কোকিলা পারেখ :বুড়ো বয়সের ভেলকি

কোকিলা পারেখ অলস বসে থাকার পাত্রী নন ! ৭৯ বছর বয়সী এই নারী লকডাউনের সময় নিজের KT চা-ই মশলা ব্র্যান্ডের মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন। ইচ্ছে যদি দৃঢ় হয় , তাহলে 79 বছর বয়সেও নিজের ব্যবসা শুরু করা যায় এবং সফল হওয়া যায় I কোকিলা পারেখ যে শুধু নিজের সাফল্য অর্জন করেছেন তাই নয় অনেক দরিদ্র মহিলাকে কর্মসংস্থানও দিয়েছেন I

কোকিলা পারেখ :বুড়ো বয়সের ভেলকি
কোকিলা পারেখ :বুড়ো বয়সের ভেলকি

উদ্যোগী হওয়ার কোনও বয়স নেই।

মুম্বইয়ের কোকিলা পারেখ প্রমাণ করেছেন, উদ্যোগী হওয়ার কোনও বয়স নেই।

৭৯ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা

লকডাউনের মধ্যেও তার নিজস্ব ব্র্যান্ড – KT চা-ই মশলা – শুরু করেছিলেন ।

মুম্বই, পুনে, আহমেদাবাদ এবং বেঙ্গালুরুতে তিনি ধামাকা করেছিলেন থেকে ৫০০ টিরও বেশি অর্ডার পেয়ে !

“আমি অ্যাকটিভ থাকতে ভালোবাসি I

আমি বিশ্বাস করি যে, যদি আপনার কোন শখ বা দক্ষতা থাকে তবে তা কাজে লাগানো উচিত।

একবার শুরু করলে, বয়সটা কোন ব্যাপার না।”

কোকিলা পারেখ,

ছেলে তুষার এবং পুত্রবধূ প্রীতির সাথে মুম্বাইতে বসবাস করেন,

কোকিলা পারেখ একজন সাধারণ গৃহিণী ও উৎসাহী রাঁধুনি ছিলেন এবং পুরোপুরি Housewife ছিলেন ।

তার বাড়িতে আসা সমস্ত অতিথি তার বিশেষ মশলা দিয়ে তৈরি চা না খেয়ে ফিরতেন না,

তার পরিবার এবং বন্ধুরা তার বানানো সুস্বাদু গুজরাটি খাবার এবং

‘গোপন’ মশলা গুঁড়ো দিয়ে তৈরি বিশেষ চায়ের স্বাদ উপভোগ করেছেন।

চা শেষ হয়ে গেলে, অনেক অতিথি চায়ের অনেক প্রশংসা করতো ।

এবং তাদের জন্য আবারও চা বানাতে বলত !

নেশা যখন পেশা

এই ‘গোপন’গুঁড়ো মশালার গোপন তত্ত্ব তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে ।

এটি শুকনো আদা গুঁড়ো, গোলমরিচ, লেবু গুঁড়ো এবং এলাচের মতো বিভিন্ন উপাদান দিয়ে নির্দিষ্ট অনুপাতে তৈরি করা হয়।

যদি একটি বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়, তবে এটি ছয় থেকে আট মাস স্থায়ী হয়।

যে সমস্ত অতিথি কোকিলা পারেখ-এর বাড়িতে আসতো ,

যাওয়ার সময় কোকিলা পারেখ কিছু মশলা অতিথিদের প্যাক করে দিয়ে দিতেন উপহার স্বরূপ।

একটি অনলাইন পোর্টালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোকিলা পারেখ বলেন,

“অতিথিরা যাবার সময় অনেকেই চা তৈরির এই বিশেষ মশলাটি চাইতো । আমি তাদের জন্য মশলার পাউডার প্যাক করে দিতাম।

লকডাউনের আগে,

কোকিলা পারেখ রান্না করে,

বাড়ির কাজ দেখাশোনা করে,

পুত্রবধূর সাথে সময় কাটাতে এবং মন্দির পরিদর্শন করে,

বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটাতেন।

লকডাউন

কিন্তু লকডাউনের সময়,

লকডাউন শুরু হওয়ার পর,

তিনি আর ঘর থেকে বের হতে পারছিলেন না। এবং কোথাও যেতে পারছিলেন না;

যখন কোন আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব কোকিলার বাড়িতে আসতে পারছিল না ।

তখন তার অনেক অবসর সময় ছিল। তিনি এই অবসরকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি লক্ষ্য করেছিলেন ,

তার তৈরি চা বানানোর এই বিশেষ মশলা পাউডার কেবল চায়ের স্বাদই বাড়ায় না

বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায় এবং হজমশক্তিও উন্নত করে”।

বছরের পর বছর ধরে তার চা মশলা পাউডারের চাহিদা দেখে,

তিনি তার চা মশলা বানানোর দক্ষতাকে ব্যবসায় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেন।

এই সময়ই নিজের ব্র্যান্ড শুরু করার ধারণা আসে।

কোকিলা তার পরিবারের সহায়তায় 2020 সালের অক্টোবরে একটি ছোট চা মশলার ব্যবসা শুরু করেন I

79 বছর বয়সে জীবনের একটি নতুন ইনিংস শুরু করেন।

 KT চা-ই মশলা, যার অর্থ 'কোকিলা এবং তুষারের চা-ই মশলা',
KT চা-ই মশলা, যার অর্থ ‘কোকিলা এবং তুষারের চা-ই মশলা’,

তিনি নিজের নাম এবং ছেলে তুষারের নাম একত্রিত করে এর নামকরণ করেন ‘KT চা-ই মশলা’।

এভাবেই, KT চা-ই মশলা, যার অর্থ ‘কোকিলা এবং তুষারের চা-ই মশলা’, গঠিত হয়।

তুষার তার ছোট ছেলে ।যার সুতো তৈরির নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে।

তিনি তার মাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন।

এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি লোগোটি ডিজাইন করেন ।

মশলার জন্য প্রয়োজনীয় মশলা বেশি পরিমানে সংগ্রহ করার জন্য বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করেন।

তিনি মশলা চা পাউডার সংরক্ষণ এবং সারা দেশে পাঠানোর জন্য উপযুক্ত প্যাকেজিং উপাদানও সংগ্রহ করেন।

যখন তিনি এই চা মশলা বিক্রি শুরু করেছিলেন,

তখন করোনার ভয়ে প্রতিটি বাড়ির লোকেরা বিশেষ ভাবে তৈরি একধরনের পানীয় পান করছিল।

পরিস্থিতি

এমন পরিস্থিতিতে,

কোকিলা ভেবেছিলেন যে, তার মশলা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করবে

এবং সেটাই ঘটেছিল।

কিছুদিনের মধ্যেই, তার তৈরি মশলা সারা দেশে বিক্রি শুরু হয়ে গেল।

ছোট ছোট ব্যাচে এটি করার পর, পারেখ এটি বড় পরিমাণে তৈরিতে এগিয়ে যান।

তার পুত্রবধূ প্রীতি একই সাক্ষাৎকারে জানান,

“প্রাথমিকভাবে মা ( কোকিলা পারেখ ) আমাদের রান্নাঘরে একটি নিয়মিত মিক্সার গ্রাইন্ডার ব্যবহার করে মশলা তৈরি করতেন,

কিন্তু যখন তিনি এটি বেশি পরিমানে প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেন।

তখন আমরা একটি বাণিজ্যিক মিক্সিং ইউনিট কিনেছিলাম ।

যেটা প্রচুর পরিমাণে মশলা তৈরিতে সাহায্য করেছিল।

মশলাটি তখন বায়ুরোধী প্যাকেটে প্যাক করা হয়, যার সাথে একটি জিপলক সিলার থাকে।

এটি পণ্যের শেলফ-লাইফ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

Business যখন Brand

যদি কেউ ভ্রমণের সময় পাউডারটি তাদের সাথে বহন করতে চান, তবে এটি সহজেই করা যেতে পারে।”

“আমরা একজন থার্ড-পার্টি বিক্রেতার কাছ থেকে প্যাকেট তৈরি করেছি, এবং সেখানে আমাদের লোগোও ছাপানো হয়েছিল।”

আজ কোকিলা প্রতিদিন 500 টিরও বেশি প্যাকেট চা মশলা বিক্রি করছেন, যা

50 গ্রাম,

100 গ্রাম এবং

250 গ্রামের প্যাকেটে পাওয়া যায়

এবং এর দাম 125 টাকা থেকে 625 টাকার মধ্যে।

তার চা মশলার ব্যবসায়,

যারা খুব দরিদ্র পরিবারের।

তিনি শুধুমাত্র সেইসব মহিলাদের কাজ দিয়েছেন

এই প্রক্রিয়াটি কোকিলা এবং গৃহকর্মীদের মধ্যে সম্পন্ন হয়।

তিনি নিজে মশলা তৈরি করলেও, তারা এটি প্যাকেটজাত করে।

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য সকলেই যথাযথ মাস্ক, গ্লাভস এবং চুলের জাল পরেন।

চা মশলাটি ৫০ গ্রাম, ১০০ গ্রাম এবং ২৫০ গ্রাম আকারে প্যাকেজ করা হয়।

আজ ৮0+ বছর বয়সেও তিনি তার দক্ষতা এবং চিন্তাভাবনার কারণে একজন সফল ব্যবসাযী I

ইতিমধ্যেই এই KT চা-এ মশালা একটি Successful ব্র্যান্ডে পরিনত হয়েছে।

KT চা-এ মশালা একটি Successful ব্র্যান্ডে পরিনত হয়েছে।
KT চা-এ মশালা একটি Successful ব্র্যান্ডে পরিনত হয়েছে।

এই ব্র্যান্ডের সাফল্য .নিসন্দেহে নতূন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করবে ।

তথ্য সূত্র

আর্টিকেলটি লেখার জন্য আমি তথ্য সংগ্রহ করেছি The Better India-Bangla এবং femina.com থেকে I প্রয়োজনে আপনারা এই লিংকে Click করে The Better India-Bangla ও femina.com-এ গিয়ে মূল লেখাটি দেখে নিতে পারেন ।

এই ধরনের Article আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন । Articleটি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-এর জন্য আমার facebookpage,

আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং

আমার দুইটি youtube channel 1. Learn Digitel Earn Momey ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন
ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন

নমস্কার।

Leave a Comment