বিবেকানন্দ কি ধরনের মানুষ ছিলেন ,সেটা বিবেকানন্দের সহপাঠী বা বিবেকানন্দের সান্নিধ্যে যারা এসেছিলেন তারা হাড়ে হাড়ে জানতেন । বিবেকানন্দ সোজা সাপটা সরল মানুষের সঙ্গে যেমন ছিলেন সোজা-সরল ,তেমনি বেয়াড়া মানুষকেও তিনি কিন্তু কখনো রেয়াত করে চলেন নি । তাদেরকে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি কি জিনিস !
কথায় বলে কেউ যদি ঠিকঠাক প্রস্তুতি ছাড়া কোন বুদ্ধিমান মানুষকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে, তবে তাকেই উল্টো বড় ধরনের ফাঁদে পড়তে হয়। আজকের গল্প ৩টি তেমন বিষয় নিয়েই। চলুন শুনে আসা যাক…

আমি উড়ে চলে যাচ্ছি ’!
স্বামী বিবেকানন্দ তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
এক ইংরেজ প্রফেসর স্বামীজিকে তার প্রতিবাদী স্বভাবের জন্য বিন্দুমাত্র সহ্য করতে পারতেন না।
একদিন দুপুরবেলা সেই প্রফেসর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে খাবার খাচ্ছিলেন,
এমন সময় স্বামী বিবেকানন্দ পাশের টেবিলেই নিজের খাবারের প্লেটটি নিয়ে খেতে বসলেন।
প্রফেসর ভাবলেন এই সুযোগ স্বামীজিকে হেনস্থা করার।
তাই তিনি বলে উঠলেন-
‘তুমি বোধ হয় জানো না, একটি পাখি আর একটি শুকর এক জায়গায় পাশাপাশি বসে খাবার খায় না’!
স্বামীজি তখন সেই প্রফেসরের দিকে তাকিয়ে,
মৃদু হেসে খুব শান্ত গলায় জবাব দিলেন-
‘আপনি চিন্তা করবেন না স্যার, আমি উড়ে চলে যাচ্ছি’!
এই বলে তিনি নিজের খাবারের প্লেটটি নিয়ে উঠে গিয়ে একটু দূরের একটি টেবিলে গিয়ে বসলেন।
ছাত্রের কাছ থেকে এমন জবাব পেয়ে সেই ইংরেজ প্রফেসর রেগে লাল হয়ে গেলেন।
মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি এর প্রতিশোধ নেবেন-ই।

যার কাছে যে জিনিসটা নেই,
পরদিন ক্লাসে তিনি স্বামীজিকে দাঁড় করিয়ে বললেন-
‘তুমি যদি রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ পাশাপাশি দুটো ব্যাগ দেখতে পাও,
যার একটি ভর্তি টাকা আর অন্যটা বুদ্ধি দিয়ে ভরা,
তুমি কোন ব্যাগটি নেবে ’?
প্রফেসরের প্রশ্ন শুনে বিবেকানন্দ এক মুহূর্তও না ভেবে বললেন-
‘অবশ্যই টাকায় ভরা ব্যাগটাই নেবো স্যার’!
প্রফেসর ভাবলেন এটাই সুযোগ,
ভরা ক্লাসের সামনে তিনি স্বামিজিকে ছোট করার জন্য বললেন- ‘ছিঃ ছিঃ!
তুমি এতো লোভী ?
সামান্য ক’টা টাকার জন্য তুমি বুদ্ধিকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে আসবে ?
আমি হলে সবার আগে বুদ্ধি দিয়ে ভরা ব্যাগটাই নিয়ে ফিরতাম’।
এবারও স্বামীজি বিন্দু মাত্র বিচলিত হলেন না।
শান্ত গলায় তিনি শুধু বললেন-
‘আসলে স্যার, যার কাছে যে জিনিসটা নেই, সে তো সবার আগে ওই জিনিসটাই তুলবে। তাই না’ ?
বিবেকানন্দ’র এই উত্তর শুনে গোটা ক্লাস হো হো করে হেসে উঠলো।
প্রফেসর এবার আরও রেগে গেলেন।
তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এর জবাব তিনি পরীক্ষার খাতায় ফিরিয়ে দেবেন।
নম্বর বসাতেই ভুলে গেছেন’!
কিছুদিন পর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো।
বিবেকানন্দের খাতা গিয়ে পড়লো সেই প্রফেসরের হাতে,
খাতার উপরে বিবেকানন্দ’র নাম দেখেই প্রফেসর কোন নাম্বার না দিয়ে,
লাল কালি দিয়ে বড় বড় অক্ষরে- ‘গাধা’ লিখে দিলেন !
পরীক্ষার খাতা হাতে পাওয়ার পর স্বামীজি খাতাটা দেখলেন
আর মনে মনে খানিক হেসে নিয়ে সোজা রওনা দিলেন প্রিন্সিপালের কক্ষে।
কিছুক্ষণ পর প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে ডাক পড়লো সেই ইংরেজ প্রফেসরের।
প্রিন্সিপালের কক্ষে প্রবেশ করেই প্রফেসর দেখলেন,
স্বামীজি বসে রয়েছেন সেখানে।

প্রফেসরকে দেখে প্রিন্সিপাল বলে উঠলেন- ‘আরে স্যার !
এই ছেলে বলছে আপনি নাকি ওর খাতায় শুধু নিজের নামটাই সই করেছেন,
কিন্তু নাকি নম্বর বসাতেই ভুলে গেছেন ’!
এরপর প্রিন্সিপাল যেই স্বামীজির কাছে খাতাটা দেখার জন্য চাইলেন,
তড়িঘড়ি সেই প্রফেসর স্বামীজির হাত থেকে খাতাটা কেড়ে নিয়ে বললেন-
“না স্যার! আমি আবার ভালো করে খাতাটা দেখে নেব “।
এই বলে সেই ইংরেজ প্রফেসর তাড়াতাড়ি খাতাটা নিয়ে বের হয়ে গেলেন সেখান থেকে
বুঝতে পারলেন তিনি ভুল মানুষের পিছনে লাগার চেষ্টা করছিলেন..I.
লেখাটি আমি সংগ্রহ করেছি শিল্পা দে’র ফেসবুক পেজ থেকে । আপনাদের যদি এই লেখাটা ভালো লাগে এবং শিল্পা দে’র আরো লেখা পড়তে চান তাহলে এই লিংকে ক্লিক করে ঘুরে আসতে পারেন শিল্পা দে’র ফেসবুক পেজ থেকে ।শিল্পা দে’র পেজটি ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক ,কমেন্টস, শেয়ার এবং ফলো করতে ভুলবেন না I আমার বিশ্বাস আপনাদের ভীষণ ভালো লাগবেই ।
এই ধরনের Article আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন । Articleটি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-এর জন্য আমার facebookpage,
আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং
আমার দুইটি youtube channel 1. Learn Digitel Earn Money ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

নমস্কার।
