Running Business Stop হয়ে যায় 100%,যে 16 টি কারণে I

Business শুরুর পরে লাভের মুখ দেখতে না পাওয়া I Business Growth থমকে যাওয়া। এসব সমস্যা থেকে বাঁচার পথ খুঁজে পাবার একটা প্রচেষ্টা এই Article . 

বিফলতা থেকে বেরোনোর রাস্তা

এক ঝলকে দেখে নিন যে সমস্ত কারণে Running Business হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় I

  • 1.Business শুরু করেই অপ্রত্যাশিত ফলের আশা করা I
  • 2. অল্প সময়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলা ও অর্থনৈতিক চাপে বিপর্যস্ত হওয়া I
  • 3. Negative মানুষজনের প্রভাব এবং Positive মানুষজন থেকে দূরে থাকা I
  • 4. ছোট ছোট Target বা Dream সেট না করে বিজনেসে এগোনোর চেষ্টা I
  • 5 আমরা কেন Business করছি , সে বিষয়ে স্বচ্ছ কোন ধারণা না থাকা I
  • 6. বই না পড়া I
  • 7. শেখার মানসিকতা না থাকা অর্থাৎ সবজান্তা Attitude .
  • 8. সফল মানুষদের মতো জীবন ধারণ পদ্ধতি মেনে না চলা I
  • 9. . লোক দেখানো ঠাট- বাট দেখানো এবং বেহিসেবি খরচ-খরচা করা I
  • 10.ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা না নেওয়া I
  • 11 .Business শুরুর আগে Market সম্পর্কে Research and Development ঠিকমতো না করা I
  • 12. নিজের উপর এবং নিজের বিজনেসের উপর বিশ্বাস না থাকা I
  • 13. Business Model Strong না হওয়া I
  • 14 .Strong Road map না থাকা ,আর থাকলেও সেগুলোর ঠিকঠাক Application না করতে পারা I
  • 15.ঠিকমতো Result Analysis করতে না পারা I
  • 16. কিছুটা সফলতা পাবার পর নিজেকে সংযত রাখতে না পারা I

চলুন বিষয়টি বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া যাক ……

আমরা Business শুরু করি কেন ?

 কেনই বা আমাদের Business বন্ধ করতে হয় ?

 Business শুরু করলেই কি সফল হবো ?

 যদি সফলতা না পাই ?

 এইরকম হাজারটা প্রশ্ন মাথায় নিয়ে আমরা একটা Business শুরু করি I কিছুদিন পর থেকে আমাদের টেনশন বাড়তে থাকে I

 কেন টেনশন বাড়তে থাকে ?

 কারণ- আমরা আমাদের Business-এ যতটা সাফল্য আশা করেছিলাম সে রকম ভাবে Business-টা চলছে না !

এই সময়ে আমরা দিশেহারা বা হতাশ হয়ে পড়ি !

এখন আমাদের কি করা উচিত ? এখন আমরা কি করব ?

 Business শুরু করার সময় ভেবেছিলাম এক, আজ বাস্তবে হচ্ছে ঠিক তার উল্টো I

, দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছে,

 লাভের মুখ সেভাবে দেখা যাচ্ছে না I

 টাকা খরচ হচ্ছে বেশি– ঘরে ঢুকছে কম I

 কাস্টমারের সংখ্যা দিন দিন কমছে I

 বাড়ছে বাকি !

 কাছের মানুষজন নানারকম বিরূপ মন্তব্য করছে ! খোঁচা দিয়ে কথা বলছে I

 অযথা জ্ঞান দিচ্ছে– 

 এই রকম হাজার চিন্তাভাবনা চাপে আমাদের দিশেহারা অবস্থা !

নানা চাপে দিশেহারা অবস্থা

এর থেকে বেরিয়ে আসার পথ আমাদেরই খুঁজে বার করতে হবে।

 এতক্ষণ যে সমস্যাগুলোর কথা বললাম, দেখুন তো আপনাদের কারো সঙ্গে মিলছে কিনা ? যারা অল্প কিছুদিন হলো Business শুরু করেছেন , তাদের মধ্যেও যদি এই ধরনের সমস্যা গুলি এসে পড়ে , তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য  I খুব মন দিয়ে আর্টিকেলটির প্রতিটি বিষয় পড়ুন, বোঝার চেষ্টা করুন, সমাধান সূত্র খুঁজুন। এবং সেগুলো সুন্দরভাবে Plan মাফিক Application করুন  I

একটা কথা মনে রাখবেন, সমস্যা যখন আপনার, তখন সেই সমস্যা থেকে বেরোনোর রাস্তা আপনাকে খুঁজতে হবে I

 চলুন দেখা যাক—- কিভাবে সেটা সম্ভব :

এর জন্য একদম প্রথমে আমাদের কিন্তু Business সংক্রান্ত কিছু তথ্য জেনে নেবার প্রয়োজন আছে  I যেগুলো ব্যবসা সংক্রান্ত ভাবনা-চিন্তার ক্ষেত্রে আমাদেরকে অনেকটাই সাহায্য করবে I

 একটি Business সংক্রান্ত গবেষণাতে দেখা গেছে, প্রতি বছর যত ব্যবসা শুরু হয়—–

 প্রথম বছরেই বন্ধ হয়ে যায় 20% Business I আর পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় আরো 30% Business I অর্থাৎ পাঁচ বছর পরে সাকুল্যে বেঁচে থাকে 50 % Business I 

প্রথম এক থেকে পাঁচ বছর সমস্ত Business man তাদের বিজনেসকে Grow-Up করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন I পরিশ্রম করেছেন অমানুষিক I দিনরাত এক করে ফেলেছেন I পরিশ্রম বা একাগ্রতার ক্ষেত্রে কোনই খামতিই তাদের ছিল না I

 তাহলে এমন হল কেন ?

 পাঁচ বছরে 50% Business-ই Fail ?

এর কারণ হলো,

  কিছু অপ্রত্যাশিত আশা নিয়ে বেশ কিছু মানুষ Business শুরু করেছিলেন I তারা ভেবেছিলেন তাদের Business-এর Growth হবে দুর্দান্ত I তারা ভেবেছিলেন ,খুবই অল্প সময়ের মধ্যে তারা ধনী ও একজন বড় বিজনেসম্যান হয়ে উঠবেন I কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি I

 এই অতিরিক্ত না পাবার হতাশা থেকেই তারা ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে I তারা যে একদমই সফলতা পাইনি, তা কিন্তু নয়, যেটুকু সফলতা তারা পেয়েছিল , সেটুকু কে তারা গুরুত্বই দেয়নি ! যেহেতু বড় সফলতা তারা পাননি সেজন্য, তারা বাধ্য হয়েছিলেন তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে I, তারা উদ্দিষ্ট ফলের জন্য ধৈর্য ধরতে পারেননি I 

আমাদের মনে রাখতে হবে Business-এর একটা নির্দিষ্ট গতি আছে I যখন Business-টা সেভাবে না এগুলোও  বা  প্রফিটটা সেভাবে চোখে দেখা না গেলেও, Internal Growth-টা কিন্তু চলতেই থাকে I এই বিষয়টা অনেক নতুন ব্যবসায়ী একদম প্রথমে ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারে না I তারা ভাবে বিজনেসটা বুঝি চলছে না I তখন তারা হতাশ হয়ে Business চালানো বন্ধ করে দেয় I

তাদের ভাবনার সাথে Business-এ আসা Growth-এর ফলাফল ঠিকমতো ম্যাচ করেনি Iসেজন্য তাদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধেI তারা মনে করেন, তারা বোধহয় সঠিকভাবে Business-টি করতে পারছেন না !

নতুন শুরু করা Business man-দের Business শুরু করার একদম প্রথমে যেটা তাদের মাথার মধ্যে ঢুকে যায় ,সেটা হল– আমরা একটা নতুন Business শুরু করলাম, এবার গোঁছা গোঁছা বা বান্ডিল বান্ডিল টাকা রিটার্ন আসবে I পকেট ভরে যাবে লাভের টাকায় I ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স উপচে পড়বে I, লাইফস্টাইল অল্পদিনেই চেঞ্জ হয়ে যাবে।

কিন্তু Profit তো সেভাবে হচ্ছেই না — বরং দিন দিন খরচ যাচ্ছে বেড়ে , ধার দেনা ও বেড়েই চলেছে বাজারে ।

 শুধু তাই নয় লাভের টাকাটা সেভাবে তো চোখে দেখা যাচ্ছে না, বরং জমানো টাকা থেকে বা লোন নিয়ে ব্যবসাতে আরো টাকা ঢালতে হচ্ছে।

এটাও একটা প্রচন্ড মানসিক চাপ তৈরি করে I সেই চাপ থেকে বেরোনো খুবই কঠিন। I অনেকেই এই পর্যন্ত এসে বিজনেসটা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

আরো একটি মারাত্মক কারণ আমরা লক্ষ্য করেছি বিজনেস বন্ধ হয়ে যাবার জন্য I

Negative Thoughts
Negative Thoughts

আমরা যখন কোন Business শুরু করি, তখন অনেক মানুষই আমাদেরকে এই ব্যবসা করতে নিষেধ করে থাকে I এখন যখন ব্যবসাটা ঠিকমত চলছে না, তখন তারা উৎসাহ না দিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়ে না I চারপাশের এই মানুষগুলো বলতে থাকে- –

  • এই Business তোমার জন্য নয়,
  •  তখনই বারণ করেছিলাম ,
  • আমি জানতাম তুমি পারবে না,
  •  তোমার বংশে কেউ কোনদিন Business করেনি
  •  Business অত সোজা নয়,
  •  Business সবার দ্বারা হয় না,
  •  Business মানেই টাকা নষ্ট,
  •  Business মানেই সময় নষ্ট.   ইত্যাদি ইত্যাদি I

অর্থাৎ

01: অপ্রত্যাশিত লাভের আশা

 02. ধৈর্যের অভাব এবং অর্থনৈতিক চাপ 

  03. পারিপার্শ্বিক নেগেটিভ মানুষজনের চাপ

উপরোক্ত তিনটি বিষয় আমাদেরকে একেবারে নাস্তানাবুদ করে ফেলে I

 এই অপ্রীতিকর  অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য আমাদেরকে যেটা করতে হবে সেটা হল : আমাদের Business Mind-Set Strong করতে হবে I বাড়াতে হবে পড়াশোনা ও Data Research I 

ভালোভাবে আমরা যদি যে কোন Business Success Rate Study করি, তাহলে সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে I Dataযেটা বলছে— amazon, তাদের বিজনেস শুরুর ছয় বছর পর প্রথম লাভের মুখ দেখে I এরকম প্রচুর উদাহরণ আমরা ইন্টারনেট ঘাটলে পেয়ে যাব। 

অনেক বড় বড় Business Company গুলোও দীর্ঘদিন পরে লাভের মুখ দেখেছেন I অর্থাৎ ধীরে লাভের মুখ দেখা একটা Business-এর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ঘটনা I 

অর্থাৎ লাভের মুখ দেখতে হলে ধৈর্য ধরে, সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে, Business Journey-তে টিকে থাকতে হবে এবং নিজের চারিদিকে একটা strong Positive Wall তৈরি করতে হবে I Negative Force থেকে নিজেকে ও নিজের ব্যবসাকে বাঁচানোর জন্য I একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, ,আমাদের চারপাশে যে সমস্ত মানুষ রয়েছে তারা সকলেই আমাদের বন্ধু নয় I সকলেই আমাদের শুভনাদায়ী নয় I বেশিরভাগ মানুষই আছেন ,যারা কখনোই চায়না— আমরা জীবনে সফলতা লাভ করি Iঅন্যকে টেনে নামানোই এদের জীবনের পরম লক্ষ্য I এরা মুখে মিষ্টভাষী হলেও  হাতের পিছনে লুকিয়ে রাখে ধারালো ছুরি I সেজন্য এদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে I বিজনেস সাকসেস সম্পর্কে আরো জানার জন্য এখানে ক্লিক করতে পারেন I

এবার আসি Business-এ সফলতা পাবার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ সম্পর্কে ।

Business-এ সফলতা পাবার জন্য আমাদের বেশ কিছু ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে হবে I এই ছোট ছোট পদক্ষেপই আমাদের বিজনেসের বড় বড় সাফল্যকে আমাদের হাতের মুঠ এনে দেবে I এবং আমরা যে স্বপ্ন বুকে নিয়ে একটা ব্যবসা শুরু করেছিলাম সেটাকে বাঁচানো তো যাবেই, পাশাপাশি আমরা লাভের মুখে দেখতে পারবো 

Goal Set
Goal Set

 প্রথম পদক্ষেপ :  ছোট ছোট Goal ,Target বা Dream Set.

Business শুরু করার একদম প্রথম পর্যায়ে আমাদের খুব ছোট ছোট কিছু Target বা Dream Set করতে হবে I যেগুলো খুব সহজে ও খুব অল্প সময়ে পূরণ হতে পারে I কারণ শুরুতে আমাদের বিজনেসের Growth হবে অল্প, ফলে Profit ও হবে অল্প I অল্প পয়সাতে পূরণ হবে আমাদের ছোট ছোট স্বপ্ন I ফলে আমাদের এগিয়ে চলার উৎসাহ একটু হলেও বৃদ্ধি পাবে I

 কিন্তু বহু ভুল মানুষের পরামর্শে আমরা একেবারে শুরুতেই বেশ কয়েকটি বড় বড় স্বপ্নের ইমারত গড়ে ফেলি I অল্প কিছুদিন পরে, আমরা বুঝতে পারি এই বড় বড় স্বপ্ন গুলোকে সেভাবে পূরণ করার কোন অবস্থায় সেভাবে তৈরি হয়নি I—এই সময় অল্প অল্প করে হতাশা আমাদেরকে গ্রাস করতে থাকে I এমনকি  আমাদের উদ্দেশ্য স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় আমরা আমাদের স্বপ্নের ব্যবসাটাকে বন্ধ করে দিয়ে অন্য কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি I অপমৃত্যু ঘটে একটি বিজনেসের I একটি স্বপ্নের I

সেজন্য আমাদের মনে রাখতে হবে একমাত্র ছোট ছোট Business Target-ই পারে আমাদেরকে বড় স্বপ্নের কাছে পৌঁছে দিতে  I

কেমন সেই ছোট ছোট Dream বা Target :  যেমন

Why Business
Why Business

দ্বিতীয় পদক্ষেপ : আমরা কেন Business-টা করছি ?

 আমরা কেন Business-টা করছি, সেটাই অনেক সময় আমাদের কাছে পরিষ্কার থাকে না I আমরা জানি না আমাদের  Business করার মূল উদ্দেশ্যটা কি ! আমাদের কাছে যদি আমাদের ব্যবসা করার মূল উদ্দেশ্য পরিষ্কার থাকে এবং সেই উদ্দেশ্য গুলিকে যদি আমরা প্রতিদিন Focus করি, তাহলে আমাদের Business-এ হতাশা আসবেই না I

আমরা বিজনেসের শুরুতে যে সমস্ত ছোট ছোট Dream বা Target Set করেছিলাম  যেমন —

  — এই ছোট্ট  Business টা কিভাবে একদিন বড় হবে I

—- এই Business থেকে Income করে কিভাবে ফ্যামিলির মুখে হাসি ফোটাবেন I

—- কোন্ কোন্ শখ পূরণ করবেন I

—- নিজের এবং নিজের পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য কি কি করবেনI

—- দুস্থ মানুষ জনের সেবার জন্য কি করবেন I

 এই রকম ছোট ছোট Dream গুলোকে Focus করে মনের ভেতর লালন করতে থাকলে হতাশা বা নেগেটিভ মানুষের দীর্ঘ নিঃশ্বাস আমাদেরকে কখনোই ছুঁতে পারবে না  I

কিন্তু এত কিছুর পরেও বিভিন্ন ধরনের Negative Force আমাদের মানসিক শক্তিকে টলিয়ে দিতে পারে I সেজন্য আমাদের মানসিক শক্তি বা Mental Powerকে শক্তিশালী রাখার জন্য তৈরি করতে হবে Back-Up Support System .

এই Back-Up Support System-এর মূল স্তম্ভই হল

এই Instrument গুলো আমাদেরকে ভীষণ সাপোর্ট দেবে, যখন আমরা হতাশ হয়ে পড়বো I এরা আমাদের ভেঙে পড়তে দেবে না I সাহস যোগাবে I এতে আমরা আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবো Iআবার নতুন উদ্যমে ব্যবসার কাজ শুরু করতে পারব I ব্যবসা কে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আমাদেরকে সেজন্য Charged-Up থাকতে হবে সব সময় I

  নিজেকে সব সময় Update রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের বিজনেস সেমিনার বা বিভিন্ন ধরনের Entrepreneur Group-এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে I যেখান থেকে আমরা সব সময় Positive Power বা Positive Energy পেতে থাকবো I 

আমরা যে ধরনের Business করি, সেই বিজনেসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সফল মানুষগুলোকে সাধারণত আমরা এড়িয়ে চলি I তাদেরকে আমরা বিজনেসের Competitor ধরে নিই I এই চিন্তা ভাবনাও আমাদের বদলাতে হবে I বরং একই ধরনের বিজনেসে সফল মানুষদের সঙ্গে নিজেদেরকে আরো বেশি করে জড়িয়ে ফেলতে হবে বা সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে I যাতে নিজেদের সুবিধা-অসুবিধা এবং সেগুলোর সমাধানের বিষয়ে আলোচনা সাপেক্ষে একটা নির্দিষ্ট সমাধান সূত্র বা পথ বেরিয়ে আসে I এমনও হতে পারে, বর্তমানে আমি যে সমস্যায় পড়েছি ,আমার বন্ধু ব্যবসায়ী হয়তো আগেই এই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছিল এবং সেটা সে সমাধান করেছিল I অর্থাৎ সমাধানের পথ তার আগে থেকেই জানা – আমাদের সাথে তার সম্পর্ক ভালো হলে আমরা খুব সহজেই সেই সব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো I ফলে একটা ভালো রেজাল্ট পাওয়া যাবে I আমাদের Business Growth সামান্য হলেও বাড়বে I 

Teachability
Teachability

তৃতীয় পদক্ষেপ :  শেখার মানসিকতা ( Teachability )

শুধু Business এই নয়, জীবনে সফলতার মূল যে পিলার সেটা হল শেখার মানসিকতা I এটা খুবই কঠিন একটা বিষয় I যদিও আমরা বলে থাকি শেখার কোন সময় বা বয়স হয় না I আসলে আমাদের Ego, সবজান্তা ভাব– আমাদের শেখার কাজে প্রধান বাধা বা অন্তরায় I

 আমরা কখনোই মেনে নিতে পারি না আমরা অনেক কিছুই জানি না ! আমাকে কারোর কাছে শিখতেই হবে ! এই মানসিকতাকে ত্যাগ করে যদি আমরা Teachable হয়ে যায়— তাতে আমাদের লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই I একটা সহজ কথা ভাবুন তো – এই জীবন বা  Business সম্পর্কে আপনি এখন যতটা জানেন’ Business-এর একদম শুরুতে কি আপনি ততটা জানতেন  ?

উত্তর হবে— না I

একটা কথা আমি সব সময় বলে থাকি, যদি আপনি অন্যের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেন, তাহলে আপনি বেঁচে গেলেন I কিন্তু আপনি যদি সবকিছু ঠেকে শিখতে চান– তাহলে আপনার জীবন-ই একসময় শেষ হয়ে যাবে I

 আমরা যদি অন্যের অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগায় বা অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নিই, তাহলে আমাদের Time ও Energy দুটোই বাঁচবে। সেজন্য আমাদের অবশ্যই বই পড়তে হবে I ভালো না লাগলেও জোর করেই পড়তে হবেI অভ্যাস না থাকলে প্রতিদিন এক পাতা করে পড়া অভ্যাস করুন I ২৪ ঘন্টায় দিনরাত, সেই হিসেবে আপনি যদি প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ২৪ মিনিট করে পড়া শুরু করেন তাহলে  একদিন বই পড়াটা আপনার নেশায় দাঁড়িয়ে যাবে I  প্রথম প্রথম একটু অসুবিধা হলেও আস্তে আস্তে সেটা অভ্যাসে পরিণত হবে I

 বর্তমানে বই না পড়লেও অনলাইনের সাহায্যেও আমরা বই পড়ার কাজটা সেরে নিতে পারি I এখানে বইগুলো পুরোটাও পড়তে পারি, চাইলে Business সংক্রান্ত বইগুলোর সারাংশ দেখে নিতে পারি I মোটকথা আমাদেরকে পড়াশোনার মধ্যে থাকতেই হবে I

 এই বইপত্রের জগত থেকে আমরা আমাদের জীবন ও ব্যবসা সংক্রান্ত নানা সমস্যা ও তার সমাধান সূত্র পেয়ে যেতে পারি অনায়াসে I এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের motivational ভিডিও থেকেও বিজনেসকে এগিয়ে নিয়ে যাবার নানান ধরনের টিপস্ সহজেই জানতে পারবো I

Habits of Successful People
Habits of Successful People

চতুর্থ পদক্ষেপ : সফল মানুষদের মতো প্রতিদিনের জীবন

এতসব কিছুর পরেও যেটা করতে হবে সেটা হল ,একজন সফল মানুষ সারাদিন যা যা করে, ঠিক সেকমভাবে আমাদেরকেও চলতে হবে I তার কারণ — যেমন খুশি চললে বা খামখেয়ালী ভাবে চললে তাঁরা জীবনে কখনোই সফল হতে পারতেন না  I কারণ একজন সফল মানুষের সফলতা লুকিয়ে থাকে তার জীবন চর্যা ও রোজনামচার মধ্যে I

 সেজন্য আমাদের Business-এ সফলতার জন্য সঠিক রোজনামচা খুবই গুরুত্বপূর্ণ  I

সাধারণত: আমরা যেগুলো করে থাকি

  • — আমরা খামখেয়ালীভাবে দিন কাটাই,
  • — অকারণে বা অকাজে রাত জাগি,— ফলে পরদিন কাজে মন লাগে না।
  • —বেহিসাবী খরচ-খরচা করা,বা লোক দেখানো ঠাট-বাট
  • —-অকারণে বেশি কথা বলি
  • — যখন ইচ্ছা বাজে কাজে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গ সময় নষ্ট করি ।
  • — যখন ইচ্ছা ঘুমিয়ে পড়ি I
  • —যখন ইচ্ছা বেড়াতে চলে যায় I

এই রকম বেহিসেবি জীবন যাপন করি বলেই আমরা জীবনে সফল হতে পারি না I একজন সফল মানুষ বা একজন সফল বিজনেসম্যান কখনোই এরকমভাবে জীবন যাপন করেন না I

তাহলে কি Business-এ Successপেতে হলে আমাদেরকে জীবনের সবকিছু ত্যাগ করতে হবে ? 

না– তা কখনোই নয় I

 একজন সফল Business Man জীবনে সবকিছুই করেন , তবে সেটা নিয়ম মেনে–

 অর্থাৎ আমরা যখন একজন Successful Business Man হতে চাইছি ,তখন আমরা আমাদের জীবনের প্রতিটি সময়কে নিখুঁত ও সুচারুভাবে কাজে লাগাবো বা লাগাতেই হবে ।

 বহুদিন আগে একটা কথা শুনেছিলাম, —কথাটি হল,” নিয়ম মেনে অনিয়ম” অর্থাৎ সফল মানুষেরা যদি কখনো অনিয়ম করেনও সেটা করেন নিয়ম মেনে I 

Success
Success

পঞ্চম পদক্ষেপ : ব্যর্থতাকে সাফল্যের সিঁড়ি বানিয়ে ফেলা

ব্যর্থতা মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ I যারা বিভিন্ন ধরনের কাজ করে জীবনে ভীষণভাবে সফল, তাদের জীবনের প্রতিটি রন্ধে রন্ধে এই ব্যর্থতা জড়িয়ে থাকে I ব্যর্থতাকে বাদ দিয়ে সফলতাকে পাবার সেরকম কোন রাস্তা এখনো পর্যন্ত তৈরি হয়নি I সেই জন্য আমাদেরও ব্যর্থতাকে সিঁড়ি করতে হবে সাফল্য পাবার জন্য I আমাদের জীবনের ব্যর্থতা গুলো কিন্তু শুধু অসফলতার বার্তা-ই বহন করে না, সেগুলো আমাদেরকে সফলতার কাছে পৌঁছে দিতে ও সাহায্য করে I সেজন্য ব্যর্থতাকে বলা হয় সফলতার সিঁড়ি বা সম্পদ I কারণ আমাদের করা ভুলগুলো ,আমাদেরকে আরো বড় ভুল করা থেকে বিরত বা বাঁধা সৃষ্টি করে I আমাদেরকে সাবধান করে দেয়।

 কিন্তু ,আমরা যদি অতীতের করা ভুলগুলো থেকে শিক্ষা না নিয়ে– বারে বারে একই ভুল করতে থাকি, তাহলে স্বয়ং ভগবানও আমাদের ধ্বংস আটকাতে পারবে না I সেজন্য কোন কাজ করবার আগে বা নতুন কোন পদক্ষেপ নেবার আগে আমাে হাজারবার ভাবতে হবে I 

Think Thousand Times
Think Thousand Times

ষষ্ঠ পদক্ষেপ: শুরুর আগে হাজার বার ভাবুন 

কোন কাজ বা Business ইচ্ছে হলো আর শুরু করে দিলাম— এমনটা যেন না হয় ! শুরু করে দেবার মধ্যে সেরকম কোনো কৃতিত্ব নেই I শুরু যে কেউই করে দিতে পারে I কিন্তু সফলভাবে সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে একজন শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ  I

আগেই বলেছি ,যত Business শুরু হয়, পাঁচ বছরের মধ্যে 50% Business-ই বন্ধ হয়ে যায় ,চারদিক না ভেবে কাজটি শুরু করার জন্য I

 একটা বিজনেস শুরু করার জন্য আমাদের যে বিষয়গুলি খুব ভালোভাবে দেখে নিতে হবে, সেগুলো হলো

  • —-সর্ব প্রথমে আমাদের ভালো করে উদ্দেিষ্ট ব্যবসা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে Research And Development করতে হবে I 
  • —-কোথায় ব্যবসাটি শুরু করতে চাইছি I
  • —- কাস্টমার বা গ্রাহক কারা I
  • —- তাদের Income ও ক্রয় ক্ষমতা I
  • —- কি ধরনের জিনিস তারা পছন্দ করে I
  • —- কোন্ কোয়ালিটির জিনিস বেশি চলে I
  • —- Branded বা Non-Branded কোন্ ধরনের জিনিস তাদের বেশি পছন্দ  I
  • —-কোন ধরনের Product এখানে বেশি বিক্রি হয় I
  • —-ক্রেতারা কোথা থেকে বেশি জিনিসপত্র কিনতে পছন্দ করে I

এইসব তথ্য একদম জলের মতো থাকতে হবে আমাদের কাছে I এই সব কিছু জেনে, এই ধরনের Business চালু করলে  ছয় মাস বা এক বছর পরে এই Business কোথায় পৌঁছাতে পারে সেই বিষয়েও একটা পরিষ্কার road Map থাকতে হবে I

এইভাবে Plan মাফিক ভেবে কোন কাজ বা ব্যবসা শুরু করলে ,তবেই সফলতা পাবার সম্ভাবনা তৈরি হবে I যে কোন সম্ভাবনাময় Business Model-ই সফলতার মুখ দেখে I মনে রাখতে হবে— সফলতা বা Successful Business-এর অর্থ হল , খুব সহজে হাতের মুঠোয় সফলতা পেয়ে যাওয়া নয়। সফল ব্যবসা হল ধারাবাহিকভাবে ছোট ছোট পদক্ষেপ এর মাধ্যমে ব্যবসা কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া I এর জন্য প্রয়োজন —

  • —-01. নিজের উপর বিশ্বাস রাখা I
  • —-02. ধৈর্য বজায় রাখা I
  • —03 ছোট ছোট সফলতাকে টার্গেট করা ও সেটা অর্জন করা I
  • —-04. Strong Business Model তৈরি করে এগিয়ে যাওয়া ।
  • —05. Strong Road Map.
  • —-06.Proper Application .
  • —07. Result Analysis 
  • —-08.সফলতা পাওয়ার পর নিজেকে সংযত রাখা   I
You are the King
You are the King

Leave a Comment