বাঁচতে হলে,ঘুরে দাঁড়াতেই হবে !

Table of Contents

বাঁচতে হলে,ঘুরে দাঁড়াতেই হবে I আমাদের জীবনটা সমতল বা মসৃণ নয় । জীবনের প্রতিটি বাঁকেই উত্থান-পতন, সমস্যা এবং তার সমাধান ঘিরেই আমাদের জীবন প্রবাহ। সেই জীবন প্রবাহের গভীরে কখন যে আমরা হারিয়ে যাব ,কখন যে আমাদের পতন ঘটবে ,আবার কখন যে আমাদের উত্থান ঘটবে সেটা আমরা কেউই সঠিকভাবে জানিনা ।সেজন্য নতুন নতুন সমস্যা আমাদের জীবনকে বারে বারে জর্জরিত করে ফেলে । তাহলে সেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার কি কোন পথ- ই কি নেই ?

নতুন নতুন সমস্যা
নতুন নতুন সমস্যা

সমস্যা যেমন আছে সেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তাও অবশ্যই আছে। সেজন্য সমস্যা সমাধানের জন্য নিজেদের মাথাটাকে ঠান্ডা রেখে ,আবার উঠে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বুকে নিয়ে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

পৃথিবীতে যত বড় বড় মানুষ আছেন। যত বড় বড় সফল মানুষ আছেন। তাদের জীবনে তারা কখনো না কখনো, কোথাও না কোথাও সমস্যার অতলে তলিয়ে গেছিলেন । তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সেরকম অবস্থা আর বেঁচে ছিল না । সেই রকম অবস্থা থেকে বহু মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অন্য মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন । কেমন ভাবে সবকিছু হারিয়েও আবার নতুন করে সবকিছু গড়ে তোলা যায়।

সে রকমই একজন মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী আজকের এই আর্টিকেল । যে নামটি এখানে আজ আলোচিত হবে, সেই নামটি ভারতবর্ষের এমনকি সারা পৃথিবীর কোন মানুষের কাছেই বোধ হয় আজ অজানা নয়। তিনি হলেন অমিতাভ বচ্চন।

চলুন দেখে নেওয়া যাক, কিভাবে জীবনের গভীর সমস্যা থেকে নিজেকে আবার প্রতিষ্ঠিত করলেন !

অমিতাভ বচ্চনের জীবন তখন কঠিনতম সংকটের মুখে।
অমিতাভ বচ্চনের জীবন তখন কঠিনতম সংকটের মুখে।

অমিতাভ বচ্চনের সফলতার কাহিনী আপনার জীবনেও হয়তো কাজে লেগে যেতে পারে ।


সংকটের মুখে অমিতাভ বচ্চন

১৯৯৯ সাল।

অমিতাভ বচ্চনের জীবন তখন কঠিনতম সংকটের মুখে।

তাঁর কোম্পানি ABCL(Amitabh Bachchan Corporation Limited) তখন ঋণের ভারে প্রায় ডুবে গেছে।

মাথায় ৯০ কোটি র দেনা,

৫৫টিরও বেশি মামলা ঝুলছে আদালতে ।

পাওনাদাররা তাঁর বাড়ির সামনে এসে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য চিৎকার করছে।

এমনকি মুম্বাইয়ের বিখ্যাত “প্রতীক্ষা” বাংলো বাজেয়াপ্ত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

নিজের ভিতরে ডুব

এটাই কি শেষ ?

জীবন কি এখানেই থেমে যাবে ?

চারিদিকে অন্ধকার দেখছেন সুপারস্টার

অমিতাভ বচ্চন নিজের ভেতর থেকে খুঁজলেন উত্তর।

নিজেকে প্রশ্ন করলেন….

তাঁর আসল শক্তি কী ?

তাঁর আসল পরিচয় কী ?

উত্তর এল স্পষ্ট— অভিনয়

চারিদিকে অন্ধকার দেখছেন সুপারস্টার
চারিদিকে অন্ধকার দেখছেন সুপারস্টার

তখন তিনি নিজের অহংকার, স্টারডম, অতীতের গৌরব সব কিছু সরিয়ে রেখে বন্ধু ও বিখ্যাত পরিচালক যশ চোপড়ার কাছে গেলেন।

সেখানে বিনয়ের সঙ্গে শুধুমাত্র একটাই কথা বললেন—

“আমাকে একটা কাজ দেবে ?

এত বড় একসময়কার সুপারস্টার,

যার জন্য গোটা ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি অপেক্ষা করত,

সেই মানুষটি আজ কাজ চেয়ে হাত পাতছেন !

এটাই ছিল অমিতাভ বচ্চনের সাহসের আসল পরীক্ষা।

জীবন যখন অন্ধকারে ঠেলে দেয়,

তখন প্রকৃত বিজয়ী মানুষ সেই হয়,

নতূন উদ্যমে শুরু

যে নিজের অভিমান ভুলে আবার শুরু করতে জানে ।

যশ চোপড়া তাঁকে দিলেন “মোহাব্বতে” সিনেমায় এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

আর ঠিক একই সময়ে ভাগ্য আবার দরজা খুলে দিল টেলিভিশনের মাধ্যমে।

জনপ্রিয় শো “কৌন বনেগা ক্রোড়পতি” (KBC) –র সঞ্চালকের দায়িত্ব এলো তাঁর হাতে।

দেখতে দেখতে পরিস্থিতি বদলে গেল।

একসময়ের ঋণে ডুবে যাওয়া মানুষটি আবার শীর্ষে উঠলেন।

নিজের প্রতিটি ঋণ শোধ করলেন,

এমনকি সরকারি সুদের টাকাও শোধ করলেন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করা অর্থ দিয়ে।

আমরা কী শিখলাম অমিতাভ বচ্চনের গল্প থেকে ?

অনেকেই ভাবেন,

ডিগ্রি থাকলেই জীবন সফল হওয়া সম্ভব !

কিন্তু সত্যি কি তাই ?

একজন First Class First MA, B.Ed ডিগ্রি অর্জন করা শিক্ষিত ব্যক্তি আজও হয়তো বেকার বসে আছেন,

অথবা সামান্য মাইনের চাকরি করছেন।

কারণ ?

কারণ ,আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা “টিউশনি সর্বস্ব”,

যা কেবল পরীক্ষার জন্য মুখস্থবিদ্যা শেখায় I

কিন্তু বাস্তব দক্ষতা বা “স্কিল” শেখায় না ।

অথচ

জীবন চালাতে গেলে আসল সম্পদ কী ?

Skill Development
Skill Development

Skill

অমিতাভ বচ্চনের গল্প আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—

“জীবনে সব কিছু হারিয়ে যেতে পারে,

কিন্তু যদি আমাদের কাছে প্রকৃত দক্ষতা (Skill) থাকে, তাহলে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।”

স্কিল থাকলে ,

চাকরি না থাকলেও নিজের কাজের মাধ্যমে স্বনির্ভরশীল হয়েও


উপার্জন করা সম্ভব।

স্কিল থাকলে কোনো একটা জায়গায় থেমে যেতে হয় না, নতুন পথ খুঁজে নেওয়া যায়।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং করণীয়

আজকের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন যে,

আমাদের অধিকাংশ তরুণ-তরুণী শুধু সার্টিফিকেট অর্জনে ব্যস্ত ।

তারা ডিগ্রি পাচ্ছে, কিন্তু দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।

একজন ছাত্র হয়তো স্কুল-কলেজে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে,

কিন্তু বাস্তব জীবনে এসে বুঝতে পারছে,

শুধুমাত্র ডিগ্রি দিয়ে কিছু হয় না।

কারণ সে দক্ষতাহীন।

সার্টিফিকেট একটা কাগজ মাত্র,

প্রকৃত স্কিল

কিন্তু

প্রকৃত স্কিল হল আমাদের আসল সম্পদ ।

এটাই বোঝাতে চাই অমিতাভ বচ্চনের গল্প ।

জীবনের কঠিন সময়ে একমাত্র স্কিলই আমাদেরকে বাঁচাতে পারে।

তাই,

ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মুখস্থবিদ্যার চেয়ে বাস্তবমুখী শিক্ষা দিতে হবে।

কোনো ডিগ্রি নয়,

আমাদের আসল পরিচয় হলো আমাদের দক্ষতা বা Skill.

আর এই দক্ষতা অর্জনের জন্য কোন সময় বা বয়সের গণ্ডি থাকে না। প্রয়োজন হলে যে কোন বয়সেই, যেকোনো সময়েই, যেকোন Skill অর্জনের জন্য নিজেদেরকে নিয়োজিত করা সম্ভব ।আর যারা এটা পারেন ,তারা জীবনে সফল হবেনই । তাদেরকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না। Skill হলো অপ্রতিরোধ্য। Skill আমাদের সফলতাকে অর্জন করতে সাহায্য করে ।

দক্ষতা অর্জনের জন্য কোন সময় বা বয়সের গণ্ডি থাকে না
দক্ষতা অর্জনের জন্য কোন সময় বা বয়সের গণ্ডি থাকে না

এই ধরনের Article আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন । Articleটি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-এর জন্য আমার facebookpage,

আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং

আমার দুইটি youtube channel 1. Learn Digitel Earn Momey ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন
ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন


Leave a Comment