Business শুরুর পরে লাভের মুখ দেখতে না পাওয়া I Business Growth থমকে যাওয়া। এসব সমস্যা থেকে বাঁচার পথ খুঁজে পাবার একটা প্রচেষ্টা এই Article .

এক ঝলকে দেখে নিন যে সমস্ত কারণে Running Business হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় I
- 1.Business শুরু করেই অপ্রত্যাশিত ফলের আশা করা I
- 2. অল্প সময়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলা ও অর্থনৈতিক চাপে বিপর্যস্ত হওয়া I
- 3. Negative মানুষজনের প্রভাব এবং Positive মানুষজন থেকে দূরে থাকা I
- 4. ছোট ছোট Target বা Dream সেট না করে বিজনেসে এগোনোর চেষ্টা I
- 5 আমরা কেন Business করছি , সে বিষয়ে স্বচ্ছ কোন ধারণা না থাকা I
- 6. বই না পড়া I
- 7. শেখার মানসিকতা না থাকা অর্থাৎ সবজান্তা Attitude .
- 8. সফল মানুষদের মতো জীবন ধারণ পদ্ধতি মেনে না চলা I
- 9. . লোক দেখানো ঠাট- বাট দেখানো এবং বেহিসেবি খরচ-খরচা করা I
- 10.ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা না নেওয়া I
- 11 .Business শুরুর আগে Market সম্পর্কে Research and Development ঠিকমতো না করা I
- 12. নিজের উপর এবং নিজের বিজনেসের উপর বিশ্বাস না থাকা I
- 13. Business Model Strong না হওয়া I
- 14 .Strong Road map না থাকা ,আর থাকলেও সেগুলোর ঠিকঠাক Application না করতে পারা I
- 15.ঠিকমতো Result Analysis করতে না পারা I
- 16. কিছুটা সফলতা পাবার পর নিজেকে সংযত রাখতে না পারা I
চলুন বিষয়টি বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া যাক ……
আমরা Business শুরু করি কেন ?
কেনই বা আমাদের Business বন্ধ করতে হয় ?
Business শুরু করলেই কি সফল হবো ?
যদি সফলতা না পাই ?
এইরকম হাজারটা প্রশ্ন মাথায় নিয়ে আমরা একটা Business শুরু করি I কিছুদিন পর থেকে আমাদের টেনশন বাড়তে থাকে I
কেন টেনশন বাড়তে থাকে ?
কারণ- আমরা আমাদের Business-এ যতটা সাফল্য আশা করেছিলাম সে রকম ভাবে Business-টা চলছে না !
এই সময়ে আমরা দিশেহারা বা হতাশ হয়ে পড়ি !
এখন আমাদের কি করা উচিত ? এখন আমরা কি করব ?
Business শুরু করার সময় ভেবেছিলাম এক, আজ বাস্তবে হচ্ছে ঠিক তার উল্টো I
, দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছে,
লাভের মুখ সেভাবে দেখা যাচ্ছে না I
টাকা খরচ হচ্ছে বেশি– ঘরে ঢুকছে কম I
কাস্টমারের সংখ্যা দিন দিন কমছে I
বাড়ছে বাকি !
কাছের মানুষজন নানারকম বিরূপ মন্তব্য করছে ! খোঁচা দিয়ে কথা বলছে I
অযথা জ্ঞান দিচ্ছে–
এই রকম হাজার চিন্তাভাবনা চাপে আমাদের দিশেহারা অবস্থা !

এর থেকে বেরিয়ে আসার পথ আমাদেরই খুঁজে বার করতে হবে।
এতক্ষণ যে সমস্যাগুলোর কথা বললাম, দেখুন তো আপনাদের কারো সঙ্গে মিলছে কিনা ? যারা অল্প কিছুদিন হলো Business শুরু করেছেন , তাদের মধ্যেও যদি এই ধরনের সমস্যা গুলি এসে পড়ে , তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য I খুব মন দিয়ে আর্টিকেলটির প্রতিটি বিষয় পড়ুন, বোঝার চেষ্টা করুন, সমাধান সূত্র খুঁজুন। এবং সেগুলো সুন্দরভাবে Plan মাফিক Application করুন I
একটা কথা মনে রাখবেন, সমস্যা যখন আপনার, তখন সেই সমস্যা থেকে বেরোনোর রাস্তা আপনাকে খুঁজতে হবে I
চলুন দেখা যাক—- কিভাবে সেটা সম্ভব :
এর জন্য একদম প্রথমে আমাদের কিন্তু Business সংক্রান্ত কিছু তথ্য জেনে নেবার প্রয়োজন আছে I যেগুলো ব্যবসা সংক্রান্ত ভাবনা-চিন্তার ক্ষেত্রে আমাদেরকে অনেকটাই সাহায্য করবে I
একটি Business সংক্রান্ত গবেষণাতে দেখা গেছে, প্রতি বছর যত ব্যবসা শুরু হয়—–
প্রথম বছরেই বন্ধ হয়ে যায় 20% Business I আর পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় আরো 30% Business I অর্থাৎ পাঁচ বছর পরে সাকুল্যে বেঁচে থাকে 50 % Business I
প্রথম এক থেকে পাঁচ বছর সমস্ত Business man তাদের বিজনেসকে Grow-Up করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন I পরিশ্রম করেছেন অমানুষিক I দিনরাত এক করে ফেলেছেন I পরিশ্রম বা একাগ্রতার ক্ষেত্রে কোনই খামতিই তাদের ছিল না I
তাহলে এমন হল কেন ?
পাঁচ বছরে 50% Business-ই Fail ?
এর কারণ হলো,
কিছু অপ্রত্যাশিত আশা নিয়ে বেশ কিছু মানুষ Business শুরু করেছিলেন I তারা ভেবেছিলেন তাদের Business-এর Growth হবে দুর্দান্ত I তারা ভেবেছিলেন ,খুবই অল্প সময়ের মধ্যে তারা ধনী ও একজন বড় বিজনেসম্যান হয়ে উঠবেন I কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি I
এই অতিরিক্ত না পাবার হতাশা থেকেই তারা ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে I তারা যে একদমই সফলতা পাইনি, তা কিন্তু নয়, যেটুকু সফলতা তারা পেয়েছিল , সেটুকু কে তারা গুরুত্বই দেয়নি ! যেহেতু বড় সফলতা তারা পাননি সেজন্য, তারা বাধ্য হয়েছিলেন তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে I, তারা উদ্দিষ্ট ফলের জন্য ধৈর্য ধরতে পারেননি I
তাদের অসফলতার প্রধান কারণ হলো, Business শুরু করে অপ্রত্যাশিত ফল আশা করা এবং অল্প দিনেই ধৈর্য হারা হয়ে যাওয়া।
অসফলতার কারণ নম্বর 01: অতিরিক্ত ফলাফল আশা করা ও ধৈর্য হারিয়ে ফেলা I
আমাদের মনে রাখতে হবে Business-এর একটা নির্দিষ্ট গতি আছে I যখন Business-টা সেভাবে না এগুলোও বা প্রফিটটা সেভাবে চোখে দেখা না গেলেও, Internal Growth-টা কিন্তু চলতেই থাকে I এই বিষয়টা অনেক নতুন ব্যবসায়ী একদম প্রথমে ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারে না I তারা ভাবে বিজনেসটা বুঝি চলছে না I তখন তারা হতাশ হয়ে Business চালানো বন্ধ করে দেয় I
তাদের ভাবনার সাথে Business-এ আসা Growth-এর ফলাফল ঠিকমতো ম্যাচ করেনি Iসেজন্য তাদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধেI তারা মনে করেন, তারা বোধহয় সঠিকভাবে Business-টি করতে পারছেন না !
নতুন শুরু করা Business man-দের Business শুরু করার একদম প্রথমে যেটা তাদের মাথার মধ্যে ঢুকে যায় ,সেটা হল– আমরা একটা নতুন Business শুরু করলাম, এবার গোঁছা গোঁছা বা বান্ডিল বান্ডিল টাকা রিটার্ন আসবে I পকেট ভরে যাবে লাভের টাকায় I ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স উপচে পড়বে I, লাইফস্টাইল অল্পদিনেই চেঞ্জ হয়ে যাবে।
কিন্তু Profit তো সেভাবে হচ্ছেই না — বরং দিন দিন খরচ যাচ্ছে বেড়ে , ধার দেনা ও বেড়েই চলেছে বাজারে ।
শুধু তাই নয় লাভের টাকাটা সেভাবে তো চোখে দেখা যাচ্ছে না, বরং জমানো টাকা থেকে বা লোন নিয়ে ব্যবসাতে আরো টাকা ঢালতে হচ্ছে।
এটাও একটা প্রচন্ড মানসিক চাপ তৈরি করে I সেই চাপ থেকে বেরোনো খুবই কঠিন। I অনেকেই এই পর্যন্ত এসে বিজনেসটা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
আরো একটি মারাত্মক কারণ আমরা লক্ষ্য করেছি বিজনেস বন্ধ হয়ে যাবার জন্য I

সেটি হল– নেতিবাচক সমালোচনা I
আমরা যখন কোন Business শুরু করি, তখন অনেক মানুষই আমাদেরকে এই ব্যবসা করতে নিষেধ করে থাকে I এখন যখন ব্যবসাটা ঠিকমত চলছে না, তখন তারা উৎসাহ না দিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়ে না I চারপাশের এই মানুষগুলো বলতে থাকে- –
- এই Business তোমার জন্য নয়,
- তখনই বারণ করেছিলাম ,
- আমি জানতাম তুমি পারবে না,
- তোমার বংশে কেউ কোনদিন Business করেনি
- Business অত সোজা নয়,
- Business সবার দ্বারা হয় না,
- Business মানেই টাকা নষ্ট,
- Business মানেই সময় নষ্ট. ইত্যাদি ইত্যাদি I
এই ধরনের কথাগুলো আমাদেরকে মানসিক চাপে ফেলে দেয় I এই মানুষগুলোর ক্রমাগত সরাসরি আক্রমণে একসময় আমরা হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হই I বিশ্বাস করতে শুরু করি তাদের কথাকে I ফলে শুরুতেহ সলিল সমাধি ঘটে যায় একটি নতুন বিজনেসের I
অর্থাৎ
01: অপ্রত্যাশিত লাভের আশা
02. ধৈর্যের অভাব এবং অর্থনৈতিক চাপ
03. পারিপার্শ্বিক নেগেটিভ মানুষজনের চাপ
উপরোক্ত তিনটি বিষয় আমাদেরকে একেবারে নাস্তানাবুদ করে ফেলে I
এই অপ্রীতিকর অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য আমাদেরকে যেটা করতে হবে সেটা হল : আমাদের Business Mind-Set Strong করতে হবে I বাড়াতে হবে পড়াশোনা ও Data Research I
ভালোভাবে আমরা যদি যে কোন Business Success Rate Study করি, তাহলে সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে I Dataযেটা বলছে— amazon, তাদের বিজনেস শুরুর ছয় বছর পর প্রথম লাভের মুখ দেখে I এরকম প্রচুর উদাহরণ আমরা ইন্টারনেট ঘাটলে পেয়ে যাব।
অনেক বড় বড় Business Company গুলোও দীর্ঘদিন পরে লাভের মুখ দেখেছেন I অর্থাৎ ধীরে লাভের মুখ দেখা একটা Business-এর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ঘটনা I
অর্থাৎ লাভের মুখ দেখতে হলে ধৈর্য ধরে, সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে, Business Journey-তে টিকে থাকতে হবে এবং নিজের চারিদিকে একটা strong Positive Wall তৈরি করতে হবে I Negative Force থেকে নিজেকে ও নিজের ব্যবসাকে বাঁচানোর জন্য I একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, ,আমাদের চারপাশে যে সমস্ত মানুষ রয়েছে তারা সকলেই আমাদের বন্ধু নয় I সকলেই আমাদের শুভনাদায়ী নয় I বেশিরভাগ মানুষই আছেন ,যারা কখনোই চায়না— আমরা জীবনে সফলতা লাভ করি Iঅন্যকে টেনে নামানোই এদের জীবনের পরম লক্ষ্য I এরা মুখে মিষ্টভাষী হলেও হাতের পিছনে লুকিয়ে রাখে ধারালো ছুরি I সেজন্য এদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে I বিজনেস সাকসেস সম্পর্কে আরো জানার জন্য এখানে ক্লিক করতে পারেন I
এবার আসি Business-এ সফলতা পাবার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ সম্পর্কে ।
Business-এ সফলতা পাবার জন্য আমাদের বেশ কিছু ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে হবে I এই ছোট ছোট পদক্ষেপই আমাদের বিজনেসের বড় বড় সাফল্যকে আমাদের হাতের মুঠ এনে দেবে I এবং আমরা যে স্বপ্ন বুকে নিয়ে একটা ব্যবসা শুরু করেছিলাম সেটাকে বাঁচানো তো যাবেই, পাশাপাশি আমরা লাভের মুখে দেখতে পারবো

প্রথম পদক্ষেপ : ছোট ছোট Goal ,Target বা Dream Set.
Business শুরু করার একদম প্রথম পর্যায়ে আমাদের খুব ছোট ছোট কিছু Target বা Dream Set করতে হবে I যেগুলো খুব সহজে ও খুব অল্প সময়ে পূরণ হতে পারে I কারণ শুরুতে আমাদের বিজনেসের Growth হবে অল্প, ফলে Profit ও হবে অল্প I অল্প পয়সাতে পূরণ হবে আমাদের ছোট ছোট স্বপ্ন I ফলে আমাদের এগিয়ে চলার উৎসাহ একটু হলেও বৃদ্ধি পাবে I
কিন্তু বহু ভুল মানুষের পরামর্শে আমরা একেবারে শুরুতেই বেশ কয়েকটি বড় বড় স্বপ্নের ইমারত গড়ে ফেলি I অল্প কিছুদিন পরে, আমরা বুঝতে পারি এই বড় বড় স্বপ্ন গুলোকে সেভাবে পূরণ করার কোন অবস্থায় সেভাবে তৈরি হয়নি I—এই সময় অল্প অল্প করে হতাশা আমাদেরকে গ্রাস করতে থাকে I এমনকি আমাদের উদ্দেশ্য স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় আমরা আমাদের স্বপ্নের ব্যবসাটাকে বন্ধ করে দিয়ে অন্য কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি I অপমৃত্যু ঘটে একটি বিজনেসের I একটি স্বপ্নের I
সেজন্য আমাদের মনে রাখতে হবে একমাত্র ছোট ছোট Business Target-ই পারে আমাদেরকে বড় স্বপ্নের কাছে পৌঁছে দিতে I
কেমন সেই ছোট ছোট Dream বা Target : যেমন
– এই মাসে আমি নতুন পাঁচজন Customer তৈরি করব I
– আরো তিনটি নতুন লাভজনক Product নিয়ে কাজ করবI
– সঠিক ও নির্দিষ্ট সময়ে কাস্টমারের কাছে Product বা Service পৌঁছে দেবI
– Product Sale গত মাসের চাইতে অন্তত ৫০০ টাকা বেশি করব I
– এমন Product বা Service নিয়ে কাজ করব ,যাতে গত মাসের চাইতে একজন হলেও কম Complain করবে
– তেমন আচরণ করব না, যাতে আমার গ্রাহক মনে কষ্ট পায়, বরং আমাকে দেখে যেন গ্রাহক বা কাস্টমার খুশি হয় I
–গ্রাহক বা কাস্টমারকে কখনোই আমরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেব না I
এই কাজগুলো একটু একটু করে শুরু করতে পারলে আমাদের Business-এর গতি একটু হলেও বাড়বে। I বিজনেসের গতি বাড়লে আমাদের মধ্যে Positive Flow বাড়বে I অর্থাৎ একটা ব্যবসা বড় হতে হলে Business Man-এর মধ্যে Positive Flow থাকা খুবই জরুরী Iএই ছোট ছোট টার্গেট গুলো পূরণ করতে পারলে বিজনেস এর গ্রোথ আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে ফলে আমাদের ছোট্ট ছোট্ট স্বপ্ন পূরণ হওয়া শুরু হবে I আর যে বিজনেস আমাদের স্বপ্ন পূরণে একটু হলেও সাহায্য করতে থাকবে— সেই বিজনেস কখনোই বন্ধ হবে না I

দ্বিতীয় পদক্ষেপ : আমরা কেন Business-টা করছি ?
আমরা কেন Business-টা করছি, সেটাই অনেক সময় আমাদের কাছে পরিষ্কার থাকে না I আমরা জানি না আমাদের Business করার মূল উদ্দেশ্যটা কি ! আমাদের কাছে যদি আমাদের ব্যবসা করার মূল উদ্দেশ্য পরিষ্কার থাকে এবং সেই উদ্দেশ্য গুলিকে যদি আমরা প্রতিদিন Focus করি, তাহলে আমাদের Business-এ হতাশা আসবেই না I
আমরা বিজনেসের শুরুতে যে সমস্ত ছোট ছোট Dream বা Target Set করেছিলাম যেমন —
— এই ছোট্ট Business টা কিভাবে একদিন বড় হবে I
—- এই Business থেকে Income করে কিভাবে ফ্যামিলির মুখে হাসি ফোটাবেন I
—- কোন্ কোন্ শখ পূরণ করবেন I
—- নিজের এবং নিজের পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য কি কি করবেনI
—- দুস্থ মানুষ জনের সেবার জন্য কি করবেন I
এই রকম ছোট ছোট Dream গুলোকে Focus করে মনের ভেতর লালন করতে থাকলে হতাশা বা নেগেটিভ মানুষের দীর্ঘ নিঃশ্বাস আমাদেরকে কখনোই ছুঁতে পারবে না I
কিন্তু এত কিছুর পরেও বিভিন্ন ধরনের Negative Force আমাদের মানসিক শক্তিকে টলিয়ে দিতে পারে I সেজন্য আমাদের মানসিক শক্তি বা Mental Powerকে শক্তিশালী রাখার জন্য তৈরি করতে হবে Back-Up Support System .
এই Back-Up Support System-এর মূল স্তম্ভই হল
- — Positive মানুষজনের সান্নিধ্য I
- — Business-এ Successful মানুষজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব I
- —- বিভিন্ন ধরনের Business Growth Mentality Books.
- —Positive Mentality Books .
এই Instrument গুলো আমাদেরকে ভীষণ সাপোর্ট দেবে, যখন আমরা হতাশ হয়ে পড়বো I এরা আমাদের ভেঙে পড়তে দেবে না I সাহস যোগাবে I এতে আমরা আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবো Iআবার নতুন উদ্যমে ব্যবসার কাজ শুরু করতে পারব I ব্যবসা কে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আমাদেরকে সেজন্য Charged-Up থাকতে হবে সব সময় I
নিজেকে সব সময় Update রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের বিজনেস সেমিনার বা বিভিন্ন ধরনের Entrepreneur Group-এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে I যেখান থেকে আমরা সব সময় Positive Power বা Positive Energy পেতে থাকবো I
আমরা যে ধরনের Business করি, সেই বিজনেসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সফল মানুষগুলোকে সাধারণত আমরা এড়িয়ে চলি I তাদেরকে আমরা বিজনেসের Competitor ধরে নিই I এই চিন্তা ভাবনাও আমাদের বদলাতে হবে I বরং একই ধরনের বিজনেসে সফল মানুষদের সঙ্গে নিজেদেরকে আরো বেশি করে জড়িয়ে ফেলতে হবে বা সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে I যাতে নিজেদের সুবিধা-অসুবিধা এবং সেগুলোর সমাধানের বিষয়ে আলোচনা সাপেক্ষে একটা নির্দিষ্ট সমাধান সূত্র বা পথ বেরিয়ে আসে I এমনও হতে পারে, বর্তমানে আমি যে সমস্যায় পড়েছি ,আমার বন্ধু ব্যবসায়ী হয়তো আগেই এই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছিল এবং সেটা সে সমাধান করেছিল I অর্থাৎ সমাধানের পথ তার আগে থেকেই জানা – আমাদের সাথে তার সম্পর্ক ভালো হলে আমরা খুব সহজেই সেই সব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো I ফলে একটা ভালো রেজাল্ট পাওয়া যাবে I আমাদের Business Growth সামান্য হলেও বাড়বে I

তৃতীয় পদক্ষেপ : শেখার মানসিকতা ( Teachability )
শুধু Business এই নয়, জীবনে সফলতার মূল যে পিলার সেটা হল শেখার মানসিকতা I এটা খুবই কঠিন একটা বিষয় I যদিও আমরা বলে থাকি শেখার কোন সময় বা বয়স হয় না I আসলে আমাদের Ego, সবজান্তা ভাব– আমাদের শেখার কাজে প্রধান বাধা বা অন্তরায় I
আমরা কখনোই মেনে নিতে পারি না আমরা অনেক কিছুই জানি না ! আমাকে কারোর কাছে শিখতেই হবে ! এই মানসিকতাকে ত্যাগ করে যদি আমরা Teachable হয়ে যায়— তাতে আমাদের লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই I একটা সহজ কথা ভাবুন তো – এই জীবন বা Business সম্পর্কে আপনি এখন যতটা জানেন’ Business-এর একদম শুরুতে কি আপনি ততটা জানতেন ?
উত্তর হবে— না I
অর্থাৎ সময়ের সাথে সাথে, আমরা এত সব কিছু শিখেছি বা জেনেছি I অর্থাৎ 100% Growth চাইলে 100% শিখতেই হবে I অর্থাৎ যতদিন অতিবাহিত হবে, আমরা ততই সমৃদ্ধ হবো I এই শেখার মানসিকতা থেকে আমরা যেন কখনোই সরে না আসি I যেদিন আমাদের মধ্যে থেকে এই শেখার মানসিকতা শেষ হয়ে যাবে, সেদিন থেকে আমাদের পতন শুরু হয়ে যাবে I একটা পেঁপে যতক্ষণ পর্যন্ত সবুজ থাকবে, ততক্ষণই সেটা পাকার আশা নিয়ে বাঁচবে I কিন্তু যখনই পেঁকে যাবে তখনই তার পতন বা শেষ হয়ে যাবার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। মানুষের শেখার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই।
একটা কথা আমি সব সময় বলে থাকি, যদি আপনি অন্যের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেন, তাহলে আপনি বেঁচে গেলেন I কিন্তু আপনি যদি সবকিছু ঠেকে শিখতে চান– তাহলে আপনার জীবন-ই একসময় শেষ হয়ে যাবে I
আমরা যদি অন্যের অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগায় বা অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নিই, তাহলে আমাদের Time ও Energy দুটোই বাঁচবে। সেজন্য আমাদের অবশ্যই বই পড়তে হবে I ভালো না লাগলেও জোর করেই পড়তে হবেI অভ্যাস না থাকলে প্রতিদিন এক পাতা করে পড়া অভ্যাস করুন I ২৪ ঘন্টায় দিনরাত, সেই হিসেবে আপনি যদি প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ২৪ মিনিট করে পড়া শুরু করেন তাহলে একদিন বই পড়াটা আপনার নেশায় দাঁড়িয়ে যাবে I প্রথম প্রথম একটু অসুবিধা হলেও আস্তে আস্তে সেটা অভ্যাসে পরিণত হবে I
পৃথিবীর যত Successful মানুষ আছেন তারা সবাই বই পড়েন নিয়মিত I আমরাও যদি এই অভ্যাসটা গড়ে তুলতে পারি তাহলে আমাদের নানা দিক থেকে লাভ ছাড়া ক্ষতি হবেনা I
বর্তমানে বই না পড়লেও অনলাইনের সাহায্যেও আমরা বই পড়ার কাজটা সেরে নিতে পারি I এখানে বইগুলো পুরোটাও পড়তে পারি, চাইলে Business সংক্রান্ত বইগুলোর সারাংশ দেখে নিতে পারি I মোটকথা আমাদেরকে পড়াশোনার মধ্যে থাকতেই হবে I
এই বইপত্রের জগত থেকে আমরা আমাদের জীবন ও ব্যবসা সংক্রান্ত নানা সমস্যা ও তার সমাধান সূত্র পেয়ে যেতে পারি অনায়াসে I এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের motivational ভিডিও থেকেও বিজনেসকে এগিয়ে নিয়ে যাবার নানান ধরনের টিপস্ সহজেই জানতে পারবো I

চতুর্থ পদক্ষেপ : সফল মানুষদের মতো প্রতিদিনের জীবন
এতসব কিছুর পরেও যেটা করতে হবে সেটা হল ,একজন সফল মানুষ সারাদিন যা যা করে, ঠিক সেকমভাবে আমাদেরকেও চলতে হবে I তার কারণ — যেমন খুশি চললে বা খামখেয়ালী ভাবে চললে তাঁরা জীবনে কখনোই সফল হতে পারতেন না I কারণ একজন সফল মানুষের সফলতা লুকিয়ে থাকে তার জীবন চর্যা ও রোজনামচার মধ্যে I
সেজন্য আমাদের Business-এ সফলতার জন্য সঠিক রোজনামচা খুবই গুরুত্বপূর্ণ I
সাধারণত: আমরা যেগুলো করে থাকি
- — আমরা খামখেয়ালীভাবে দিন কাটাই,
- — অকারণে বা অকাজে রাত জাগি,— ফলে পরদিন কাজে মন লাগে না।
- —বেহিসাবী খরচ-খরচা করা,বা লোক দেখানো ঠাট-বাট
- —-অকারণে বেশি কথা বলি
- — যখন ইচ্ছা বাজে কাজে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গ সময় নষ্ট করি ।
- — যখন ইচ্ছা ঘুমিয়ে পড়ি I
- —যখন ইচ্ছা বেড়াতে চলে যায় I
এই রকম বেহিসেবি জীবন যাপন করি বলেই আমরা জীবনে সফল হতে পারি না I একজন সফল মানুষ বা একজন সফল বিজনেসম্যান কখনোই এরকমভাবে জীবন যাপন করেন না I
তাহলে কি Business-এ Successপেতে হলে আমাদেরকে জীবনের সবকিছু ত্যাগ করতে হবে ?
না– তা কখনোই নয় I
একজন সফল Business Man জীবনে সবকিছুই করেন , তবে সেটা নিয়ম মেনে–
অর্থাৎ আমরা যখন একজন Successful Business Man হতে চাইছি ,তখন আমরা আমাদের জীবনের প্রতিটি সময়কে নিখুঁত ও সুচারুভাবে কাজে লাগাবো বা লাগাতেই হবে ।
বহুদিন আগে একটা কথা শুনেছিলাম, —কথাটি হল,” নিয়ম মেনে অনিয়ম” অর্থাৎ সফল মানুষেরা যদি কখনো অনিয়ম করেনও সেটা করেন নিয়ম মেনে I

পঞ্চম পদক্ষেপ : ব্যর্থতাকে সাফল্যের সিঁড়ি বানিয়ে ফেলা
ব্যর্থতা মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ I যারা বিভিন্ন ধরনের কাজ করে জীবনে ভীষণভাবে সফল, তাদের জীবনের প্রতিটি রন্ধে রন্ধে এই ব্যর্থতা জড়িয়ে থাকে I ব্যর্থতাকে বাদ দিয়ে সফলতাকে পাবার সেরকম কোন রাস্তা এখনো পর্যন্ত তৈরি হয়নি I সেই জন্য আমাদেরও ব্যর্থতাকে সিঁড়ি করতে হবে সাফল্য পাবার জন্য I আমাদের জীবনের ব্যর্থতা গুলো কিন্তু শুধু অসফলতার বার্তা-ই বহন করে না, সেগুলো আমাদেরকে সফলতার কাছে পৌঁছে দিতে ও সাহায্য করে I সেজন্য ব্যর্থতাকে বলা হয় সফলতার সিঁড়ি বা সম্পদ I কারণ আমাদের করা ভুলগুলো ,আমাদেরকে আরো বড় ভুল করা থেকে বিরত বা বাঁধা সৃষ্টি করে I আমাদেরকে সাবধান করে দেয়।
কিন্তু ,আমরা যদি অতীতের করা ভুলগুলো থেকে শিক্ষা না নিয়ে– বারে বারে একই ভুল করতে থাকি, তাহলে স্বয়ং ভগবানও আমাদের ধ্বংস আটকাতে পারবে না I সেজন্য কোন কাজ করবার আগে বা নতুন কোন পদক্ষেপ নেবার আগে আমাে হাজারবার ভাবতে হবে I

ষষ্ঠ পদক্ষেপ: শুরুর আগে হাজার বার ভাবুন
কোন কাজ বা Business ইচ্ছে হলো আর শুরু করে দিলাম— এমনটা যেন না হয় ! শুরু করে দেবার মধ্যে সেরকম কোনো কৃতিত্ব নেই I শুরু যে কেউই করে দিতে পারে I কিন্তু সফলভাবে সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে একজন শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ I
আগেই বলেছি ,যত Business শুরু হয়, পাঁচ বছরের মধ্যে 50% Business-ই বন্ধ হয়ে যায় ,চারদিক না ভেবে কাজটি শুরু করার জন্য I
একটা বিজনেস শুরু করার জন্য আমাদের যে বিষয়গুলি খুব ভালোভাবে দেখে নিতে হবে, সেগুলো হলো
- —-সর্ব প্রথমে আমাদের ভালো করে উদ্দেিষ্ট ব্যবসা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে Research And Development করতে হবে I
- —-কোথায় ব্যবসাটি শুরু করতে চাইছি I
- —- কাস্টমার বা গ্রাহক কারা I
- —- তাদের Income ও ক্রয় ক্ষমতা I
- —- কি ধরনের জিনিস তারা পছন্দ করে I
- —- কোন্ কোয়ালিটির জিনিস বেশি চলে I
- —- Branded বা Non-Branded কোন্ ধরনের জিনিস তাদের বেশি পছন্দ I
- —-কোন ধরনের Product এখানে বেশি বিক্রি হয় I
- —-ক্রেতারা কোথা থেকে বেশি জিনিসপত্র কিনতে পছন্দ করে I
এইসব তথ্য একদম জলের মতো থাকতে হবে আমাদের কাছে I এই সব কিছু জেনে, এই ধরনের Business চালু করলে ছয় মাস বা এক বছর পরে এই Business কোথায় পৌঁছাতে পারে সেই বিষয়েও একটা পরিষ্কার road Map থাকতে হবে I
এইভাবে Plan মাফিক ভেবে কোন কাজ বা ব্যবসা শুরু করলে ,তবেই সফলতা পাবার সম্ভাবনা তৈরি হবে I যে কোন সম্ভাবনাময় Business Model-ই সফলতার মুখ দেখে I মনে রাখতে হবে— সফলতা বা Successful Business-এর অর্থ হল , খুব সহজে হাতের মুঠোয় সফলতা পেয়ে যাওয়া নয়। সফল ব্যবসা হল ধারাবাহিকভাবে ছোট ছোট পদক্ষেপ এর মাধ্যমে ব্যবসা কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া I এর জন্য প্রয়োজন —
- —-01. নিজের উপর বিশ্বাস রাখা I
- —-02. ধৈর্য বজায় রাখা I
- —03 ছোট ছোট সফলতাকে টার্গেট করা ও সেটা অর্জন করা I
- —-04. Strong Business Model তৈরি করে এগিয়ে যাওয়া ।
- —05. Strong Road Map.
- —-06.Proper Application .
- —07. Result Analysis
- —-08.সফলতা পাওয়ার পর নিজেকে সংযত রাখা I

