সন্তানের ভুল

Table of Contents

সন্তানের ভুল হতেই পারে ! কারণ ,সে ছোট ।সে যে ভুলগুলো করে ,সেগুলো সে যে বুঝে করে তা কিন্তু নয় ! তার মনের অজান্তেই বা বোধের অজান্তেই সে কিছু কাজ করে ফেলে । যেগুলো ভুল । কিন্তু আমরা যদি তাকে সেগুলো বুঝিয়ে দিই ,সেই কাজগুলো ভুল এবং সেই কাজের ফলে আমাদের নানা রকম ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনায় থেকে যায়। সেই বোঝানোর ব্যাপারটা যদি ভালোবেসে হয় তাহলে সন্তানের বোধ বুদ্ধির গ্রোথ, আচার-আচরণ, সবই খুবই ভালোভাবে হয় ।আর উল্টোটা হলে বিগড়ে যায় সন্তান ।নষ্ট হয়ে যায় তার ভবিষ্যৎ । সন্তানের বিগড়ে যাওয়া নষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা ভালো হওয়ার মূলে থাকে বাবা-মায়ের আচার-আচরণ এবং তার পরিবেশের প্রভাব।

সন্তানের বিগড়ে যাওয়া নষ্ট হয়ে যাওয়া
সন্তানের বিগড়ে যাওয়া নষ্ট হয়ে যাওয়া
সন্তানের ভুল

সন্তান ভুল করলে আমাদের কি করা উচিত ?

শিশুর Brain-এর বিকাশ বোঝাটা ভীষণ জরুরি !

৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর prefrontal cortex ,

যেটা সিদ্ধান্ত নেওয়া, নিয়ন্ত্রণ ও বিচারবোধের জন্য কাজ করে থাকে।

সেই prefrontal cortex পুরোপুরি পরিপক্ব হয় না।

তাই শিশুরা অনেক সময়-ই আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না I

তারা “ইচ্ছা করে” ভুলটা করে না।

আমরা বড়রা না বুঝেই, অনেক সময় ওদের শাসন করি যেটা আমাদের ভীষণ ভুল।

সন্তানের ভুল

রাগলে চলবে না ! শিশুদের সঙ্গে Attachment বাড়াতে হবে ।

সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা আনতে হবে ।

যখন শিশু ভুল করে,

তখন ভয়ে নয় সুসম্পর্কের মাধ্যমেই সে শেখে।

প্রথমে শান্ত গলায় বলা অভ্যাস করতে হবে ।

“ আমি জানি তুমি রেগে গিয়েছিলে

খেলতে নিষেধ করা হয়েছিল বলে ।”

তাহলে শিশু বুঝবে ,যে আমরা তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করছি।

তাহলে সে শান্ত হবে আর সে বুঝবে তার ওইরকম আচরন করা ঠিক হয় নি ।

কাজটা যে ভুল ছিল সেটা ব্যাখ্যা করে বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে,

সন্তানের ভুল
সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা আনতে হবে
সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা আনতে হবে

শাস্তি না দিয়ে শিখিয়ে দিতে হবে।

ভুল কাজ করলে কি কি ক্ষতি হবার সম্ভাবনা আছে,

সেটা বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে ।

কেমন ভাবে ?…..

“তুমি যখন বুনুর খেলনা ছিনিয়ে নিলে, ও ভীষণ কষ্ট পেয়েছে। কারো জিনিস নিতে হলে তাকে জিজ্ঞেস করতে হয়,একসাথে খেললে বুনু ভীষণ খুশী হয়,দেখনি ?

এমন আর কখন ও কোরো না বাবা ”!

সন্তানের ভুল

পরিণাম বা ফলাফলটা ঠিকমতো বোঝাতে পারলে , সেটা সে মেনে চলতে চেষ্টা করবে ।

বলতে হবে এইভাবে…

“তুমি জল ফেলেছো, হয়তো তুমি বুঝতে পারোনি বাবা,

এখন চল একসাথে মুছে ফেলি।”

না হলে কেউ হয়তো পিছলে পড়ে যাবে বা পড়ে গিয়ে আঘাত পাবে।

সেটা তোমার মা- বাবা- ভাই -বোন এমনকি তোমার ও ওই একই বিপদ ঘটতে পারে।

এতে সচেতনতা বাড়ে এবং দায়িত্ববোধ ও তৈরি হয়।

শিশুর আত্মমর্যাদা বোধেও আঘাত লাগে না।

শিশুর আত্মমর্যাদা বোধেও আঘাত লাগে না।
সন্তানের ভুল

“Time-out” নয়, “” পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে ।

সময় দিয়ে শিশুকে শান্ত করতে “Time-in” দিতে হবে ।“তুমি হয়তো ক্লান্ত !তোমার হয়তো খুব খিদে পেয়েছে !তোমার হয়তো খুব রাগ হয়েছে বুনু র উপর !এসো, আমার কাছে এসে বসো। ”

এভাবে সে শেখে কিভাবে আবেগ সামলাতে হয়।

“তুমি খারাপ” “তুমি দুষ্টু!”

তুমি খারাপ” “তুমি দুষ্টু!

এই ধরনের কমেন্টস কখনোই করা উচিত নয় —

তার বদলে সে যে কাজটা করেছে সেটাকে অন্যভাবে বোঝানোর চেষ্টা করুন

“তুমি এই কাজটা এইভাবে না করে , আমরা যদি অন্যভাবে করতাম

তাহলে কিন্তু এমনটা ঘটত না।”

এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস নষ্ট তো হবেই না, বরং সে আমাদের দেখানোর পর অনুসরণ করার চেষ্টা করবে।

একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে ।

সন্তানের ভুল

ঘটনা : বাচ্চা বই ছিঁড়ে ফেলেছে

যেটা অনেক বাচ্চারাই করে থাকে । তখন আমাদের যেটা করতে হবে …”তুমি বই ছিঁড়েছ,সে জন্য তোমাকে শাস্তি দিচ্ছি না, বা বকাবকি করছি না ! কিন্তু বই ছিঁড়লে, তুমি পড়ার সময় বই কোথায় পাবে ?কোথায় পাবে এই সুন্দর সুন্দর ছবি গুলো ? আহা বইটাও কি ভীষণ কষ্ট পেল বাবা।বইটাকে আদর করো , আর Sorry বলো।তুমি কি এখন একটু আঁকতে চাও ?”,,

এই ধরণের কথাগুলো দারুন কাজ করে ওদের সান্তনা ও শিক্ষা দেবার জন্য ।

কেন এটা কাজ করে (Neuroscience Explanation):

কি হলো দেখে নেওয়া যাক…

Co-regulation:

একটা শিশু কেন , একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও একা নিজেকে শান্ত করতে পারে না।

প্রয়োজন হয় অন্য কারোর সমবেদনা বা সাহায্যের ।

একটি শিশুর ক্ষেত্রে বাবা কিংবা মায়ের শান্ত ব্যবহার শিশুর nervous system-কে প্রশমিত করে।

Mirror Neurons:

আমরা যদি শিশুর আচরণের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরি

তাহলে শিশুর ব্রেনও শেখে কীভাবে ধৈর্য ধরতে হয়।

Neuroplasticity:

বারবার ভালো কিছু দেখলে বা ভালো ভালো কিছু শেখালে

শিশুর Brain-ও “ভালো অভ্যাসে” অভ্যস্ত হয়ে যায়।

আমাদের কখনোই উচিত নয় শিশুদের কাছে বড়দের মতো নির্ভুল আচরন ।

মানুষ ভুল থেকেই শেখে। ওরাও ভুল থেকেই শিখবে।

আমরা যদি

তার ছোট ছোট ইচ্ছে গুলোকে ,

ছোট ছোট প্রচেষ্টাগুলোকে,

ছোট ছোট পদক্ষেপ গুলোকে শেষ না করে

ধৈর্য্য ধরে ,এই ভুলগুলো থেকে শেখাতে চেষ্টা করি সেটা অনেক বেশি কার্যকরী।

মানুষকে রাগিয়ে দিয়ে বা বকা দিয়ে তাকে কিছু শেখানো বা আদায় করা সম্ভব নয় ।

ধৈর্য্য ধরা শিখতে হবে

শিশুর Brain-এ একবার রাগ প্রবেশ করে গেলে তখন কিন্তু সে আর কিছুই শিখতে পারবে না ,তখন কিন্তু সে আর কিছুই বুঝতে পারবে না ।সেজন্য আমার পরামর্শ ধৈর্য্য ধরা শিখতে হবে Iধৈর্য ধরা অভ্যাস করতে হবে,এতে আমাদের সন্তান এর মঙ্গল-ই হবে। যেটা প্রত্যেকটি বাবা-মায়ের-ই একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান ।

সন্তানের ভুল
রাগিয়ে দিয়ে বা বকা  দিয়ে  কিছু শেখানো বা আদায় করা সম্ভব নয় ।
রাগিয়ে দিয়ে বা বকা দিয়ে কিছু শেখানো বা আদায় করা সম্ভব নয় ।
সন্তানের ভুল

এই ধরনের Article আরো পড়ার জন্য এখানে Click করুন । Articleটি ভালো লাগলে. Like ,Comments ও Share করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়াও Business Information ও Business Motivation-ও Human Psychology বিষয়ক নানা Information এর জন্য আমার Face Book Page,

আমার website : sanjaybiswas.com Visit করতে পারেন এবং

আমার দুইটি YouTube channel 1. Learn Digital Earn Money ও Sanjay Biswas Kolkata-কে অবশ্যয় subscribe করে রাখুন ,সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ video সবার আগে পাবার জন্য ।

ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন
ফলো করুন : সাবস্ক্রাইব করুন : দেখতে থাকুন

Leave a Comment