চুরিবিদ্যা 100% মহাবিদ্যা

Table of Contents

চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা, যদি না পড়ো ধরা ! কিন্তু কথাটা হলো ,যতক্ষণ আমরা চুরি করে ধরা না পড়ছি !কিন্তু আদতেও কি ব্যাপারটা সেভাবে সম্ভব ? চুরি করছে কিন্তু ধরা পড়ছে না , এরকম ঘটনা নেই বললেই চলে। তবে সেটা সময়ের ফের । কেউ একেবারে প্রথমেই ধরা পড়ে যায় ।যারা একটু চালাক -চতুর, আট-ঘাট বেঁধে নামে ,তারা কিছুদিন পরে ধরা পড়ে। তবে ধরা একদিন পড়েই। অতএব চুড়িবিদ্যার পিছনে বেশি সময় বা ব্রেন কোনটাই সেভাবে প্রয়োগ করে লাভ হয় না। কিন্তু যারা বুঝলে এই বিষয়টি আরো ভালো হতো তাদের কাছে কিন্তু বিষয়টি অধরাই থেকে যায়। তারা যখন কোন অপরাধ বা এই ধরনের কোন কাজ শুরু করে, তাদের মাইন্ড সেট এরকমই থাকে ,সে এমন ভাবে এই কাজটি করবে ,এমন ভাবে তার প্ল্যানিং করে সে এগোবে ,তাকে ধরে কার বাপের সাধ্য …..

চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা, যদি না পড়ো ধরা !
চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা, যদি না পড়ো ধরা !

চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা, যদি না পড়ো ধরা !

ভাবুন তো একবার!

আপনার পাড়ার একটা ছেলে পুলিশের চাকরি পেয়েছে।

রোজ সকালে কড়া ইস্ত্রি করা উর্দি পরে, চকচকে বুট পায়ে ডিউটিতে বেরোয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তার পুলিশের পোশাক পরা ছবিতে লাইক-কমেন্টের বন্যা।

বাবা-মা গর্বিত, প্রতিবেশীরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

কি দারুণ ব্যাপার, তাই না ?

চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা

উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার শিমুলপুর চৌরঙ্গী এলাকার গল্পটাও ঠিক এমনই ছিল।

গল্পের হিরো পুলিশ অঙ্কিত ঘোষ।

এলাকার সকলের চোখে সে একজন সফল পুলিশ কনস্টেবল।

পোস্টিং কোথায় ?

একেবারে ভিআইপি এলাকা,

সল্টলেকের বিকাশ ভবনে !

অঙ্কিতের ভাবসাব, হাঁটাচলা, কথাবার্তায় এমন একটা দাপট ছিল যে,

তাকে দেখে সন্দেহ করার কোনো প্রশ্নই উঠত না।

প্রায় একটা বছর ধরে এভাবেই চলছিল তার ‘ডিউটি’।

সিনেমার গল্পে যেমন হয়

কিন্তু সিনেমার গল্পে যেমন টুইস্ট আসে,

এই গল্পেও ঠিক সেটাই ঘটল।

গাইঘাটা থানার আসল পুলিশদের মনে খটকা লাগে।

তারা খোঁজ নিতেই বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য,

বিকাশ ভবনে ‘অঙ্কিত ঘোষ’ নামে কোনো কনস্টেবল নেই !

মানে এক্সিস্টই করে না।

তাহলে এই ছেলে কে ?

চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা

সে কি সত্যিই পুলিশ ?

নাকি পুলিশের পোশাক পরে অন্য কোনো মতলবে ঘুরছে ?

পুলিশের একটা টিম তৈরি হয়।

লক্ষ্য,

অঙ্কিতের গতিবিধি।

অঙ্কিত সকালে বাড়ি থেকে বেরোয়, বিকেলে ফেরে,

বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে,

সবই খুব স্বাভাবিক।

কিন্তু পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেওয়া কি এত সহজ !

তারা শুধু ঠিক মুহূর্তটার অপেক্ষা করছিল।

সেই মঙ্গলবার…

ডিউটিতে বেরোনোর জন্য

উর্দিটা গায়ে চাপিয়েছে অঙ্কিত।

ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ে আসল পুলিশ।

— “আপনার পরিচয় ? ” —

— বুক চিতিয়ে জবাব: “আমি কনস্টেবল অঙ্কিত ঘোষ।”

— “আইডি কার্ডটা দেখান।”

ব্যস!

একটা প্রশ্নেই যেন সব শেষ।

এই একটা প্রশ্নেই যেন সব শেষ।

যে দাপট এতক্ষণ অঙ্কিতের গলায় ছিল,

তা যেন কর্পূরের মতো উবে যেতে থাকে।

তার মুখ ফ্যাকাশে,

কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম।

আসল পুলিশের সামনে নকল পুলিশের অভিনয় আর কতক্ষণই বা টিকবে ?

সিনেমার মতো ক্লাইম্যাক্স এ পরিণত হয় সমস্ত সিন।

চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা
সিনেমার মতো ক্লাইম্যাক্স এ পরিণত হয় সমস্ত সিন।
সিনেমার মতো ক্লাইম্যাক্স এ পরিণত হয় সমস্ত সিন।

অঙ্কিতের বাড়ি থেকে বেরোল,

সারি সারি পুলিশের পোশাক,

নকল ব্যাজ, নেমপ্লেট, আরও কত কী!

জানা গেল,

নকল সবকিছু

অঙ্কিত পুলিশের পরীক্ষায় ফেল করেছিল।

কিন্তু বাড়িতে লজ্জা ও ভয়ে জানায়, চাকরি পেয়ে গেছে।

আর সেই একটা মিথ্যেকে সত্যি প্রমাণ করতেই

সে এমন নাটকীয় কাণ্ড ঘটায়।

মানে ভাবা যায় ?

চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা

সে হয়তো নিজের হারকে মেনে নিতে পারেনি,

শুধু এরকম অঙ্কিত নয় হয়তো হাজার হাজার অঙ্কিত রয়েছে

যারা প্রচুর প্রচেষ্টা করছে নিজের জীবনে কিছু করবার জন্য,

নাম উজ্জ্বল করবার জন্য।

কিন্তু একবারে জয় না আসলে এরকম দুঃসাহসী পদক্ষেপ ?

অঙ্কিতের গ্রেফতারের খবরে অনেকেই অবাক,

সোশ্যাল মিডিয়াতে গড়ে উঠেছিল এক গোটা ফলোয়ার বেস।

তবে বিশেষ করে কিছু অনুরাগী রীতিমতো ভেঙে পড়ে জানান

তারা এটা মেনে নিতেই পারছেন না।

ধরা পড়ে যাওয়া নাটক

বেশ হিরো হিরো লাগছিল ছেলেটাকে।

সত্যিই!

এখন আর ঘাম ঝরিয়ে চাকরি পেতে হয় না,

নকল পোশাক পরলেই আপনি হিরো !

ঝকঝকে দুটো ছবি পোস্ট করলেই

সমাজ স্যালুট এবং কুর্নিশ জানায়।

অভিনয় যদি জাঁকিয়ে বসে মুখে,

তাহলে লাইকের ঢেউ উঠে চোখে মুখে।

আর ধরা পড়ে গেলে ?

তখন আপনি মানুষ নন,

আপনি স্বয়ং একটা কন্টেন্ট !

ভাইরাল হন, শেয়ার হন,

মিম হন, মজার পাত্রে পরিণত হন।

সমাজ বলে,

“নাটকটা তো ভালোই করছিল !

শুধু শেষ দৃশ্যে ক্যামেরা ঢুকে পড়ল…”

আর আপনি বুঝতেও পারেন না,

জীবনে আপনি কতটা এগোতে পারতেন,

যদি অভিনয়টা শুধু রিয়েল লাইফে না করে,

শুধু একটু নিজের জীবনের জন্য করতেন।

চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা
নাটকটা তো ভালোই করছিল
নাটকটা তো ভালোই করছিল
চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা

অঙ্কিতের মত বহু মানুষ আমাদের পরিবার ,সমাজ বা দেশের মধ্যে মুখোশ পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে । তাদের মুখোশ এতটাই প্রাণবন্ত যে ,আসল কে-ই তারা হার মানিয়ে দেয়। কিন্তু এই নকল অঙ্কিতরা একদিন ঠিকই ধরা পড়ে। সেদিন তারা নিজেরাই কন্টেন্ট হয়ে যায় ।নিজেরাই হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ার খোরাক।

সত্যিই !

এখন আর ঘাম ঝরিয়ে চাকরি পেতে হয় না,

নকল পোশাক পরলেই আপনি হিরো !

ঝকঝকে দুটো ছবি পোস্ট করলেই

সমাজ স্যালুট এবং কুর্নিশ জানায়।

অভিনয় যদি জাঁকিয়ে বসে মুখে,

তাহলে লাইকের ঢেউ উঠে চোখে মুখে।

আর ধরা পড়ে গেলে ?

তখন আপনি মানুষ নন, কন্টেন্ট !

ভাইরাল হন, শেয়ার হন,

মিম হন, মজার পাত্রে পরিণত হন।

সমাজ বলে,

“নাটকটা তো ভালোই করছিল !

শুধু শেষ দৃশ্যে ক্যামেরা ঢুকে পড়ল…”

আর আপনি বুঝতেও পারেন না,

জীবনে আপনি কতটা এগোতে পারতেন,

যদি অভিনয়টা শুধু রিয়েল লাইফে না করে,

শুধু একটু নিজের জীবনের জন্য করতেন।

অভিনয়টা শুধু রিল লাইফে
অভিনয়টা শুধু রিল লাইফে
চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা

এর থেকে ভাল হতো

তার থেকে ভাল, আমরা যদি অনেকবার ফেল করার পরেও ,অনেকবার ব্যর্থ হওয়ার পরেও ,নিজের উদ্দেশ্য বা স্বপ্নটাকে পাবার জন্য আরো একটু মন প্রাণ দিয়ে খাঁটি ,মন প্রাণ দিয়ে সে পথটাকে খুঁজে বের করি, মন প্রাণ দিয়ে সেটাকে পাবার চেষ্টা করি, তাহলে একবারে না হোক, দুবারে না হোক, তিনবারে না হোক ,এক সময় ঠিকই আমরা সেটা পেয়ে যাব। তাহলে আর আমাদের অঙ্কিত হতে হবে না !

এই ধরনের Article আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন । Articleটি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-ও Human Psychology বিষয়ক নানা Information এর জন্য আমার Face Book Page,

আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং

আমার দুইটি YouTube channel 1. Learn Digital Earn Money ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন
ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন

Leave a Comment