বিপ্লবী ক্ষুদিরাম

Table of Contents

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর বয়সটা খুব অল্প হলেও তার মধ্যে জ্বলে উঠেছিল স্বাধীনতার স্পৃহা। তিনি দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি ব্রিটিশদের অত্যাচারের বিষয়টি কখনোই মেনে নিতে পারেনি। এত ছোট মানুষের মধ্যে দেশ প্রেম কিভাবে জাগরিত হলো ? কিভাবেই বা তিনি ঝাঁপিয়ে পড়লেন এই ধরনের অগ্নিগর্ভ আন্দোলনের মধ্যে ? সেটা ঈশ্বরই জানেন । তবে ঈশ্বরের বর পুত্র না হলে যে এভাবে এত অল্প বয়সে আত্ম বলিদান এর জন্য প্রস্তুত হওয়া যায় ,সেটা বালক ক্ষুদিরামের ফাঁসি না হলে মানুষ হয়তো বুঝতেই পারতো না। অল্প বয়স কিন্তু চিন্তাভাবনার কি পরিপক্কতা, মানসিকতার কি চিরন্তন বহিঃপ্রকাশ ! তার জ্বলন্ত উদাহরণ ক্ষুদিরাম বসু। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাসে ক্ষুদিরাম বসু স্বর্ণাক্ষরে লেখা এক অগ্নিঝলক।

মরণ দোলায় দুলবি কে রে আয়!’।
মরণ দোলায় দুলবি কে রে আয়

‘মরণ দোলায় দুলবি কে রে আয় !

বন্ধুরা একদিন দেখল, ক্ষুদিরাম দোকান থেকে জুতো কিনছেন।

তারা তো রীতিমত বিস্মিত।

কারণ তারা জানত ক্ষুদিরাম বেশ কিছুদিন আগে থেকে জুতো পরা ছেড়ে দিয়েছেন।

তাই বন্ধুরা ক্ষুদিরামকে প্রশ্ন করল—‘জুতো কি হবে রে?’

ক্ষুদিরাম হেসে উত্তর দিলেম—‘বিয়ে করতে যাচ্ছি,

বিয়েতে নতুন জুতো পরতে হবে তো?’

তাঁর উত্তর শুনে বন্ধুরা কিছুটা বিস্মিত হ’ল।

কারণ ক্ষুদিরাম বলতেন, তিনি কখনও বিয়ে করবেন না।

বন্ধুদেরও সংসার না করে দেশের কাজ করার কথা বলতেন।

কিন্তু ক্ষুদিরামের সহজ সরল কথাবার্তা তারা অবিশ্বাস করতে পারল না।

তাই ক্ষুদিরামকে তারা জিজ্ঞাসা করল—‘কোথায় যাচ্ছিস বিয়ে করতে ?’

— ‘উত্তরে।’

—‘বিয়ে করে ফিরবি কবে ?’

ক্ষুদিরাম একটু হাসলেন, তারপর বললেন—‘কি জানি ফিরব কিনা,

শুনছি আমায় ঘরজামাই রাখবে।’

জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ও কি স্বচ্ছ, অনাবিল কৌতুক।

তাঁর মনের গোপনে তখন মৃত্যুর সাথে অভিসারের মধুর স্বপ্ন।

তাই কণ্ঠস্বরে কোন চঞ্চলতা নেই, আচরণে বিন্দুমাত্র উত্তেজনা নেই।

ফলে, বন্ধুরা সহজেই তাঁর কথা বিশ্বাস করল।

তারা জানতেও পারল না আর কিছুদিনের মধ্যে তাদের প্রিয় বন্ধু শহীদ-তীর্থের পথে যাত্রা শুরু করবে।

সব সময় তাঁর কণ্ঠে প্রায়ই শোনা যেত একটি গানের কই—‘মরণ দোলায় দুলবি কে রে আয়!’।

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম
বিপ্লবী ক্ষুদিরাম
বিপ্লবী ক্ষুদিরাম

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু জন্মেছিলেন ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ডিসেম্বর,

পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার কেশপুর থানার মৌবনী (হাবিবপুর) গ্রামে ৷

পিতা ত্রৈলোক্যনাথ বসু ও মাতা লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর চতুর্থ সন্তান ক্ষুদিরাম বসু ৷

তিন কন্যা সন্তানের পর তাঁর জন্ম হলেও,

দুই পুত্রের অকাল মৃত্যুতে ক্ষুদিরামের মৃত্যুশঙ্কায় মা প্রচলিত সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী

তাঁর বড়ো দিদির কাছে তিন মুঠো চালের খুদের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন ।

খুদের বিনিময়ে কেনা হয়েছিল বলে শিশুটির নাম পরবর্তীকালে রাখা হয় ক্ষুদিরাম ৷

ক্ষুদিরাম বসু মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারান,

তার এক বছর পর হারান পিতাকে !

বড়দিদি অপরূপার কাছে মানুষ হন।

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম
ব্যতিক্রমী চরিত্র,
ব্যতিক্রমী চরিত্র
বিপ্লবী ক্ষুদিরাম

ব্যতিক্রমী চরিত্র

ছোট থেকেই ক্ষুদিরাম একেবারেই ব্যতিক্রমী চরিত্র,

বয়সের চেয়ে যেন বেশি পরিণত।

দুর্জয় তাঁর সাহস।

দেশের প্রতি অপরিসীম ভালবাসা আর ব্রিটিশের প্রতি তীব্র ঘৃণা তাঁর মধ্যে একসঙ্গে জেগে উঠেছিল।

১৯০২ এবং ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে মেদিনীপুরে

বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ এবং ভগিনী নিবেদিতা’র স্বাধীনতাকামী বক্তব্য ও

গোপন বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে কিশোর ছাত্র ক্ষুদিরাম অংশগ্রহণ করেন ।

স্পষ্টভাবেই তিনি ‘অনুশীলন সমিতি’-তে যোগদান করেন

কলকাতায় বারীন্দ্র কুমার ঘোষের কর্মতৎপরতার সংস্পর্শে আসেন ।

তিনি ১৫ বছর বয়সেই অনুশীলন সমিতির একজন স্বেচ্ছাসেবী হয়ে ওঠেন

এবং ভারতে ব্রিটিশ শাসন বিরোধী পুস্তিকা বিতরণের অ*পরাধে গ্রে*প্তা*রও হন ৷

১৯০২ খ্রিস্টাব্দে জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসু এবং রাজনারায়ণ বসুর প্রভাবে মেদিনীপুরে একটি গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠন গড়ে উঠেছিল ।

ব্রিটিশবিরোধী রাজনৈতিক সেই সংগঠনের নেতা ছিলেন বিপ্লবী হেমচন্দ্র দাস কানুনগো

বিপ্লবী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন হেমচন্দ্রের সহকারী ।

হেমচন্দ্র কানুনগো মেদিনীপুরের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন।

ক্ষুদিরাম দৌড়ে তাঁর কাছে এসে বললেন, ❝আমাকে একটা রিভলবার দিতে হবে।❞

বড়জোর তখন তাঁর তের-চৌদ্দ বছর বয়স হবে,

হেমচন্দ্র অচেনা অজানা একটা ছোকরার থেকে এই ধরনের আবদার শুনে একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম
তুই রিভলবার দিয়ে কী করবি ?
তুই রিভলবার দিয়ে কী করবি ?
বিপ্লবী ক্ষুদিরাম

রিভলবার

❝ তুই রিভলবার দিয়ে কী করবি ? ❞

ক্ষুদিরাম জবাব দিলেন, ❝সাহেব মারবো।❞

হেমচন্দ্র অবশ্য সেদিন ক্ষুদিরাম কে ধমক দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বটে

কিন্তু তাঁর সাহস আর দেশপ্রেম দেখে অভিভূত হয়েছিলেন..

অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই ক্ষুদিরাম তার গুণাবলীর জন্য সবার চোখে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন ।

ক্ষুদিরাম সত্যেন্দ্রনাথের সাহায্যে বিপ্লবী দলভুক্ত হয়ে এখানে আশ্রয় পান ।

সেখানে পরিচয় হয় ব্রিটিশবিরোধী প্রথম আত্মত্যাগকারী বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকী’র সাথে ৷

ইতিমধ্যে ব্রিটিশ বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট কিংফোর্ড প্রচণ্ড অ*ত্যাচারী হয়ে উঠে ৷

অত্যাচারী বিচারপতি কিংসফোর্ডের হাতে ছিল ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের (স্বামী বিবেকানন্দের ভাই) মামলা।

তাঁর অপরাধ ‘যুগান্তর পত্রিকায় দুটি রচনা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রকাশ করেছেন।

এক বছরের কারাদণ্ড হল।

মামলা হল ‘ বন্দে মাতরম ‘পত্রিকার বিরুদ্ধেও।

এই কিংসফোর্ড আদেশ দিলেন বছর পনেরোর কিশোর সুশীল সেন কে সবার সামনে বেত্রাঘাতের।

সেজন্য বিপ্লবীরা সিদ্ধান্ত নেয় তাকে হত্যা করার ৷

অতএব ঠিক হল তাঁকে হত্যা করা হবে।

হেমচন্দ্র লেগে গেলেন কাজে,

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম

কিংসফোর্ড বেঁচে গেল

বইবোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হবে কিংসফোর্ড কে।

বই বোমা পাঠানো হল।

কিন্তু সেই বই কিংসফোর্ড না খোলায় ,তিনি বেঁচে গেলেন ।

এবার ঠিক হল মজফরপুরে গিয়েই হত্যা করা হবে কিংসফোর্ডকে

ডগলাস কিংসফোর্ডকে হত্যার দায়িত্ব পড়ল ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকীর উপরে।

ক্ষুদিরাম বসুর সাথে সেই পরিকল্পনায় অংশ নেয় প্রফুল্ল চাকী

দুর্ভাগ্যবশত কিংসফোর্ডকে গুপ্তহত্যার কাজে সফল হলেন না ক্ষুদিরাম,প্রফুল্ল চাকী।

সেই রাতে সপত্নীক ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড ও ব্রিটিশ ব্যারিস্টার পত্নী মিসেস কেনেডি ও তার কন্যা

একই রকম দুই গাড়িতে করে ফিরছিলেন ৷

যে গাড়িতে মিসেস কেনেডি ও তার কন্যা ছিলো, সেই গাড়িতে কিংফোর্ড আছে ভেবে

তাকে গুপ্তহত্যা করার জন্যে বোমা ছোঁড়েন ক্ষুদিরাম বসু ৷

কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তাঁর বোমার আঘাতে প্রাণ যায় মিসেস কেনেডি ও তার কন্যার

এই ঘটনা ব্রিটিশ মহলকে তোলপাড় করে দেয় ৷

ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকীকে ধরার জন্য হন্য হয়ে উঠে ব্রিটিশবাহিনী ৷

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম

অবশেষে ক্ষুদিরাম বসুকে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ১লা মে,

ওয়াইনি রেল স্টেশন (বর্তমান নাম ক্ষুদিরাম বোস পুসা স্টেশন) থেকে গ্রেফতার করে ৷

পরের দিন প্রফুল্ল চাকী ব্রিটিশ দা*লাল এক বাঙালি অফিসারের হাতে ধরে পড়ে গেলে নিজে নিজে আত্মহনন করেন ৷

ক্ষুদিরাম বসু’র অপরাধ হিসেবে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয় ৷

ধরা পড়ার পরে বিচার শুরু হয় ক্ষুদিরামের।

ফাঁসির দিনেও এতটুকু ভেঙে পড়েননি।

আক্ষরিক অর্থেই হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন।

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ১১ই আগস্ট তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয় ৷

ফাঁসি হওয়ার সময় ক্ষুদিরামের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর, ৭ মাস এবং ১১ দিন;

ভারতবর্ষের সর্বকনিষ্ঠ বিপ্লবী ৷

যিনি ছিলেন ভারতবর্ষের সর্বকনিষ্ঠ বিপ্লবী ৷

তাঁর এই আত্মদান দেশের পরবর্তী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে তীব্র ভাবে প্রভাবিত করেছিল..

ক্ষুদিরাম বসু কে ফাঁসি দিয়ে ইংরেজরা ভারতের স্বাধীনতার লড়াই রুখতে পারেনি৷

বরং তৈরি হয়েছেন শত-শত ক্ষুদিরাম ৷

অনেকেই আত্মবলিদান দিয়েছেন,

অনেকে কারাগারের অন্ধকারে কাটিয়েছেন জীবনের সেরা বসন্ত..

বাঙালির হৃদমাঝারে অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে চারণ কবি’র গান

একবার বিদায় দে-মা ঘুরে আসি।

হাসি হাসি পরব ফাঁসি দেখবে জগৎবাসী।

এই গানের সুরে বাংলার আবালবৃদ্ধ বনিতার সঙ্গে আকাশ, বাতাস, চাঁদ, সূর্য, তারা

সবাই আজও ক্ষুদিরামের জন্য দু’ফোটা চোখের জল ফেলেন !

আজ স্বাধীনতার পূর্ণ লগ্নে বাঙালির বীরবিপ্লবী এই সূর্যসন্তানের মহাপ্রয়াণবার্ষকীতে জানাই অন্তর্লীন শ্রদ্ধাঞ্জলি ও প্রণাম ৷

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম

এই ধরনের Article আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন । Articleটি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-ও Human Psychology বিষয়ক নানা Information এর জন্য আমার Face Book Page,

আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং

আমার দুইটি YouTube channel 1. Learn Digital Earn Money ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন
ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন

Leave a Comment