Ferrari V/S lamborghini : এক অসম লড়াই !

Ferrari V/S lamborghini”র লড়াইয়ের ইতিহাসটা বেশ মজাদার । কাউকে অবজ্ঞা করলে তার ফলাফল যে কত মারাত্মক হতে পারে তার প্রমাণ হলো এই আর্টিকেল । একজন মেকানিক কিভাবে একটা বড় কোম্পানিকে পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে গেল। সেটা একটা ইতিহাস। সেটা একটা গল্প

Ferrari V/S lamborghini : এক অসম লড়াই !
Ferrari V/S lamborghini : এক অসম লড়াই !

শুরুর আগে দু-কথা

মানুষের জীবন খুবই বৈচিত্রময় !

কখন যে কি ঘটবে সেটা কেউই জানে না ।

আজ যে ফকির , সে-যে কাল রাজা হয়ে বসবে না , সে কথা কিন্তু বলা যায় না ।

আবার আজ যে রাজা আছে সে-যে আগামীকাল ফকির হয়ে যাবে না , সেটার ও কিন্তু কোন গ্যারান্টি নেই।

অর্থাৎ কোন মানুষের বর্তমান অবস্থা দেখে যদি আমরা তার সামগ্রিক জীবন বিচার করে ফেলি সেটা কিন্তু যে কোন মুহূর্তে বদলেও যেতে পারে।

সেই জন্য আমরা কখনোই কারোর বর্তমান সময় বা বর্তমান অবস্থা নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করবো না ।

বা করা উচিত নয় ।

এই কথাগুলো আমরা জানলেও

অনেক সময়ই কিন্তু

কোন মানুষের বর্তমান অবস্থা দেখে বা বুঝে আমরা কিন্তু ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেই ফেলি !

পাশাপাশি বিপরীত দিকের মানুষটিও সেই কথার পরিপ্রেক্ষিতে দু কথা শুনিয়ে দিতেও কিন্তু ছাড়ে না ।

বা শুনিয়ে দিতে বাধ্য হয়।

কিন্তু, জ্ঞানী বা বুদ্ধিমান মানুষেরা অন্য কথা বলেন, তারা বলেন….


উচিত জবাব কখনো কথায় দিতে হয় না….

উচিত জবাব দিতে হয় কাজ দিয়ে !!

নিজের সাথে প্রতিযোগিতা করে !!

নতুন কিছু করে ,প্রতিষ্ঠিত হয়ে ।

Lamborghini এর মালিক একজন ট্রাক্টর মেকানিক
Lamborghini এর মালিক একজন ট্রাক্টর মেকানিক

চলুন একটা গল্প শোনা যাক !

নামকরা ব্র‍্যান্ড Lamborghini এর নাম তো নিশ্চয়-ই আমরা সবাই কম বেশি শুনেছি !!

কিন্তু আপনি কি জানেন…

এই Lamborghini এর মালিক একজন ট্রাক্টর মেকানিক ??

ফেরুচ্চিও ল্যাম্বোরগিনি 1916 ইতালীর একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

ইটালীর এক গ্রামে কৃষকের ঘরে জন্ম হয় ফেরুচ্চিও ল্যাম্বোরগিনির।

তিনি ছেলেবেলায় অতি শান্ত প্রকৃতির একজন মানুষ ছিলেন ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফেরুচ্চিও ল্যাম্বোরগিনি ইতালিয়ান বিমান বাহিনীরতে একজন মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন।

এ কাজের জন্য তাকে রোডস নামক একটি নির্জন দ্বীপে থাকতে হয়েছিল,

যেখানে তিনি নানা বিমান ও অন্যান্য ধ্বংসপ্রাপ্ত যানবাহনের মেরামতের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

সেখানে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন যানবাহনের পরিত্যক্ত যন্ত্রাদি ছিল

যা দিয়ে তাকে ধ্বংসপ্রাপ্ত যানবাহনগুলোকে মেরামত করতে হত।

ফেরুচ্চিও ল্যাম্বোরগিনি কিছুদিনের মাঝেই এই কাজে এতোটাই দক্ষ হয়ে গেলেন

যে তিনি সেখানকার সবথেকে সেরা মেকানিক হয়ে উঠলেন

নতূন কিছু করার সিদ্ধান্ত :

সেখান থেকেই তিনি ল্যাম্বরগিনি ট্রাক্টর তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফেরুচ্চিও ল্যাম্বোরগিনি মেকানিক হিসেবে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন ।

তা যুদ্ধের পর বাড়ি ফিরে এসে কাজে লাগাতে শুরু করেন।

যুদ্ধের পর তিনি নানা পরিত্যক্ত যানবাহনের নানা যন্ত্রাংশ জোগাড় করে শুরু করে দিলেন তার নামের ব্র্যান্ডের ট্রাক্টর বানানো।

যা বাজারে তখনকার সময়ে প্রচুর নামডাক করে।

আর অল্প সময়ের মাঝেই ফেরুচ্চিও ল্যাম্বোরগিনির ভাগ্য খুলে যায়।

শুরু হয় ল্যাম্বোরগিনি ব্র্যান্ডের পথচলা ।

যুদ্ধ শেষে নিজের মেকানিক্যাল দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে…

গড়ে তুলেছিলেন ট্রাক্টর তৈরী ও মেরামত করার ব্যবসা।

আস্তে ধীরে ব্যাবসা বড় হতে লাগলো…

ফেরুচ্চিও ল্যাম্বোরগিনির নিজের শখের Ferrari250GT  মডেলের একটি গাড়ি  !
ফেরুচ্চিও ল্যাম্বোরগিনির নিজের শখের Ferrari250GT মডেলের একটি গাড়ি !

ফেরুচ্চিও ল্যাম্বোরগিনি নিজের শখের জন্য Ferrari250GT মডেলের একটি গাড়ি কিনে ফেললো !

তখনকার সময়ে বিখ্যাত Ferrari ব্র্যান্ডের মালিক হয়ে গেলেন ফেরুচ্চিও ল্যাম্বোরগিনি।

Ferrari কেনা ও সমস্যার সূত্রপাত

তখন Ferrari খুবই জনপ্রিয় একটা ব্র‍্যান্ড !!

কিন্তু গাড়ি কেনার পরেই শুরু হলো যতো সমস্যা !!!

গাড়ির ক্লাচ নিয়ে ফেরুচ্চিও কিছুতেই শান্তি পাচ্ছিলেন না !!

তার কাছে মনে হলো এটাকে আরো ভালোভাবে তৈরী করা যেতে পারতো !!

যেই ভাবা সেই কাজ,

ফেরুচ্চিও ঠিক করলো….

বিষয়টা Ferrariকে জানাবে !

তার গাড়িতে সমস্যা হওয়ায় তিনি একদিন তার গাড়িটিকে মেরামত করানোর উদ্দেশে ফেরারীর হেড কোয়ার্টার এ নিয়ে যান।

সেখান থেকে গাড়িটি মেরামত করে পাঠানোর পর

তিনি দেখলেন ,যে তার গাড়িটিতে যে পার্টস্ টি বদলিয়ে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে

তা তিনি নিজের কোম্পানির ট্রাক্টর বানাতে ব্যবহার করেন।

ফেরুচ্চিও ঠিক করলো….

বিষয়টা ফেরারীকে জানাবে !

যেই ভাবা সেই কাজ,

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে…

তিনি সরাসরি যোগাযোগ করলেন ফেরারির প্রতিষ্ঠাতা এনজো ফেরারির সঙ্গে।

সমস্যা থেকে মতবিরোধ

এনজো ফেরারি প্রথমে তার কথা শুনলেন…

ফেরুচ্চিও ল্যাম্বোরগিনি এনজো ফেরারীকে পার্টস্ টি বদলিয়ে দেয়ার জন্য বিনীতভাবে আবেদন করলেন ।

Ferrari V/S lamborghini
Ferrari V/S lamborghini

এতে এনজোফেরারী ভীষণ ক্ষেপে গেলেন এবং ক্ষেপে গিয়ে

খানিকটা তাচ্ছিল্যের সুরে ফেরুচ্চিও ল্যাম্বোরগিনিকে বললেন,

“তুমি তো ট্রাক্টর বানাও।  গাড়ির তুমি বোঝ টা কি ?”

আর তুমি কি বুঝবে স্পোর্টস কার এর ?

ল্যাম্বরগিনি এই অপমান মেনে নিতে পারেননি ।

এই কথাটা মারাত্মকভাবে গায়ে লেগে গেল ফেরুচ্চিও ল্যাম্বোরগিনির !

ফেরারীর অফিস থেকে বের হয়ে চলে আসেন তিনি !

প্রতিজ্ঞা ও পদক্ষেপ

এরপর সিদ্ধান্ত নেন,

“আমি নিজেই এমন এক গাড়ি বানাবো, যা ফেরারিকেও হার মানাবে।”

বাড়িতে এসেই শুরু করলেন নিজের কোম্পানির জন্য স্পোর্টস কার এর এর ডিজাইন।

আর মাত্র চার মাসের মধ্যেই বানিয়ে ফেললেন নিজের কোম্পানির প্রথম স্পোর্টস কারটি।

প্রথম ল্যাম্বরগিনি গাড়িটির মডেল ছিল “ল্যাম্বরগিনি৩৫০জিটিভি”
প্রথম ল্যাম্বরগিনি গাড়িটির মডেল ছিল “ল্যাম্বরগিনি৩৫০জিটিভি”

তার বানানো প্রথম ল্যাম্বরগিনি গাড়িটির মডেল ছিল “ল্যাম্বরগিনি৩৫০জিটিভি”

এক নামে সবাই চেনে।

অনেকগুলো বছর পেরিয়ে যায়…

স্বপ্ন পূরন

১৯৬৩ সালে ল্যাম্বোরগিনি প্রতিষ্ঠিত হলো।

ডিজাইন আর শক্তিশালী ইঞ্জিনের জন্য এটি রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠলো।

এরপর থেকে ফেরারির সঙ্গে শুরু হয় ল্যাম্বোরগিনির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

Lamborghini এই পর্যন্ত 230,000 গাড়ি তৈরী করেছে পুরো বিশ্বে

কোম্পানীর মার্কেট ভ্যালুয়েশন €19.7 বিলিয়ন !!!

২০২৪ এর নভেম্বরের রিপোর্ট অনুযায়ী Lamborghini এখন আমেরিকান মার্কেটে Ferrari এর চেয়ে বেশী জনপ্রিয় !

আমাদের কি করনীয় ?

এখন একটু ভাবুন তো…

জেদ মানেই সফলতা
জেদ মানেই সফলতা

সেইদিনের সেই ট্রাক্টর মেকানিক যদি এই জেদ না করতো !!

যদি ভাবতো, ধুর ! আমি শুধু আমার কাজটাই করি !!

তাহলে কি কোনদিন Lamborghini তৈরী হতো ?

গল্পটা এরকম হতো ??

এমন অনেক ধরনের বাধা বিপত্তি আমাদের জীবনেও কিন্ত আমরা পেয়ে থাকি !!

মাঝে মাঝে মনে হয় এই বুঝি সব শেষ হয়ে গেলো !!

আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না !

নিজের উপর আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি !

আমরা এটা ভুলে যাই যে, “আমি না পারলে, পারবে কে ?”

যা করার আমাকেই তো করতে, হবে তাই না ?

নিজের জন্য এমন একটা গল্প লিখে যেতে হবে….

যেটা আমি গর্ব করে বলতে পারবো !!

যেটা আমার বন্ধু-বান্ধব ,আত্মীয়-স্বজন গর্ব করে বলতে পারবে ।

অনেকেই আমাদেরকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করবে !!

পিছনে ট্রল করবে, বার বার থামিয়ে দেবে !!

নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যেন…

আমাদের কাজ-ই একদিন আমাদের হয়ে সেই জবাবটা দিয়ে দেবে !!

সেজন্য ,আমরা যত খারাপ অবস্থা বা প্রতিকূলতার মধ্যেই পড়ি না কেন ,

কখনোই আমাদের ধৈর্য হারিয়ে পথ থেকে সরে আসা উচিত নয় ।

কখনোই উচিত নয়, আমাদের প্রতিজ্ঞা থেকে সরে আসা।

কখনোই উচিত নয়,

যে মানুষগুলো আমাদেরকে প্রতি পদে পদে অপমান করল

তাদেরকে জবাব না দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ।

মানুষ ইচ্ছা করলে হয়তো সব কিছুই করতে পারেনা !

কিন্তু অনেক কিছুই করতে পারে ।

যেটা ,

যারা তাকে আঘাত করেছে তারা স্বপ্নেও ভাবতে পারবে না ।

তারা গালে হাত দিয়ে ভাবতে থাকবে কি করে এই অসম্ভব সম্ভব হলো ?

এটা তো হওয়ার কথা ছিল না !

এরকম তো হওয়ার কথা ছিল না !

জেদ থাকলে সফলতা আসতে বাধ্য
জেদ থাকলে সফলতা আসতে বাধ্য

এই ধরনের Article আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন ।

Articleটি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-এর জন্য আমার facebookpage,

আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং

আমার দুইটি youtube channel 1. Learn Digitel Earn Momey ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

Visit My you Tube Channel
Visit My you Tube Channel


Leave a Comment