার সঙ্গে সময় কাটায় ,তাহলে সে কোনদিনই মোবাইল এডিক্টেড হবে না !
বাচ্চাটা যে পড়াশোনা করছে সেই পড়াশোনাটাই মজাদার করতে হবে।
সেই পড়াশোনা থেকে একঘেয়েমি দূর করতে হবে ।
বাঁধা-ধরা গতের বাইরে বেরোতে হবে।
পড়াশোনাটা কিভাবে মজাদার করা যায় ?
কোন সিস্টেমে আমরা পড়াশোনাটা মজাদার করব ?
সে বিষয়ে অনেক আর্টিকেল বা ভিডিও আছে প্রয়োজনে সেগুলো দেখে নেওয়া যেতে পারে ।
আমরা বাচ্চাটাকে শুধু শুধু কোন Gift বা Reward দেবো না,
যখন সে কিছু একটা Achive করবে তবেই Reward পাবে।
তখন সে খুশি হবে। যখন সে বুঝতে পারবে সে এটা করেছে ।
বা আমি এটা করতে পেরেছি ।
বা কিছু করার জন্য আমি রিওয়ার্ডটা Achive করেছি।
এটা Anotherএকটা Neuro Plasticity .
অর্থাৎ
আমাকে যদি কিছু পেতে হয় ,তাহলে কিছু একটা করতেই হবে।
আমি পড়ার জন্য পেয়েছি।
আমি আঁকার জন্য পেয়েছি।
আমি সুইমিং এর জন্য পেয়েছি। ইত্যাদি ,ইত্যাদি।
Reward-এর উদ্দেশ্য হল…
বাচ্চার মনটাকে Divert করে, অন্য একটা দিকে পরিচালনা করা।
আমরা যে গিফট গুলো দেবো। সেগুলোও একটু অন্যরকম হলে বাচ্চার অনেক বেশি ভালো লাগবে।
যেমন আমরা যদি কোন মেডেল দিই । আর সেই মেডেলে যদি তার নাম লেখা থাকে !
বা তার ছবি তুলে আমরা ফেসবুক বা অন্য কোন সমাজের মাধ্যমে পোস্ট করি ,
এতে বাচ্চারা মন থেকে Happy হয়ে যাবে ।
গিফট হতে হবে একটু নতুন ধারার বা নতূন ধরনের ।
বস্তা পচা কোন গিফট আইডিয়া এখানে না দেওয়াই ভালো।
যেমন
চকলেট ,পেন্সিল ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো অনেক পুরনো পদ্ধতি । এগুলা আর সেই ভাবে বাচ্চাদেরকে টানে না।
অর্থাৎ
আমাদের নতুনভাবে কিছু একটা করতে হবে। যাতে সে Motivated হয় ।
আমাদের এমন একটা কিছু করতে হবে,
যাতে সে মোবাইল ছেড়ে অন্য কাজ করতে ইন্সপায়ার্ড হয়।

অনেক সময় আমরা
সবাইকেই ড্রইং এ ভর্তি করে দিই,
সবাইকেই নাচে দিয়ে দিই।
মনে রাখতে হবে ,সব কিছু কিন্তু সবার জন্য নয়।
বাচ্চার মন মানসিকতা বুঝে, সেই ফিল্ডে তাকে Involve করতে হবে।
আমরা বুঝবো কিভাবে কোন বাচ্চা কিসে আগ্রহী ?
সেজন্যে ,
অবশ্যই আমাদের Stydy করতে হবে,
Analisis করতে হবে।
পড়াশোনা করতে হবে।
তারপর নিয়ম মেনে সেটা বাচ্চার উপর অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে।
বাচ্চাকে Reward দেওয়ার কথাও কিন্তু যেমন তেমন ভাবে বললে হবে না !
তাহলে, বাচ্চাকে রিওয়ার্ডের কথা কিভাবে বলতে হবে ?
আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটা করে থাকি,
বাচ্চার কোন এক্টিভিটি তে যে ভুলগুলো করে ,সেই ভুলগুলো তার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে,আমরা তাকে বারবার আঘাত করি।
এতে সে ভীষণ কষ্ট পায়।
কিন্তু যেগুলো সে ভালো করেছে সেগুলোর প্রশংসা বেশি করে করি না ।
আমরা তার ভুলগুলো অবশ্যই ধরিয়ে দেব এবং বলবো।
কিন্তু বেশি করে যেটা করব ,
সেটা হল- সে যে বিষয়গুলোতে ভালো করছে
সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে তাকে বেশি বাহবা দেব বা কৃতিত্ব দেব এবং মাঝে মাঝে তার ভুলগুলো আমরা ধরিয়ে দেব।
এইভাবে যে….
তুমি তো এগুলো দারুণ করেছ ! কিন্তু এটাও যদি এইভাবে করতে তাহলে কিন্তু আরো ভালো হতো ।
এতে সে আরো ইন্সপায়ার হবে।
তখন যদি আমরা তার ভালো কাজের জন্য তাকে রিওয়ার্ড দিই বা গিফট দিই,
সে কিন্তু সেটা খুশি মনে গ্রহণ করবে এবং ভাববে
তার কৃতিত্বের জন্যে তাকে দেওয়া হয়েছে ।
কেবলমাত্র তাকে খুশি করার জন্য Reward দেওয়া হয়নি ।
এভাবেই
একটি বাচ্চাকে ধীরে ধীরে এডিকশনের বাইরে বের করে আনা যায় বা Addiction মুক্ত করা সম্ভব !

এই ধরনের Article আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন । Articleটি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-ও Human Psychology বিষয়ক নানা Information এর জন্য আমার Face Book Page,
আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং
আমার দুইটি YouTube channel 1. Learn Digital Earn Money ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

