অন্যরকম মা !

Table of Contents

অন্যরকম মা ! অন্যরকম বাবা ! বাবা মা হলেই যে ধোয়া তুলসী পাতা হবে ,তা কিন্তু নয় । সংসারে বহু মা-বাবা আছে, যাদের মধ্যে মা-বাবা হবার যোগ্যতা বিন্দুমাত্র নেই । একটা জৈবিক পদ্ধতিতে সন্তান সন্ততির জন্ম হয়। জন্ম দিলেই মা বাবার তকমা মিলে গেল । কিন্তু আসল মা-বাবার চরিত্র থাকে তার আচার ব্যবহার এবং মানসিকতায় ,যেটার মাধ্যমে আমাদের সংসার বা পরিবার সুখের হয় ।যে পুরুষ বা মহিলা ব্যক্তি জীবনে খুব খারাপ ভাবে জীবন যাপন করে এসেছেন ,বাবা-মা হওয়ার পরে কিভাবে তারা সেটা ভুলে যাবে ? বা ভুলে গেলেও তার রক্ত তাকে ভুলতে দেবে না। কিশোর বা কিশোরী জীবনের রোগ গুলো কোন না কোন ভাবে পরবর্তী প্রজন্মের উপর আরোপিত হবেই । অন্যরকম মা বা বাবাও কিন্তু সেই ভুলেরই একটা Dispute Product .সেজন্য অন্যরকম মা যেমন হয় ,তেমনি অন্যরকম বাবাও হয় । আচ্ছা ,ভাবুন তো পৃথিবীতে যত নোংরা ,খারাপ বিষয়গুলো ঘটছে সেগুলো কেউ না কেউ তো ঘটাচ্ছে ? যারা ওই কুকীর্তিগুলো করছে ,তারা তো নিশ্চয়ই কারো বাবা কিংবা মা । তাহলে…

জন্ম দিলেই মা বাবার তকমা
জন্ম দিলেই মা বাবার তকমা
অন্যরকম মা

মা আবার অন্যরকম হয় নাকি ?

মা ও যে অনেক সময়ই মা না হয়ে ,অন্য কিছু হয়ে ওঠে

অনেকে সেটা মানতেই চায় না

অনেক মা-ই আছেন যারা সন্তানের বেলায় টক্সিক হয়ে থাকে।

হ্যাঁ, জন্মদাত্রী মা !

এসব মায়েরা

হয় ছেলে-মেয়ের মধ্যে

কিংবা দুই মেয়ে/দুই ছেলের ক্ষেত্রে বৈষম্য করে থাকেন।

অন্যরকম মা

চোখের মনি

এক সন্তান থাকে চোখের মনি,

অনেক পরিবারে তো আবার পুত্র সন্তান হলে আদিখ্যেতার শেষ থাকে না !

তাকে দুধে ভাতে রাখতে, তার সমস্ত দাবি মেটাতে, মা-বাবা যেন বিশেষ তৎপর থাকে ।

অন্য সন্তান যেন দুই চোখের বিষ।

চোখের মনির, একশটা ভুল অনায়াসে মাফ,

অন্যজনের একটি মাত্র ভুলকে দশগুণ বড় করে তোলা হয় ।

বেড়ে যায় শারীরিক অত্যাচার ও মানসিক অত্যাচারের মাত্রা !

টক্সিক মায়েরা অবলীলায় তার অপছন্দের সন্তানের দূর্নাম করে বেড়ান আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের কাছে।

এমনকি তাদের সামনে সন্তনকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেও ছাড়েন না।

এমন ভাব দেখান, এ যেন তার সন্তান-ই নয়।

আবার অনেক সময় প্রত্যক্ষভাবে বা মুখে না বললেও

আচার-আচরণে বা হাব -ভাবে সেটা কিন্তু প্রকাশ করে দেন সেই টক্সিক মা।

চোখের মনি
চোখের মনি
অন্যরকম মা

পুরুষ

এই সীমালঙ্ঘনের জন্য দায়ী পরিবারের পুরুষ, অর্থাৎ সন্তানের পিতা।

প্রায় সময় দেখা যায়,

স্বামী তার টক্সিক স্ত্রীকে সমর্থন করে যাচ্ছে।

কেবল, নিজে বাঁচার জন্য।

অর্থাৎ স্ত্রী বা মা হলেও ওই মহিলার আচরণের ভেতরে একটা আক্রমণাত্মক আচরণ সব সময় কাজ করে

যেটাকে ভয় পায় তার স্বামীও !

অপছন্দের সন্তানও সেই আগুন থেকে রেহাই পায় না ।

সন্তান তার মায়ের টক্সিক আচরণের শিকার হয়ে

ভয়ে, পাংশু মুখে ,অধীর আগ্রহে বাবার ঘরে ফিরার অপেক্ষা করে ।

যখন দেখে,

বাবাও তাল মিলিয়ে অপ্রীতিকর আচরণ করছে,

তখন সে-ই সন্তানের আশার প্রদীপ এমনিও নিভে যায়।

অন্যরকম মা

নিঃসঙ্গ জীব

সে তখন ভাবতে শুরু করে,

পৃথিবীর বুকে সে এক নিঃসঙ্গ জীব।

যার কেউ নেই, কিছুই নেই।

একটি শিশুর শৈশব নষ্ট হওয়ার জন্য টক্সিক মা এবং দুর্বল প্রকৃতির বাবা যথেষ্ট-ই দায়ী।

অনেক ক্ষেত্রে ওই সন্তানের শুধু শৈশব নয়,

পুরো জীবনটাও বরবাদ হয়ে যায়।

এটা আসলে ব্যাখ্যা করা যায় না।

কেবল পরিস্থিতির শিকার হওয়া সন্তানরা-ই বোঝে

তাদের জীবন কতটা নিরানন্দ হয়ে গেছে।

আমাদের সন্তানকে ভালোভাবে বাঁচার সুযোগ আমাদেরই করে দিতে হবে।

অন্যরকম মা

প্রতিবাদ

সেজন্য ওই ধরনের মায়ের আচরণের প্রতিবাদ করতে হবে।

যদিও এই ধরনের প্রতিবাদ করা এক ধরনের অসম্ভব ।

কারণ দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর বিভিন্ন রকম অত্যাচার সহ্য করতে করতে

সেই বাড়ির পুরুষ তার প্রতিবাদী সত্ত্বাটা বিসর্জন দিয়ে থাকে।

সে আর মুখ তুলে প্রতিবাদের ভাষা যোগান দিতে পারে না ।

সে ভাবতে থাকে, প্রতিবাদ করলে –

এই মহিলা চিৎকার চেঁচামেচি করে অশান্তি সৃষ্টি করবে ।

লোকজনকে জানাবে এবং একটা অপ্রতি অপ্রীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করবে ।

এই অবস্থা থেকে বাঁচার জন্যে

অনেক পুরুষ মানুষ-ই এই ধরনের মহিলার অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতে থাকে

দিনের পর দিন ।

ফলে প্রতিবাদ আর কোন দিনই দিনের আলো দেখে না ।

বরং এক্ষেত্রে উল্টে সেই পুরুষ ওই মহিলাকে খুশি করার জন্য তার পক্ষ নিয়ে লড়াই করতে থাকে।

স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে তাল মিলিয়ে সন্তানকে আক্রমণ করতে থাকে।

ভাবটা এমন, নিজে বাঁচলে বাপের নাম।

ফলে টক্সিক স্ত্রীর আচরণের প্রতিবাদের ভাষা নিরবে নিভৃতে কাঁদতে থাকে ।

সন্তানের অবস্থা বুঝেও সেই পরিস্থিতির কোন সমাধান সূত্র বের করা সম্ভব হয় না ।

বাবা-মা বাবা-মায়ের অপ্রীতিকর ব্যবহারের মধ্যেই বড় হয় সেই সন্তান।

প্রতিবাদ
প্রতিবাদ
অন্যরকম মা

প্রতিফল

তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে থাকে সেই বাবা মায়ের প্রতি ঘৃণা এবং অ সন্তোষ ।

পাশাপাশি যে চোখের মনির জন্য তার প্রতি টক্সিক মায়ের সেই আচরণ

সেই ভাই বা বোনের প্রতিও থাকে তার তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ।

সময় ও পরিস্থিতি তার অনুকূলে হলে তার বহিঃপ্রকাশও দেখা যায় আমাদের সমাজে।

কি এক কঠিন ব্যাধি

এক কঠিন এক চোখো মানসিকতা।

এর থেকে বেরিয়ে আসা খুবই কঠিন।

যে সন্তান শৈশব থেকে এই নেতিবাচক প্রভাবে বড় হয়

সে-ই দূর্বল ছোট্ট শিশু যে, প্রতিদিন ,প্রতিটা মুহূর্ত মানসিক অত্যাচারে জর্জরিত হয়েছে

একদিন সে-ও সমগ্র শক্তি নিয়ে বড় হবে।

সেদিন সেই অত্যাচারিত শিশু আপনাদের সব হিসেব চুকিয়ে দেবে।

সেই দিনটার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে

সেদিন কিন্তু দুঃখ বা আফসোস করলে হবে না

কারণ আমরা যে আচরণটা একদিন ওই শিশুটার সঙ্গে করেছিলাম

তারই ফল কিন্তু আমাদের কাছে আরো বড় আকারে ফেরত আসছে।

অন্যরকম মা

পরামর্শ

সেজন্য ,এই ধরনের টক্সিক মাদার বা টক্সিক বাবা যারা আছেন

তারা এখনই নিজেদেরকে সংশোধন করে নিন ।

সম্ভব হলে নিজেদের আচার-আচরণ এবং সন্তানদের প্রতি তাদের কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করুন।

প্রয়োজনে কোন কাউন্সিলের সাথে যোগাযোগ করুন

কি করা উচিত কি করা উচিত নয় সেটা জেনে নিন ।

এতে আপনার ,আপনার সন্তানের এবং সর্বোপরি আপনার পরিবারের মঙ্গল হবে।

পরিবারের মঙ্গল হবে
পরিবারের মঙ্গল হবে

এই ধরনের Article আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন । Articleটি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-ও Human Psychology বিষয়ক নানা Information এর জন্য আমার Face Book Page,

আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং

আমার দুইটি YouTube channel 1. Learn Digital Earn Money ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন
ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন

Leave a Comment