মোক্ষম জবাব শুধুমাত্র একটা গল্প নয় । এটা গল্পচ্ছলে সমাজের গালে সপাটে একটা আঘাত হেনেছেন লেখক সরজিত ঘোষ ।আমরা কোন মানুষকে পছন্দ না করলেও তার অর্থকে আপন করতে বা তার ক্ষমতাকে ব্যবহার করে বেঁচে থাকতে আমাদের একটুও লজ্জা লাগেনা । লেখক এই প্রবৃত্তির মানুষদেরকে যেন আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন । একটু চোখ কান খোলা রাখলে আমাদের আশপাশে কিন্তু এই ধরনের মানুষের আনাগোনা খুব একটা কম চোখে পড়বে না । এই সংখ্যাটা চোখে লাগার মতই বেশি ।

বয়স্ক একজন ভদ্রলোক আর আধা বয়সি একজন লোক নিজেদের মধ্যে অনেকক্ষণ ধরেই কথা বলছিলেন।
আমি পাশেই দাঁড়িয়ে আছি।
কথা বলতে বলতে বয়স্ক ভদ্রলোক বললেন,
-জানো স্বদেশ আমার ছোটো মেয়ের তো ডিভোর্স হয়ে গেল।
কথাটা শুনে স্বদেশ নামের লোকটি যেন আকাশ থেকে পড়লেন।
ভাবখানা এমন দেখাতে শুরু করলেন পৃথিবীতে এমন অঘটন আগে কখনো ঘটেনি।
জিব কেটে বললেন,
-সে কি ! মেয়েটার ডিভোর্স হয়ে গেল ?
এই এত কম বয়সে ?
ডিভোর্সী মেয়ে ঘরে বসে থাকলে বাবা মায়েদের জ্বালার শেষ থাকে না।
শুনে খুব খারাপ লাগছে।
এমন প্রতিক্রিয়া দেখে বয়স্ক ভদ্রলোক হেসে ফেললেন।
করুণা করে কথা বললে সবাই যে পছন্দ করে না এটা বয়স্ক ভদ্রলোককে দেখেই বুঝে গেলাম।
এদিকে বয়স্ক ভদ্রলোককে হাসতে দেখে স্বদেশ বলে উঠলেন,
-মেয়ের ডিভোর্স হয়েছে, তাতেও তুমি হাসছ।
– হাসছি তো তোমাকে দেখে।
এই হচ্ছে তোমাদের দোষ।
যতটা তোমাকে দেখে এখন আমার খারাপ লাগছে ততটা আমার মেয়ের ডিভোর্সের জন্যও খারাপ লাগেনি।
ডিভোর্স হয়েছে তো কী হয়েছে তাতে ?
আমার মেয়ের মনে হয়েছে তার সাথে থাকতে পারবে না তাই সে থাকেনি।
তাতে তো আমার মেয়ে ভালো আছে।
আমার মেয়ে ভালো আছে দেখে আমিও ভালো আছি।
কিন্তু তোমাদের মত মানুষ গুলো শুধু ভালো থাকতে পারে না।
-আমার আবার ভালো থাকা না থাকায় কি যায় আসে ?
ডিভোর্স ব্যাপারটাই তো খারাপ।
একটু মানিয়ে নিয়ে থাকতে পারত তো ?
-আসলে ওটাই আমি মেয়েকে শেখাই নি।
অন্যায়ের সাথে আপোষ করার শিক্ষা যে আমি দিই নি।
-সেটা ভালো কথা।
কিন্তু ডিভোর্স হয়ে গেলে আর কেউ বিয়ে করতে চাইবে ?
সারা জীবন পড়ে আছে মেয়েটার।
ভবিষ্যতটা তো তোমাদেরকেই ভাবতে হবে।
বাই দ্য ওয়ে, মোটা অঙ্কের খরপোষ আদায় করে নিয়েছো তো ?
কথাটা শুনে বয়স্ক ভদ্রলোক হো হো করে হেসে উঠলেন।

তারপর বললেন,
-খরপোষ ?
কেন ?
অন্যের দয়ায় বাঁচবে কেন ও ?
ওর মধ্যে শিক্ষা দীক্ষা যা আছে, তাতে নিজেরটা নিজেই চালিয়ে নিতে পারবে তো।
যার সাথে সংসার করবেই না, যার সাথে মনের মিলটাই হলো না, তার থেকে টাকা নিয়ে বাকি জীবনটা কেন কাটাতে হবে ?
তবে জানো, অ্যাডভোকেট মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছিল,খরপোষের দাবী করবে কিনা ?
মেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই বলেছিল, “জীবনে যাকে রাখবই না, তার কোনো কিছুই আমার সাথে থাকব না।
অন্যের উপার্জিত টাকা গ্রহণ করে নিজেকে ছোটো করব না।
মাথা তুলে বাঁচব,
সম্মানের সাথে বাঁচব,
তবু কারো দয়া দাক্ষিণ্যে নয়।”
মেয়ের এমন কথা শুনে তখন আশে পাশে যে দু একজন ছিল, তারা আমাকে বলেছিল, “আপনার মেয়ে তো বেশ ব্যক্তিত্বময়ী।
চরিত্রের এমন দৃঢ়তা অনেকেরই থাকে না।”
জানো স্বদেশ ছোটো থেকেই মেয়েকে শিখেয়েছি,
আমি যেমন নিজের মেরুদন্ড ভেঙে কারো কাছে বিকিয়ে দিইনি,
তুইও কখনো নিজেকে বিক্রি করবি না।
শিরদাঁড়া যেন সোজা থাকে।

স্বদেশ তখন বয়স্ক ভদ্রলোকের কথা শুনে চুপ।
একটা কথাও নেই আর মুখে।
মোক্ষম জবাব পেলে চুপ হয়ে তো যাবেই।
বয়স্ক ভদ্রলোকও আর সময় নষ্ট করলেন না।
‘আসি’ বলে স্বদেশের কাছ থেকে বিদায় নিলেন দৃঢ় পায়ে।
বয়সের ভারে বার্ধক্যের দোর গোড়ায় পৌঁছেছেন ঠিকই,
শিরদাঁড়া শুধু চলনেই নয়,
দেখলাম কথাতেও সোজা রেখেছেন।
কলমে: সরজিৎ ঘোষ ( Sarajit Ghosh )
সরজিত ঘোষের লেখা যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে আপনি তাঁর পেজে গিয়েও ঘুরে আসতে পারেন পেজের লিংকটি এখানে আমি দিয়ে দিলাম।
এই ধরনের Story আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন । Storyটি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-এর জন্য আমার facebookpage,
আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং
আমার দুইটি youtube channel 1. Learn Digitel Earn Momey ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

