সুলথা কামাথ : অদম্য ইচ্ছা শক্তির প্রতিমূর্তি ।

সুলথা কামাথ – এই নামটিই যথেষ্ট । জীবন সংগ্রাম সম্পর্কে ,জীবনের লড়াই সম্পর্কে অনেক কিছু শেখার আছে এই মানুষটার কাছে। কি অভাবনীয় জীবনী শক্তি , কি প্রচন্ড মনের জোর এবং লড়াই করার মানসিকতা সেটা লিখে বা মুখে বলে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

অদম্য ইচ্ছা শক্তির প্রতিমূর্তি
অদম্য ইচ্ছা শক্তির প্রতিমূর্তি
সমস্যাহীন জীবন হয় না  ! মানুষের জীবন মাত্রেই নানা রকমের বাধা-বিপত্তি আসবে। সেগুলোকে অনেক সময়ই আমরা জয় করতে পারি না । আমরা ভাবতে থাকি , এই সমস্ত সমস্যা শুধু আমার জীবনেই আছে  !  অন্য কারোর জীবনে এই ধরনের সমস্যা নেই  !  সেজন্যই তারা জীবনে এগিয়ে যেতে পারছে । এই ধারণাটা খুবই ভুল । কারণ , আমরা অন্যের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সম্পর্কে কখনোই সেভাবে জানতে পারি না বা বলা যেতে পারে ,আমরা অন্যের জীবন জীবনের ঘটনা সম্পর্কে জানার চেষ্টাও সেভাবে করিনা । আমরা নিজের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতেই বেশি ভালোবাসি । নিজের সমস্যাকে ই বড় করে অন্যের সামনে উপস্থাপিত করতে ভালোবাসি । সে জন্য সবসময় আমাদের নিজের সমস্যা সব থেকে বড় হয়ে দেখা দেয় । এই দৃষ্টিভঙ্গি ছেড়ে যদি আমরা একটু বাইরের দিকে, খোলা নজরে দেখি, একটু পড়াশুনা করি, একটু খোঁজখবর নিই , দেখা যাবে -- অনেকের থেকেই আমাদের সমস্যা অনেক কম।  চলুন আজকে ৭০ পেরিয়ে যাওয়া একজন মানুষের জীবন সংগ্রামের ঘটনাটা একটু দেখে নেওয়া যাক , দেখুন তো আপনার সমস্যা ওনার সমস্যার  থেকেও আরো বেশি কিনা ?

সুলথা কামাথ :

যার কাছে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র।

৭০ পেরিয়েও তিনি যেন তাঁর ‘সুইট 16 ’-এই আছেন।

একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন ৭৩ বছরের অ্যাথলিট সুলথা কামাথ।

গত বছর, ১০ নভেম্বর ২০২৪ নিভিয়াস ম্যাঙ্গালোর ২১ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড়ে নাম দিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন তিনি।

শুধু তাই নয়,

একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন ৭৩ বছরের অ্যাথলিট সুলথা কামাথ।
একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন ৭৩ বছরের অ্যাথলিট সুলথা কামাথ।

২১ কিলোমিটার দৌড়তে তাঁর সময় লেগছে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড।

দৌড়ানোর সময় পায়ে সুরক্ষার জন্য থাকে কেবল মোজা।

WTN মিডিয়াকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সুলথা কামাথ বলেন,

“আমার বয়স ৭৩ বছর।

আমি ৬০ বছরের বৃদ্ধদের সঙ্গে দৌড়োয় ,আবার ১৩ বছরের তরুণ তরুণীদের সঙ্গে দৌড়েও প্রথম স্থান অধিকার করেছি।

সুলথা কামাথ-এর ৩০ বছরের অ্যাথলিট জীবনে গোটা বিশ্ব জুড়ে বহু প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।

সারা জীবনে ১১০০ মেডেল জিতেছেন তিনি।

যার মধ্যে ২২টি আন্তর্জাতিক মেডেল।

নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি সুলথার যত্ন দেখলে অবাক হতে হয়।

টাইমস অফ ইন্ডিয়া’কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সুলথা কামাথ বলেন, “ আমি চশমা পরি না “।

সম্প্রতি, একজন চিকিৎসক অবাক হয়েছিলেন যে , আমার কোন বিপি বা ডায়াবেটিসের সমস্যা নেই।”

তরুণ প্রজন্মকেও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের প্রতি উৎসাহিত করেনন তিনি।

কেবল দৌড়ে নয়,

সারা জীবনে ১১০০ মেডেল জিতেছেন তিনি।
সারা জীবনে ১১০০ মেডেল জিতেছেন তিনি।

ক্যারাটেতেও দক্ষ সুলথা কামাথ ।

তিনি ব্রাউন বেল্টের অধিকারী।

তাঁর বড় মেয়ে ৩৫ বছরের স্মিতা কিনির সঙ্গেই একসঙ্গে ক্যারাটের প্রশিক্ষণ নিতেন সুলথা।

জেষ্ঠ্য কন্যা স্মিতি ব্ল্যাক বেল্টের অধিকারী।

এত কিছু পরেও সুলথার যাত্রাপথ কোনও দিন সহজ ছিল না।

এমনকি মাত্র ৮ মাস আগে, সুলথা তাঁর ৩০ বছরের ছেলে সন্দীপ কামাথকে হারিয়েছেন।

তবু তিনি থেমে থাকেননি।

সন্দীপের জলের ব্যবসা পরিচালনার মধ্যে দিয়েই শান্তি খুঁজে পান তিনি।

৭৩ বছর বয়সেও সুলথার এই স্বাস্থ্য সচেতনতা, ফিটনেস এবং বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছা পরবর্তী প্রজন্মকেও অনুপ্রেরণা জোগায়।

সেই জন্য,

নিজের সমস্যাকে খুব বড় করে না দেখে ,যদি আমরা আমাদের সমস্যা থেকে বেরিয়ে এসে বা সমস্যাগুলোকে পাশে সরিয়ে রেখে,

এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা এই মানুষগুলোর কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারি এবং আমাদের জীবনের ক্ষেত্রে সেগুলোর প্রয়োগ ঘটাতে পারি ,

তাহলে কিন্তু আমরা শুধুমাত্র হা-হুতাশ এবং মনকষ্টে আমাদের জীবনযাপন করতে হবে না।

এই মানুষগুলো সত্যি সত্যি তাদের জীবনে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন সমস্যাকে কিভাবে পাশে রেখে এগিয়ে যেতে হয় ।

এগিয়ে গিয়ে কিভাবে সফলতা পেতে হয় ।

সফলতাকে কিভাবে ধরে রাখতে হয়।

এই সমস্ত কিন্তু একদিনে ম্যাজিকের মত তার জীবনে ঘটে যায়নি !

দিনের পর দিন সংগ্রাম করতে হয়েছে ।

লড়াই করতে হয়েছে এবং জেদ দেখিয়ে সফলতা ছিনিয়ে আনতে হয়েছে ।

কেউ খুশি হয়ে তার হাতে সফলতার সোনার মোহর তুলে দিয়ে যায়নি !

আমরাও যদি চেষ্টা করি ,মন প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করি,

তাহলে আমরা ও নিশ্চয়ই সমস্ত রকম বাধা বিঘ্ন পেরিয়ে সফলতার স্বাদ গ্রহণ করতে পারবো।

আমরা ও নিশ্চয়ই  সমস্ত রকম বাধা বিঘ্ন পেরিয়ে সফলতার স্বাদ গ্রহণ করতে পারবো
আমরা ও নিশ্চয়ই সমস্ত রকম বাধা বিঘ্ন পেরিয়ে সফলতার স্বাদ গ্রহণ করতে পারবো

তথ্য সুত্র : টিভি৯বাংলা।

এই ধরনের Article আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন । Articleটি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-ও Human Psychology বিষয়ক নানা Information এর জন্য আমার Face Book Page,

আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং

আমার দুইটি YouTube channel 1. Learn Digital Earn Money ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন
ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন

Leave a Comment