সন্তান মানুষ হবেই 100% !

সন্তান মানুষ হবেই । প্রত্যেকটি বাবা-মা-ই চায় তার সন্তান মানুষের মত মানুষ হোক । কিন্তু বাস্তবে ঘটে সম্পূর্ণ বিপরীত বা অন্যরকম ঘটনা ।আমরা আমাদের সন্তানকে ঠিকমতো মানুষ করতে চাইলেও তারা কেন ঠিকঠাক মানুষ হয়ে ওঠে না ,সেই তথ্য কিন্তু আমরা ভিতরে ঢুকে একবারও সেভাবে ভাবি না । আমরা ভাবি ,আমি বা আপনি আপ্রাণ চেষ্টা করে, ভীষণ আদর যত্নে ,যা কিছু চাইলে সবকিছু দিয়ে তাকে তো বড় করতে চায়। কিন্তু এমন হলো কেন ?

সন্তান মানুষের মত মানুষ হোক
সন্তান মানুষের মত মানুষ হোক

আসলে ,আমরা যেটা চাই সেটা হয় না , তার কারণ হলো ,যেভাবে মানুষ করলে আমাদের সন্তান মানুষের মত মানুষ হয়ে ওঠে সেই বিষয়টি আমাদের সকলের জানা থাকে না বা জানা থাকলেও আমরা সেই বিষয়টাকে ততটা গুরুত্ব দেই না ।

 সন্তানের সঙ্গে একজন অভিভাবক বা বাবা-মায়ের কিভাবে চলা উচিত ? সেটা এই গল্পটা পুরো পড়লে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

যদিও এটা গল্প ।

বাস্তবের সাথে সব সময় ঠিকঠাক মিলবে না ।

তবুও আমরা দেখে নিতে পারব গল্পের চরিত্রটি যা যা করছে সেগুলো কি আমরা আমাদের বাচ্চার সাথে করি ? না-কি করতে পারি ?

 গল্পে বর্ণিত বিবরণটা হয়তো অতিরঞ্জিত !

হয়তো একটা বাচ্চা বা একটা সন্তান খুব সহজে বিষয়গুলো বুঝে উঠতে পারে না বা বোঝেনা।

কিন্তু আমরা যদি প্রতি পদে তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। তাহলে কিন্তু অনেকটাই সফল হওয়া যায়।

এক্ষেত্রে বাবা মা দুজনকেই কিন্তু একই মানসিকতায় তৈরি হতে হবে ।

 কারণ ,কোন বিষয়ে হয়তো বাবা সন্তানটিকে কোন কিছু দিতে অস্বীকার করলো

কিন্তু মা বা অন্য কেউ সেটাই হয়তো লুকিয়ে সেই সন্তানটি হাতে তুলে দিল। তাহলে কিন্তু হবে না !

 পরিবারের অন্য মানুষগুলোকে বুঝতে হবে, একজন যখন তার সঙ্গে কোন একটা বিশেষ আচরণ করছে, কোন কিছু দিতে চাইছেন না ।

নিশ্চয়ই তার পিছনে তার কোন উদ্দেশ্য আছে ।

 বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, আমাদের সন্তান- সন্ততি অতি আদরেই কিন্তু নষ্ট হয়ে যায় ।

তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যায় ।

অতি আদরের ফলে সে মানুষকে সম্মান করতে ভুলে যায়।

অতি আদরে ,তারা নিজেদেরকে সবকিছু পাবার অধিকারী ভাবতে থাকে।

অতি আদরে তারা নিজেদেরকে রাজা ভাবতে শুরু করে এবং এদের আচরণও কিন্তু ভালো হয়না ।

 এই লেখাটা আমি সংগ্রহ করেছি । লেখকের নাম জানি না । কেউ যদি লেখকের নাম জেনে থাকেন ?  আমাকে অবশ্যই জানাবেন ।

 মন দিয়ে গল্পটা পুরোটা পড়বেন।

বোঝার চেষ্টা করবেন এবং সম্ভব হলে, নিজের জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করবেন।

চলুন এবার গল্পটা মন দিয়ে পড়ে ফেলা যাক……

মন দিয়ে গল্পটা পুরোটা পড়বেন।
মন দিয়ে গল্পটা পুরোটা পড়বেন।

বিত্তবান হওয়া সত্ত্বেও আমি আমার একমাত্র ছেলেকে কখনো দশ টাকার বেশি টিফিন খরচ দেইনি।

সে বরাবরই তার বন্ধুদের দেখিয়ে বলে,

বাবা দেখো , আজ রাজু ব্রাণ্ডেড ঘড়ি পরে এসেছে।

বাবা দেখো ,তাপসের স্কুল ব্যাগটা ইম্পোর্টেড।

সুন্দর না বাবা !

আমি মাথা নাড়িয়ে শুধু সম্মতি জানাই।

আমার ছেলের সাহস কিন্তু হয়নি কখনো Same জিনিসটা চাওয়ার।

একদিন তার পায়ে সামান্য ব্যথা।

স্কুল যাওয়ার সময় বললো,

বাবা আমাকে তোমার সাথে অফিসের গাড়িতে নিয়ে স্কুলে নামিয়ে দেবে ?

আমি তার সমস্যার কথা বিবেচনা করে বললাম ঠিক আছে।

এরপর প্রায় এক সপ্তাহ সে আমার সাথেই গেলো।

আমি চুপচাপ তাকে নামিয়ে দিতাম।

আমার ছেলের এখন দেখছি হেঁটে যেতে ইচ্ছে করছে না।

পরেরদিন সকালে আমাকে বলার আগে আমিই বলে দিলাম ,

অফিসিয়াল জিনিস ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিষিদ্ধ।

বাড়ি থেকে স্কুল দশ মিনিটের পথ নির্দিষ্ট সময়ের আরোও কিছুক্ষণ আগে বের হবে হেঁটে যেতে পারবে।

ছেলে আমার প্রচন্ড মন খারাপ করে বসে রইলো।

এদিকে আমার স্ত্রীও মন খারাপ করে বসে আছে।

আমি কেন করি এমন !

এর উত্তর জানা নেই।

আজ সন্ধ্যায় ছেলে বাড়িতে এসেই আমাকে বলেছে ,

জানো আমার বন্ধু তুহিন শহরের সবচেয়ে সেরা স্কুলে ভর্তি হয়েছে।

আমিও ………

বলার আগেই আমি তাকে থামিয়ে জানতে চাইলাম

বাবা , প্রতিষ্ঠান সেরা হয় নাকি ছাত্র ?

ধরো আমি তোমায় সেই স্কুলে দিলাম কিন্তু তুমি ফেল করলে কোনো সাবজেক্টে ,

তাহলে আমি কি বলবো , তুমি ফেল নাকি স্কুল ?

ছেলে বললো বুঝেছি বাবা।

আমি তার মাথায় হাত দিয়ে বললাম

প্রতিষ্ঠান সেরা হয় নাকি ছাত্র ?
প্রতিষ্ঠান সেরা হয় নাকি ছাত্র ?

এখন পর্যন্ত তোমার ক্লাসের কোনো ছেলেই তোমাকে টপকে যেতে পারেনি।

তুমিই ফার্স্ট বয়।

সুতরাং , তুমি যেখানে সেরাটা দেবে ,সেই স্থানই সেরা । তোমার মতো !

এরপর সে আর এরকম কোনো কথা বলেনি।

আজ বিকেলে ছেলে বলছে,

বাবা একজন এক্সট্রা টিউটর দরকার।

আমার ম্যাথ ও ইংলিশে একটু সমস্যা হচ্ছে।

আমি ছেলেকে বললাম বাবা একটু কষ্ট করতে হবে।

আমি যখন রাতে বাড়িতে ফিরবো ,

সেটা যখন-ই হোক রাত ন’টা কিংবা দশটা,

আমার কাছেই তোমাকে ম্যাথ আর ইংলিশ করতে বসতে হবে।

বাবা তুমি পরিশ্রম করে বাড়ি আসো তাই না ?

আমি হেসে বললাম,

না বাবা। আমার কাছে এতো টাকা নেই ,তোমাকে এক্সট্রা টিউটর দেওয়ার মতো।

আমি বরং একটু কষ্ট করি। কি বলো ?

ছেলে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো ঠিক আছে বাবা।

স্ত্রী রাতেরবেলা জিজ্ঞেস করলো, তুমি তো এরকম দশটা টিউটর রাখতে পারো । কিন্তু !

কিন্তু , আমি চাই

আমার সন্তান বুঝুক আরাম করে কিছু পাওয়া যায় না। 
মানুষের জীবনে অভাব আসলে তা কিভাবে মোকাবিলা করতে হয় সে বুঝুক ও সে শিখুক।
 কোনো কিছুই মন্দ নয় সে বুঝুক।

আমার স্ত্রী চুপ হয়ে গেল।

মাঝে মাঝে আমার ছেলেকে নিয়ে আমি ফুটপাতে হাঁটি।

পথশিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানুষের সম্পর্কে জানাই।

সে জানুক

পৃথিবী শুধু চিন্তায় সুন্দর। বাস্তবে খুব কঠিন।

আমি চাওয়া মাত্রই তাকে কখনোই কিছু দিই নি।

একদিন সে বলেছিলো,

বাবা তুমি এরকম কেনো ?

তাকে বলেছিলাম সময় হলে বুঝবে।

দুই তিন আগে সে বায়না ধরলো , ইলিশ ও মাটন-বিরিয়ানি খাবে।

তাকে বললাম আমার কাছে তো অতো টাকা নেই।

তোমার কাছে কিছু আছে ?

থাকলে ইলিশ আনা যাবে।

ছেলে পঞ্চাশটি দশ টাকার নোট বের করে আমার হাতে দিল।

আমি অবাক হয়ে বললাম তুমি খরচ করোনি ?

সে মুচকি হাসি দিয়ে বললো, না বাবা। জমিয়েছি।

আমার পরিচিত এক বন্ধু অতনু স্কুলে না খেয়েই আসে।

ছেলে  পঞ্চাশটি দশ টাকার নোট বের করে আমার হাতে দিল।
ছেলে পঞ্চাশটি দশ টাকার নোট বের করে আমার হাতে দিল।

কোনো টাকাও নেই তার কাছে।

আসলে সে খুব অসহায় ।

আমি মাঝে তাকে ক্ষুধার্ত দেখে তার যন্ত্রণা বুঝতে পারি ।

সেদিনই আমরা দুজনে একসাথে খাই ।

কারন, তখন সে ভীষণ খুশী হয়ে আমার সাথে খায় ।

অন্যান্য দিনগুলোতে আমি টাকা খরচ করিনা। জমিয়ে রাখি ।

,বাড়ি থেকে মা যা দেয় তা-ই যথেষ্ট ।

কারন, কিছু মানুষের সামান্যটুকুও খাবারও জোটে না।

আমি ছেলের দিকে তাকিয়ে আছি।

সেই গুছানো টাকা নিয়ে আরোও টাকা মিলিয়ে ইলিশ এনে ছেলেকে ইলিশ ও মাটন-বিরিয়ানি খাওয়ালাম।

ইচ্ছে করেই অভাব -অনটন অনুভব করাই ।

যাতে, সে বুঝতে পারে, জীবনটা কঠিন। অনেক কঠিন।

পূজোর বাজারে গিয়ে তাকে বলেছি সাধ্যের মধ্যে জামা-কাপড় নিতে।

সে একটা প্যান্ট নিয়েছে শুধু।

জানতে চাইলে বলে তোমার জন্য পাঞ্জাবি আর মায়ের জন্য শাড়িও তো কিনতে হবে !

আমি হাসলাম।বেশ ভাল লাগলো !

সে বুঝতে শিখেছে টাকা কিভাবে খরচ করতে হয়।

একদিন বসে বসে বলছে

বাবা, সায়নটা আর মানুষ হলো না অথচ আংকেল তার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন।

যা চেয়েছে সে, তার সবটাই তাকে দিয়েছেন।

আমি ছেলেকে বললাম,

আমি ও তো তোমাকে অনেক কিছুই দিতে পারিনি ?

ছেলে আমার কোলে মাথা রেখে বললো

প্রতিটা চাহিদা পূরন না করে শিখিয়েছ ,অভাবে যেন স্বভাব নষ্ট না হয়।

বাবা ,তুমি জীবনের যে শিক্ষা দিয়েছ তা সব কিছুর ঊর্ধে।

 তুমি শিখিয়েছ অভাবকে কিভাবে ভালবাসতে হয়। 

আমি এখনএটা বুঝে গেছি , আমার বাবার আমি ছাড়া কিছুই নেই।

বাকীটা আমাকে করে নিতে হবে।

সবকিছু ইউটিলাইজ করতে হবে।

আমি সাধারণ জামাকাপড়েও হীনমন্যতায় ভুগি না বাবা।

কারন আমি জানি আমি কে !

বাবা ,তোমার দেওয়া শিক্ষা আমি সারাজীবন ধরে রাখবো ।

চাওয়া মাত্রই পেয়ে গেলে আমি কখনো জানতামই না পঞ্চাশ দিন না খেয়ে টিফিন মানি জমালে পাঁচশো টাকা জমা হয়। 

তুমি আছো বলেই সম্ভব।

আমি মানুষকে মানুষের চোখে দেখি।

আমি বুঝি জীবন কতো কঠিন।

আমার স্ত্রী নিজে থেকেই আজ খুব খুশি।

বুঝতে পেরেছেন আমার উদ্দেশ্যটা।

প্রায় দশ বছর পর ছেলে প্রাইভেট কার কিনেছে নিজের রোজগারে।

হাসতে হাসতে বলে বিগত পাঁচ বছরে টিফিনের টাকা আর বোনাসের টাকা জমিয়ে এটা কিনেছি।

বুঝতে পেরেছিলাম ছেলে আমার সঞ্চয়ী হয়েছে।

সাথে হয়েছে মানুষও।

সপ্তাহ খানিক পর যাবতীয় সম্পত্তি তার নামে লিখে দিয়ে বললাম সামলে রেখো।

ছেলে দলিল আমার হাতে দিয়ে বললো তোমরা সাথে থেকো।

আর কিছু লাগবে না।

আজ তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আমার স্ত্রী নীলিমাকে বললাম

দেখেছ, আমি ভুল করিনি।

ছেলে মানুষও হয়েছে ।
ছেলে মানুষও হয়েছে ।

আমি আমার সন্তানকে মানুষ করতে গিয়ে জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাটাই দিয়েছি।

যেমনটা আমার বাবা দিয়েছিলেন আমাকে।

আমি অভাবে সন্তানকে লজ্জিত হওয়া নয় বরং দৃঢ় থাকতে শিখিয়েছি।

সংগৃহীত ।

এই ধরনের গল্প আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন ।গল্প টি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-ও Human Psychology বিষয়ক নানা Information এর জন্য আমার facebookpage,

আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং

আমার দুইটি youtube channel 1. Learn Digital Earn Money ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন
ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন

Leave a Comment