জর্জ ওয়াশিংটন একজন মহান মানুষের নাম । তিনি যে শুধু একজন রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন তা নয়। তার ভেতরে মনুষত্বের নানা গুণ নানাভাবে প্রকাশিত হয়েছিল এবং মানুষ সেগুলো অনুভব করতে পেরেছে। তিনি নিজের অবস্থানে থেকে ,সাধারণ মানুষের জন্য অনেক মানবিক হয়েছেন এবং মানুষকে মানবিকতা ফিরিয়ে দিতে ,মনে করিয়ে দিতে ,সচেষ্ট হয়েছিলেন এবং সেই বিষয়ে তিনি সফলও হয়েছিলেন ।

জর্জ ওয়াশিংটন : প্রকৃত মানুষ
জর্জ ওয়াশিংটন
জর্জ ওয়াশিংটন একদিন ভাড়াগাড়িতে করে কোথাও ঘুরতে যাচ্ছিলেন ।পথে তিনি দেখলেন কয়েকজন সৈন্য একটা ভারী কাঠের গুঁড়ি গাড়িতে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেও পারছে না এবং একজন সার্জেন্ট সেই কাজের তত্ত্বাবধান করছেন ।
জর্জ ওয়াশিংটনের মনে হলো আর একজন কেউ হাত লাগালে কাজটি খুব সহজেই হয়ে যেতো। কিন্তু হচ্ছে না,কারণ সার্জেন্টটি ছাড়া সেখানে আর কেউ ছিল না ।সার্জেন্টটি সৈন্যদের হুকুম করছেন, তাঁর পদমর্যাদা অনুযায়ী হম্বিতম্বি করছেন,কিন্তু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন না ।
এই কান্ড দেখে জর্জ ওয়াশিংটন গাড়ি থেকে নেমে সোজা সৈন্যদের কাছে গেলেন এবং কাঠের গুঁড়ি তোলার জন্য নিজের কাঁধ বাড়িয়ে দিলেন ।তাঁর সাহায্য পেয়ে সৈন্যরাও সহজেই কাঠের গুঁড়িটিকে গাড়িতে তুলে ফেললো । এই ধরনের আরো আর্টিকেল পাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন।
কাজ শেষ করে জর্জ ওয়াশিংটনওয়া তাঁর গাড়িতে ওঠার আগে সার্জেন্টকে বললেন : এই ধরনের কাজে যদি আবার আমার সাহায্যের প্রয়োজন হয়, দয়া করে আমাকে খবর দেবেন ।

জর্জ ওয়াশিংটন
সার্জেন্টটি পরে যখন জানতে পারলেন যিনি তাঁর কাজে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন, তিনি আর কেউ নন,আমেরিকার রাষ্ট্রপতি স্বয়ংজর্জ ওয়াশিংটন, তখন লজ্জায় তার মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছিল ।
সেই দিন থেকে তিনি প্রতিজ্ঞা করেন মানবিক অনুভূতি জলাঞ্জলি দিয়ে আর কখনো তিনি কারোর প্রতি অমানবিক হবেন না ।
পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, শুধু জর্জ ওয়াশিংটন নয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠিত বা স্বনামধন্য মানুষ নিজেদেরকে ওই উন্নত বৃত্তে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন তাদের মূল চরিত্র কিন্তু একই । অর্থাৎ তারা কখনোই নিজেদের মনুষত্ব, মানবিকতা বা দয়া ধর্ম থেকে নিজেদেরকে বিচ্যুত করেন নি ।
বলা যেতে পারে তারা নিজেদেরকে বিচ্যুত করতেও চাননি। এটা তখনই সম্ভব যখন, একজন মানুষ মনে প্রাণে আদর্শবান ও সৎ হন। যাকে মানুষের কাছে নিজের সততার বড়াই ঢাকঢোল পিটিয়ে করতে হয় না।
এই মানুষগুলো যে অবস্থা থেকেই উঠে আসুক না কেন, তারা কখনোই তাদের মা -বাবা- পরিবারের থেকে মানুষকে ছোট চোখে দেখার শিক্ষা পান নি । বরং শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেকে কিভাবে সৎ রাখতে হয়, সেই শিক্ষাটাই পেয়ে এসেছেন।
তাদেরকে আলাদাভাবে শিখতে হয়নি, কি করা উচিত ! কি করা উচিত নয়। তারা তাদের পরিবারের মানুষজনের আচার-আচরণ দেখে সেটা রপ্ত করে ফেলেছিলেন। শুধু তাই নয় , কখনোই তারা ক্ষুদ্র স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিপদগামীও হয়নি।
এখন প্রশ্ন হল এই মানুষগুলোর সামনে কি বিপথগামী হওয়ার কোন সুযোগই ছিল না ? তারা কি সুযোগ পান নি প্রচুর ধনসম্পত্তি ও ঐশ্বর্যের বিনিময়ে নিজেদেরকে বিকিয়ে দিতে ? অবশ্যই পারতেন। কিন্তু সেই কাজটি তারা করেননি। সেই কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে তাদের মন, মানসিকতা এবং পারিবারিক সুশিক্ষা।
জর্জ ওয়াশিংটন
এজন্য তারা জীবনে নানা বড় বড় সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বহু সময় গেছে যখন, তাদের প্রচন্ড কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করতে হয়েছে। তবুও তারা নিজেদেরকে খাটো করতে পারেননি। অসৎ করতে পারেননি।
আর সেই জন্যই আজও আমরা তাদের কথা বলছি, তাদের কথা পড়ছি, তাদেরকে নিয়ে আলোচনা করছি।

আর যে সমস্ত মানুষ এদের থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করেন। যারা প্রচুর পরিমাণে ধন-সম্পত্তি ,প্রভূত ক্ষমতা অধিকারের জন্য এমন কোন কাজ নেই, যেটা তারা করছেন না । তারা প্রচুর উপার্জনের জন্য নিজের মান সম্মান, বিসর্জন দিতে এতোটুকু দ্বিধাবোধ করেন না। তাদের অনেককেই বলতে শোনা যায়,” মান সম্মান ধুয়ে কি জল খাব?”
তাদের কাছে মান সম্মানের মূল্য সেভাবে নেই বললেই চলে। আর থাকবেই বা কিভাবে! আমরা যদি তাদের পারিবারিক বা তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশের কথা বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখা যাবে তারাও ওই ধরনের পরিবার থেকেই উঠে এসেছে। যাদের কাছে মান সম্মান মূল্যহীন। আর এই নিম্নমানের পরিবার থেকে উঠে আসা মানুষগুলোর থেকে আমরা কি-ই বা পেতে পারি!
যত দিন যাচ্ছে, মানুষের ভিতরে বাহ্যিক চাকচিক্য ও আড়ম্বর- এর আধিক্য দেখা যাচ্ছে, ততই যেন মানুষের বিপথগামীতা বেড়ে যাচ্ছে। এই বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা এতই বেশি , কোন প্রতিরোধ-ই যেন সেখানে কাজ করছে না। সততার মন্ত্র সেখানে অকেজ হয়ে যায়।
এই বিপথগামীতা আজকে সমাজের বিভিন্ন অংশকে কুরে কুরে খাচ্ছে। বেশি বেশি দেখা যাচ্ছে রাজনীতি, শিক্ষা. স্বাস্থ্য ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে।
আগে যেমন সাধারণ মানুষ উচ্চ শিক্ষিত বা বুদ্ধিজীবী মানুষদের কাছ থেকে পক্ষপাতহীন অভিমত আশা করত। বর্তমানে সেটা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। কেউই যেন মন খুলে, মুখ খুলে সত্যি কথাগুলো বলতে পারছে না। সবাই যেন কোন একটা অদৃশ্য হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
যেখানে তাঁর বা তাদের থেকে প্রতিবাদের তীব্র ঝলক আসা উচিত ছিল, তার বদলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসছে কাউকে না কাউকে খুশি করার বা নিজে ভালো থাকার একটা স্বার্থপর প্রবণতা।
আগের মহান মানুষদের মধ্যে কিন্তু এই ধরনের আচরণ দেখা যায় নি। এমনকি দেখা গেলেও তারা কঠিন আত্মসংগ্রামের মাধ্যমে নিজেদেরকে সঠিক পথে পরিচালনা করেছেন। সেজন্য যতদিন যাচ্ছে তত ফেলে আসা দিনের মহান মানুষগুলোর জীবন ও জীবন কাহিনী মানুষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তাদের জীবনে থেকেই মানুষ খুঁজে নিতে চাইছে, নিজেদের জীবনের সঠিক পথের সন্ধান। আপনি যদি চান সেই ধরনের জীবনের অংশীদার হতে তাহলে আমার সঙ্গে যুক্ত থাকুন।এখানে Click করে এরকম মহান জীবনের কাহিনী পেতে পারেন । নিজেদের মত ও পরামর্শ আমার সঙ্গে আলোচনা করুন। যদি ভালো লাগে তাহলে আপনার পছন্দের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করুন।
আজ এই পর্যন্ত। আবার দেখা হবে, পরের কোন আর্টিকেলে। ততক্ষণ পর্যন্ত আপনারা সুস্থ থাকবেন ভালো
এই ধরনের Article আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন । Articleটি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-ও Human Psychology বিষয়ক নানা Information এর জন্য আমার Face Book Page,
আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং
আমার দুইটি YouTube channel 1. Learn Digital Earn Money ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

